পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট


 

বিদেশে যাওয়া বা বিদেশে চাকুরির ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। পুলিশ ক্লিয়রেন্স সার্টিফিকেট এর অর্থ হচ্ছে, যাকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেয়া হচ্ছে তিনি কোন অপরাধী নন এবং তার বিরুদ্ধে থানায় কোন অভিযোগও নেই।
ঢাকার বাসিন্দাদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হলে রমনায় অবস্থিত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরদপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। সকল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ইংরেজী ভাষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে সত্যায়িত করে দেয়া হয়।
যোগাযোগ:
‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ওয়ান ষ্টপ সার্ভিস’, রুম-১০৯,
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়াটার্স,
৩৬, শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণী, রমনা, ঢাকা।
হেল্পলাইনঃ- ০১১৯১০০৬৬৪৪, ০২-৭১২৪০০০, ৯৯৯-২৬৩৫
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নেবার পদ্ধতি:
একটি সাদা কাগজে বাংলা বা ইংরেজীতে পুলিশ কমিশনার মহোদয় বরাবর আবেদন করতে হয়, সাথে ১ম শ্রেণীর সরকারী গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত পাসপোর্টের ফটোকপি দিতে হয়। পাসপোর্টের যে সকল পৃষ্ঠায় প্রার্থী সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে যে সকল পৃষ্ঠা এবং যদি নবায়ন করা হয়ে থাকে তবে নাবায়নের পৃষ্ঠাসহ পাসপোর্টের ফটোকপি দাখিল করতে হয়। কর্তৃপক্ষ চাইলে মূল পাসপোর্টও প্রদর্শন করতে হয়। মেয়াদ উত্তীর্ণ পাসপোর্ট গৃহীত হয় না।
ঠিকানা সংক্রান্ত নিয়মাবলী:
১. পাসপোর্টে উল্লেখিত স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী ঠিকানার যে কোন একটি অবশ্যই ঢাকা মহানগর এলাকার অভ্যন্তরে হতে হবে এবং অবশ্যই ঐ ঠিকানায় বসবাস করতে হবে। যদি পাসপোর্টে উল্লেখিত স্থায়ী/বর্তমান ঠিকানা অথবা “থানা এলাকার” পরিবর্তন হয় তবে নিকটস্থ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঠিকানা সংশোধন করে পাসপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি দাখিল করতে হবে। প্রার্থীর দাখিলকৃত জাতীয় পরিচয় পত্র/জন্ম নিবন্ধন সনদ/স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এর সনদপত্রে উল্লেখিত ঠিকানার সাথে প্রার্থীর বর্তমান বসবাসের ঠিকানার মিল থাকা জরুরি।
২. যারা বিদেশে অবস্থান করছেন তাদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য যে দেশে অবস্থান করছেন সে দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশন অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত পাসপোর্টের ফটোকপিসহ তার পক্ষে আত্মীয়/অনুমোদিত ব্যক্তি আবেদন পত্র দাখিল করতে পারেন।
৩. পাসপোর্টে উল্লেখিত ঠিকানা যদি ঢাকা মহানগরীর বাইরে হয় তবে ঠিকানাটি যে জেলার অন্তর্গত সেই জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার বরাবর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র দাখিল করতে হয়।
সাথে যা যা প্রয়োজন:
১. বাংলাদেশ ব্যাংক/সোনালী ব্যাংকের যে কোন শাখায় কোড নম্বর- (১-২২০১-০০০১-২৬৮১) এর অনুকূলে ৫০০ (পাঁচশত) টাকা মূল্যমানের ট্রেজারী চালানের মূলকপি। ব্যাংক চালানের কোড নম্বর এর ঘরে কোন প্রকার ঘষামাজা / ফ্লুইড ব্যবহার করা যাবে না এবং সঠিকভাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিল দেয়া হল কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
২. মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এম.আর.পি) ক্ষেত্রে যদি পাসপোর্টে ঠিকানা উল্লেখ না থাকে তবে ঠিকানার প্রমাণ স্বরুপ জাতীয় পরিচয় পত্র/ জন্ম নিবন্ধন সনদ/ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রদত্ত সনদপত্রের ফটোকপি ১ম শ্রেণীর সরকারী গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত করে দাখিল করতে হয়।
৩. শুধুমাত্র “স্পেন” সংক্রান্ত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার জন্য প্রার্থীকে তার আবেদনসহ উপরে উল্লেখিত কাগজপত্রের সাথে ০৩ (তিন) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সত্যায়িত করে “সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়” বরাবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন শাখা ০৩ এ দাখিল করতে হয়।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নেয়া
আবেদনপত্র জমা দেয়ার পর অফিস থেকে প্রাথমিকভাবে সিরিয়াল নম্বরসহ একটি টোকেন দেয়া হয়। টোকেনে একটি তারিখ উল্লেখ করা হয়। উল্লেখিত তারিখে সংশ্লিষ্ট থানায় টোকেনটি জমা দিতে হয়। এরপর থানার তরফ থেকে একটি তদন্তর্কায সম্পন্ন করা হয়। এই তদন্তের সাত (৭) কর্মদিবসের মধ্যে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেয়া হয়।
বাংলাদেশে বসবাসরত/কর্মরত বিদেশী নাগরিক/বিদেশী পাসপোর্টধারী ব্যক্তিগণ উপরোক্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিজে অথবা অনুমোদিত ব্যক্তি দ্বারা আবেদনপত্র দাখিল করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন।

Advertisements

রাতে চলাচলের জন্য ডিএমপির সতর্কতামূলক ৯ পরামর্শ


police-searchরাজধানীবাসীকে রাতে চলাচলের জন্য ৯টি সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

রোববার প্রতি থানায় পরামর্শমূলক এ বার্তা পাঠানো হয়েছে। ডিএমপির সিনিয়র সহকারী (মিডিয়া) পুলিশ কমিশনার এ এস এম হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

সতর্কতামূলক পরামর্শে বলা হয়েছে, রাতে আলোকিত পথে চলাচলের চেষ্টা করুন। অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে থেকে আলোকিত পথ অধিকতর নিরাপদ। বাসষ্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, লঞ্চঘাটে গভীর রাতে এসে পৌঁছালে বাসায় ফেরার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকুন।

গভীর রাতে ট্যাক্সি সিএনজি অটোরিকশার পরিবর্তে বাস অধিকতর নিরাপদ। খুব বেশি তাড়া না থাকলে সকাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন।

রাতে অপরিচিত কোনো জাগয়া খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্ক থাকুন। স্থানীয় বাসিন্দারা আপনার আচরণে যেন আপনাকে সন্দেহ না করে।

রাতে চলাচলের সময় দামি মোবাইল, বেশি পরিমাণ টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার কিংবা অন্য মূল্যবানসামগ্রী প্রয়োজন না হলে বহন করা থেকে বিরত থাকুন।

নির্জন স্থানের পরিবর্তে ব্যস্ত সড়ক বা স্থান ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

রাতে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলে একা না গিয়ে কাউক সঙ্গে রাখার চেষ্টা করুন।

রাতে চলাচলের সময় বাইরে বিক্রিত খাবার যতটা সম্ভব পরিহার করুন।

চলার পথে কেউ সাহায্য চাইলে নিশ্চিত হতে চেষ্টা করুন সাহায্য প্রার্থী কোনো প্রতারক দলের সদস্য কিনা।

প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নিন। থানার মোবাইল নম্বর সর্বদা নিজের মোবাইল ফোনে এবং মানিব্যাগে সংরক্ষণ করুন যেন প্রয়োজনে দ্রুত পুলিশের সাহায্য পেতে পারেন।

 

 

collected

হাইকোর্টের আইনজীবী হওয়ার পদ্ধতি


high-court_4330সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসাবে আইন চর্চা করার জন্য-

>>>প্রাথমিক শর্তাবলী<<<<
1. বার কাউনসিল পরীক্ষার মাধ্যমে যে কোন বার এসোসিয়েশনে অ্যাডভোকেট (সাধারণ অ্যাডভোকেটের তালিকাভুক্তিকরণ) হিসাবে তালিকাভুক্তহতে হবে।
2. নিম্নোক্ত যে কোন একটি যোগ্যতা থাকতে হবে :-

  1. বাংলাদেশের কোন নিম্ন আদালতে কমপক্ষে ২ বছর প্র্যাকটিস করতে হবে; অথবা,
    B. আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী এবং অ্যাডভোকেট হিসাবে বিদেশের কোন আদালতে সরকারের অফিসিয়াল গেজেটে নির্দেশিত পন্থায় প্র্যাকটিস করেছেন; অথবা,
    C. যুক্তরাজ্যের বারে ব্যারিস্টার হিসাবে Call পেয়েছেন অথবা কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেLL.M এ 2nd class (50%mark) পেয়েছেন এবং সুপ্রীম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবীর চেম্বারে কমপক্ষে ২ বছর কাছ করেছেন; অথবা,
    D. বিচার বিভাগীয় অফিসার হিসাবে অন্ততঃ দশ বছর কাজ করেছেন। এরূপ অফিসারকে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রণেরআবশ্যকতা নেই।

>>>দ্বিতীয় পর্যায়ের শর্তাবলীঃ<<<<

  1. কোন অ্যাডভোকেট যিনি উপরিউক্ত শর্তাবলী পূরন করেছেন তাকে নির্দেশিত পন্থায় হাইকোর্ট বিভাগে আইন চর্চা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানাতে হবে। আবেদন পত্র বার কাউনসিলে জমা দিতে হবে এবং উক্ত আবেদনপত্রে নিম্নোক্ত সংযুক্তিথাকবেঃ
    A. সংশ্লিষ্ট বার এসোসিয়েশন হতে একটি সনদ এই মর্মে যে, উক্ত অ্যাডভোকেট তার বার এসোসিয়েশনের নিয়মিতসদস্য এবং আইন চর্চাকরেছেন ২ বছর , অথবা , যুক্তারাজ্যের বারেতাকে ব্যারিস্টার হিসাবে Call করেছে এই মর্মে একটি সনদ, অথবা কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে LL.M এ উচ্চতর দ্বিতীয় বিভাগ অর্জন করেছে; এবং
    B. কোর্টের একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের চেম্বারে কমপক্ষে দুই বছর কাজ করেছেন; এবং
    C. দেওয়ানী বা ফৌজদারী বা উভয় মামলা যা নিয়ে উক্ত অ্যাডভোকেট সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থিত হয়েছে এরূপ ২৫টি মামলার তালিকা; এবং
    D. হাইকোর্টের অনুমোদন ফি ৫,০০০ টাকা প্রদানের রশিদ কিংবা ব্যাংক ড্রাফট; এবং
    E. উক্ত অ্যাডভোকেটের ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
    2. প্রত্যেক আবেদনকারীকে Bangladesh Legal Paractitioners and Bar Council Rules, 1972 (65(2)) অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণপূর্বক পাশ করতে হবে।…………………..

 

 

 

 

collected

আয়কর রিটার্ন কি?


আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট একজন করদাতার বার্ষিক আয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করার মাধ্যম হচ্ছে আয়কর রিটার্ন। আয়কর রিটার্ন ফরম এর কাঠামো আয়কর বিধি দ্বারা নির্দিষ্ট করা আছে। আয়কর আইন অনুযায়ী রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

মিথ্যা মামলা: আইন কি বলে ?


cropped-koordinerede-kontrolaktioner-p-kant-med-loven-29retssikkerhed.jpgআদালতের মৌলিক কাজ হল অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তি বিধান করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্টা করা। আইনের আশ্রয় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সুবিচার পাবে এটাই প্রত্যাশিত । কিন্তু মাঝে মাঝে দেখা যায় প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় করতে বা হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা রুজু করা হয় । পএিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে এ ধরনের খবর । সাক্ষী সাজিয়ে মামলা উপস্থাপন করায় প্রতিপক্ষ হয়রানির মুখোমুখো হন । এছাড়া মামলা চালাতে গিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হন । আমরা দেখার চেষ্টা করব আইন কী বলে এ সম্পর্কে ।

ফৌজদারীকার্যবিধির ২৫০ ধারা উপধারা (১) অনুসারে কোন মামলা যদি নালিশের  মাধ্যমে অথবা পুলিশের বা ম্যাজিষ্ট্রেট কাছে তথ্য প্রদান করার মাধ্যমে করা হয় এবং পরবর্তীতে যদি ম্যাজিষ্ট্রেট অভিযুক্ত বা একাধিক অভিযুক্তের কাউকে খালাস দেন এবং ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে প্রতীয়মান হয় যে , অভিযোগগুলো মিথ্যা ও হয়রানিমূলক তাহলে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এই মর্মে উক্ত অভিযোগকারীকে  কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারেন । অভিযোগকারী আদালতে অনুপস্থিত থাকলে আদালত হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর জন্য সমন জারী করতে পারেন ।

উপধারা (২) অনুসারে ,অভিযোগকারী কারণ দর্শানোর পর ম্যাজিষ্ট্রেট যদি মনে করেন আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও হয়রানিমূলক তাহলে সর্বোচ্চ ১০০০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারেন । এক্ষেএে তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট হলে জরিমানার পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা । জরিমানার অর্থটি মামলায় বিবাদীকে পরিশোধ করতে হবে । জরিমানা অনাদায়ে ম্যাজিষ্ট্রেট সর্বোচ্চ ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করতে পারেন ।

এছাড়া Law of Torts অনুসারে বিদ্বেষপরায়ণ মামলার ক্ষেএে প্রতিকার পেতে চাইলে বাদীকে প্রমাণ করতে হবে যে,

(ক) বিবাদী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল

(খ) পূর্বের মামলার প্রকৃতি দেখে মনে হয় , মামলাটি বাদীর অনুকূলে  শেষ হতে পারত

(গ) মামলাটি যুক্তিসংগত এবং সম্ভাব্য কারণ ছাড়া করা হয়েছিল ।

(ঘ) মামলাটি বিদ্বেষবশত করা হয়েছিল

(ঙ) মামলার ফলে বাদীর ক্ষতি হয়েছে ।

এখানে উল্লেখ্য যে, কোন মামলায় যদি কাউকে দণ্ডিত করা হয় , তবে দণ্ডিত ব্যক্তি ঐ দণ্ডাদেশকে বিদ্বেষবশত বলে বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে না ।

পেনাল কোডের ১৯৩ ধারা অনুসারে বিচারিক প্রক্রিয়ার কোন পর্যায়ে  ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে বা সাক্ষ্য বিকৃত করলে ঐ ব্যক্তি সাত বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন । বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য ক্ষেএে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে বা সাক্ষ্য বিকৃত করলে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন ।

পেনাল কোডের ১৯৪ ধারা অনুসারে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য  বা সাক্ষ্য বিকৃত করে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য কোন অপরাধে কাউকে দণ্ডিত করায় , সেক্ষেএে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন । এক্ষেএে মিথ্যা  সাক্ষ্য  বা সাক্ষ্য বিকৃত করার ফলে যদি নির্দোষ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় , তাহলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা ১৯৪ ধারায় বর্নিত অন্যান্য দণ্ডে দণ্ডিত হবেন ।

 

পেনালকোডের১৯৫ধারায়উল্লেখআছে ,যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য  বা সাক্ষ্য বিকৃত করে কাউকে এমন কোন অপরাধে দণ্ডিত করায় যার শাস্তি  যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সাত বছরের কারাদণ্ড , তাহলে উক্ত ব্যক্তিও সমদণ্ডে দণ্ডিত হবেন ।

এছাড়াও তথ্য প্রমাণ গোপন করা , অপরাধ সংগঠনের মিথ্যা সংবাদ প্রদান করাও  শাস্তিযোগ্য অপরাধ ।

এসব ক্ষেএে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলাও করতে পারেন।

ফারহান হক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

তিন তালাকের জট


picture-10266

ভারতে তিন তালাক বললে আর তালাক হবে না, আদালত নাকি এরকম কিছু একটা বলেছে। যে আমাকে জানালো খবরটি, তার কণ্ঠে উপচে পড়ছিল আনন্দ, যেন বড় কোনও বিজয় জুটেছে। শুনে আমি কোনও উচছ¡াস প্রকাশ করিনি। কারণ যে দেওয়াল এখন ভেঙে ফেলা প্রয়োজন, সেই দেওয়ালের গায়ে একটি ফুটো করতে পারা এমন কোনও বীরত্ব নয়। ভারতের মুসলমানরা এখনও শরিয়া আইনে চলে।

পুরুষরা তালাক বললেই তালাক হয়ে যায়, স্ত্রীদের অবশ্য অধিকার নেই স্বামীকে তালাক দেওয়ার। চাইলেই চারটি বিয়ে করতে পারে যে-কোনও মুসলমান পুরুষ। না, মেয়েদের চারটে বিয়ে করার কোনও অধিকার নেই।

হায়দরাবাদের এক মুসলমান মেয়ে সেদিন বলেছিল-‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে আমাদের ভালই হয়।’ আমি আঁতকে উঠেছিলাম শুনে, বলে কী মেয়ে! বিজেপি আবার মুসলমানের কী মঙ্গল করবে অমঙ্গল ছাড়া? মেয়েটি বলল-‘বিজেপি সারা ভারতে ১৯৫৬ সালের হিন্দু অ্যাক্ট চালু করবে, যেখানে নারী-পুরুষের সমান অধিকার থাকবে বর্বর স্বামীকে তালাক দেওয়ার এবং একাধিক স্ত্রী নিয়ে সংসার সাজাবার আরামটি পুরুষরা আর পাবে না।’

মেয়েটি আমাকে ভাবিয়েছিল বটে। এ-রকম সাধারণ, নির্বিরোধ, প্রগতির পক্ষের মেয়েকেই যদি নারী-পুরুষের সমান অধিকারের জন্য বিজেপির পক্ষ নিতে হয় তবে লজ্জা কি সেই মেয়ের একার না তাবৎ মুসলমানের! কেন তাকে ভারতে উগ্র মৌলবাদী একটি দলকে সমর্থন করতে হয়? ক’দিন আগেই বিজেপির দিল্লি অফিসে ভারতের মুসলমান নেতারা জুম্মার নামাজ আদায় করেছে। এর পেছনে রাজনীতির জিলিপি আছে, তা জানি। এক দল আরেক দলকে পেলে মনে হয় কচুকাটা করবে। সব আসলে ওপর ওপর। এ কেবল নেতাদের বেলায় ঘটে। দুর্ভোগ হয় সাধারণের- যারা জট বোঝে না, ঘট বোঝে না।

 বাংলাদেশেও ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ জারি করা হয়। শরিয়া আইনের চেয়ে খুব একট তফাৎ এতে নেই, তবু তালাক উচচারণ করলেই তালাক হয় না, ইউনিয়ন পরিষদের কাছে নোটিস দিতে হয়, সেই নোটিসের কপি স্ত্রীকে দিতে হয় এবং নোটিস দেওয়ার নব্বই দিন (স্ত্রী তিনবার ঋতুমুক্ত হলে তার গর্ভে যে স্বামীর সন্তান নেই-এ ব্যাপারে নিশ্চিত হবার জন্যই নব্বই দিনের এই হিসেব) পর তা কার্যকর হয়। এর কোনও একটি শর্তপূরণ না হলে নব্বই দিন অর্থাৎ ইদ্দতকাল পার হবার পরও তালাক কার্যকর হয় না।

‘বহুবিবাহের’ বেলায়ও সালিশি পরিষদের অনুমতি লাগে, স্ত্রী বা স্ত্রীদের অনুমতির প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশেও এক সময় শরিয়া আইন চলেছে, আজ সেই আইনে যে যৎসামান্য পরিবর্তন হয়েছে, সেটুকুর হাওয়াও, বড় বিস্ময়এই, এতদিনে ভারতের গায়ে লাগে নি। একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ যদি তার সব ধর্মবিশ্বাসী নাগরিকের জন্য একটি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ আইন প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে, তবে সেই দেশের ধর্মনিরপেক্ষতায় আমার অন্তত কোনও পক্ষপাত নেই। যদি বলা হয়, মোল্লারা মানে না, বাগড়া দেয়-তারও উত্তর আছে-তারা মানবে না বলে রাষ্ট্র কেন কিছু করবে না! ঘরে মরা ইঁদুর রেখে সুগন্ধি রুমাল চাপলেই কি দুর্গন্ধ যায়! মোল্লারা কবে একটু ছাড় দেবে তা মুসলমান মেয়েরা (শরিয়ার পাথর তো কেবল মেয়েদেরই চাপে) হাঁফ ছাড়বে-ভারতের মতো অগ্রসর দেশে এ নিয়ম চলা উচিত নয়।

বাংলাদেশের অবস্থাও তথৈবচ। মেয়েরা তালাক দিতে পারবে কি পারবে না-কাবিন নামায় নাকি এ-রকম একটি প্রশ্ন জুড়ে দেওয়া হয়। স্বামীরা যদি করুণা করে মেয়েদের তালাক দেবার অধিকার দেন, তবেই হতভাগীরা সেই অধিকার পায়, তা না হলে তালাক দিতে আদালতে দৌঁড়াতে হয়, কারণ দর্শাতে হয়। কারণগুলো আবার আইনের কারণের সঙ্গে মিলতে হয়। স্বামী ধ্বজভঙ্গ নয়, স্বামী আমাকে পেটাচেছ না, স্বামী আমাকে ভাত-কাপড় দিচেছ কিন্ত স্বামীকে আমি ভালবাসি না বলে স্বামীকে ত্যাগ করতে চাইছি, এ-কথা কেউ শুনবে না। তালাক হবে না। দেশের বড় বড় নায়িকা-গায়িকাদেরও এই তালাকের অধিকার থাকে না, তাদের তাই মামলা করে বর্বর স্বামীকে তালাক দিতে হয়। মুসলমানরা সব ছাড়ে, কিন্ত শরিয়া আইন ছাড়ে না।

 এই সব অনাচারের বিরুদ্ধে জোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে মুক্তি শুধু যে মুসলমানের নেই তা নয়, মুক্তি মানুষেরই নেই। গোটা উপমহাদেশে হিন্দু, ইসলামসহ নানা ধর্ম নিয়ে যে তান্ডব, মানুষকে যুক্তিহীন, বোধহীন করার যে হীন চক্রান্ত- তা যদি এখনও সমুলে বিনাশ করা না যায় তবে অচিরে হাঁ-মুখো অন্ধকার আমাদের এমন গ্রাস করবে যে আমরা আর আমাদের পড়শি চিনব না, স্বজন চিনব না, আমরা নিজেকে চিনতেও ভুল করব এবং আত্মঘাতী হবো।

 লেখক: কলামিস্ট

বিচারপতিদের বেতন-ভাতা বেড়ে দ্বিগুণ


high_court_building_20281_1469551792সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের বেতন-ভাতাদি বৃদ্ধির বিধান করে সংসদে সুপ্রিমকোর্ট জাজেস (রিমুনারেশন এবং প্রিভিলেজেস) (সংশোধন) বিল-২০১৬ পাস করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক মঙ্গলবার বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন।

বিলে প্রধান বিচারপতির বেতন ৫৬ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৭ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১২ হাজার টাকা, ডমেস্টিক এইড ভাতা ১ হাজার ৬২৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫ হাজার টাকা, কার এলাউন্স ১৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ হাজার টাকা, অফিসিয়াল গাড়ি সরবরাহের পূর্ব পর্যন্ত ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করলে সেক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২ হাজার টাকা করার বিধান করা হয়েছে।

বিলে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বেতন ৫৩ হাজার ১০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৮ হাজার টাকা, ডমেস্টিক এইড ভাতা ১ হাজার ৪৬৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪ হাজার ৫০০ টাকা, রেসিডেন্স এলাউন্স ২৬ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার ৬০০ টাকা, কার এলাউন্স ১৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ হাজার টাকা, অফিসিয়াল গাড়ি সরবরাহের পূর্ব পর্যন্ত ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করলে সেক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২ হাজার টাকা করার বিধান করা হয়েছে।

হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের বেতন ৪৯ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৯৫ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৩ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫ হাজার টাকা, ডমেস্টিক এইড ভাতা ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪ হাজার টাকা, রেসিডেন্স এলাউন্স ২৬ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার ৬০০ টাকা, কার এলাউন্স ১৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ হাজার টাকা, অফিসিয়াল গাড়ি সরবরাহের পূর্ব পর্যন্ত ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করলে সেক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২ হাজার টাকা করার বিধান করা হয়েছে।

এছাড়া বিলে প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের জন্য বছরে একবার মূল বেতনের শতকরা ২০ ভাগ অর্থ বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে প্রদানের বিধান করা হয়।

জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, নূরুল ইসলাম ওমর, বেগম নূর-ই- হাসনা লিলি চৌধুরী, স্বতন্ত্র সদস্য আবদুল মতিন বিলের ওপর জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব আনলে তা কণ্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

কোনো বাবা যদি তার ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র করেন তাহলে ছেলেটি কি কি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে?


law_10940

 

আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, যদি কোনো মা-বাবা তাঁর সন্তানকে ত্যাজ্য হিসেবে ঘোষণা করেন তবে সেই সন্তান চিরতরে তাঁর মা-বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। অনেক সময় দেখা যায় যে বাবা তাঁর সন্তানকে ত্যাজ্য হিসেবে ঘোষণা করেন এবং হলফনামা করে লিখে দেন যে তাঁর মৃত্যুর পর সেই সন্তান সম্পত্তির কোনো অংশীদার হবেন না। এ ধরনের ঘোষণার আদৌ কোনো আইনি ভিত্তি নেই। মুসলিম পারিবারিক আইনে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে কারা সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন এবং তাঁদের অংশ কতটুকু হবে। মুসলিম আইন অনুযায়ী জন্মসূত্রেই কোনো সন্তান তাঁর পরিবারের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার অর্জন করেন এবং তাঁদের এ অধিকার কোনোভাবেই খর্ব করা যায় না।

তবে কোনো মা-বাবা দান, উইল বা বিক্রয়ের মাধ্যমে তাঁদের সম্পত্তি যে কারও কাছে হস্তান্তর করতে পারেন। এখানে মনে রাখতে হবে মুসলিম আইনে উইলের দ্বারা এক-তৃতীয়াংশের বেশি হস্তান্তর করা যায় না এবং ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর তা কার্যকর হবে। জীবিতকালে কোনো মা-বাবা তাঁদের সম্পত্তি অন্য কাউকে যথাযথ উপায়ে দান না করে গেলে কিংবা বিক্রয় করে না গেলে মৃত্যুর পর তাঁদের সন্তানেরা অবধারিতভাবেই উত্তরাধিকারী হিসেবে সেই রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশীদার হবেন।

কিন্তু জীবিতকালে শুধু ত্যাজ্যপুত্র বলে ঘোষণা করে ভবিষ্যতে সন্তানেরা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন বলে দিলেই সন্তানেরা ত্যাজ্য হয়ে যাবেন না। সন্তানেরা অবশ্যই বাবা-মায়ের সম্পত্তির অংশীদার হবেন। যেকোনো দলিল সম্পাদন কিংবা হলফনামার মাধ্যমে ত্যাজ্য করার ঘোষণা আইনের চোখে অচল এবং আদালতের মাধ্যমে বলবৎ করার সুযোগ নেই। যদি এমন হয় বাবা-মা ত্যাজ্যপুত্র বলে সন্তানদের ঘোষণা দিয়ে গেছেন এবং এ জন্য অন্য অংশীদারেরা তাঁদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন তাহলে সন্তানেরা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

চাইলে দেওয়ানি আদালতে বাবা-মায়ের করা দলিলটি বাতিল চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। কোনো বাবা-মা যদি তাঁদের অবাধ্য সন্তানকে কোনো সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে চান তাহলে জীবিতাবস্থায় ওই সম্পত্তি অন্য কাউকে দান করে কিংবা বিক্রি করে সম্পত্তির দখল ছেড়ে দিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে যেটুকু সম্পত্তিই বাবা-মা নিজের নামে রেখে যান না কেন তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারীরা এ সম্পত্তির অংশীদার হবেন। এ থেকে জীবিত অবস্থায় কাউকে বঞ্চিত করার ঘোষণা মুসলিম আইন অনুযায়ী করা যাবে না।

 

আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করলে তার আইনি প্রতিকার কী?


collage-21

 

নালিশ অথবা এজাহার দায়েরের মাধ্যমে আনীত কোন মোকদ্দমার বিচার কালে যদি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মনে হয় যে আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা বা ভিত্তিহীন এবং নগণ্য বা বিরক্ত জনক, তাহলে বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধি ২৫০ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারেন।

আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট হতে হবে যে, মোকদ্দমাটি স্বেচ্ছায় মিথ্যা ভাবে রজু করা হয়েছে এবং তা সুবিচারের জন্য রজু করা হয়নি, বরং আসামীকে বিরক্ত করার লক্ষে বা কোন উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষে আসামীর প্রতি চাপ সৃষ্টি করার জন্য দায়ের করা হয়েছে।

দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী যদি কোন লোক অপর কোন লোকের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে, মিথ্যা ও আইনানুগ মামলা দায়ের করার কোন কারণ নাই জানা সত্ত্বেও কোন মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাহলে উক্ত ব্যাক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

এবং যদি উক্ত মিথ্যা মামলা কোন মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা সাত বৎসর বা তার বেশী মেয়াদের কোন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সম্পর্কে দায়ের করা হয় তাহলে দায়েরকারী সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

যে লোক মিথ্যা এজাহার করেছিল সে লোকের বিরুদ্দে ২১১ ধারা অনুসারে মামলা দায়ের করতে হলে ঐ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সুত্র-অনলাইন

কোন অপরাধে সাহায্য-সহায়তা বা প্ররোচনা করলে আপনার কি শাস্তি হতে পারে?


unnamed
আপনি যদি মৃত্যুদন্ডমূলক অথবা যাবজ্জীবনমূক দন্ডের এমন কোন অপরাধে সহায়তা দান করেন তাহলে দন্ডবিধির ১১৫ধারার অধিনে যদি অপরাধটি সংগঠিত না হয় তাহলে ৭বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারদন্ডে এবং অর্থদন্ডেও দন্ডিত হবেন।আর যদি অপরাধটি সংগঠিত হয় বা ভোক্তভোগী আঘাত পাপ্ত হয় তাহলে ১৪বছরের পর্যন্ত যেকোন প্রকার কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন এবং অর্থদন্ডও হবে।

উপরে উল্লেখিত এইরকম অপরাধ ছাড়া বাকী অন্য যে কোন অপরাধে দন্ডবিধির ১০৯ধারার অধিনে সহায়তা করলে অপনাকে ঐই অপরাধের জন্য যে শাস্তি রয়েছে তাই দেওয়া হবে,যদি না দন্ডবিধি আইনে আলাদা কোন শাস্তির বিধান এমন অপরাধে সহায়তাদানকারীর জন্য রাখা হয়েছে।

আপনি যদি কোন অপরাধে সহায়তা করেন এবং সে অপরাধ সংঘটন কালে আপনার সহায়তা দানকারক সময়ে অন্য কোন একটি নতুন অপরাধ ঘটে তাহলে আপনিও দন্ডবিধির ১১১ধারা অনুসারে ঐই ঘটিত ভিন্ন অপরাদে সহায়তা করলে যে শাস্তি হত ঐই একই শাস্তি অপনাকে দেওয়া হবে যদিও আপনি এই অপরাধে সহায়তা করেনি।

আপনি যদি কোন অপরাধে সহায়তা করেন এবং অপরাধটি ঘটানোর সময় ঐই ঘটনা স্থলে উপস্থিত ছিলেন তাহলে আপনি দন্ডবিধির ১১৪ধারা অনুসারে ঐই অপরাধের অপরাধী বলে অভিযুক্ত হবেন সহায়তাদানকারী হিসেবে নয়।

বি:দ্র:-“সহায়তা’ শব্দটি দ্বারা বুঝানো হয়েছে “সাহায্য”,”প্ররোচনা”,”উস্কানি”,”অভিপ্রায়”,”অংশ নেওয়া”পোষনকরা” ইত্যাদি।