কেস স্টাডি মানে জীবন ইতিহাস


জীবন ইতিহাসজীবন ইতিহাস

casestudy-icon
কেস স্টাডি মূলত গবেষণার একটি ধরণ। তাই কেস স্টাডি লেখা সাদামাটা কোন বিষয় নয়। গবেষণার একটি ধরণ হিসাবে এ প্রক্রিয়ায় কোন একটি বিষয় বা ব্যাক্তি সম্পর্কে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। তাই ঘটনা বা ব্যাক্তি সম্পর্কে একটি সার্বিক চিত্র ফুটে ওঠে।
ঊনিশ শতকের শেষের দিকে এই পদ্ধতিতে গবেষণা শুরু হয়েছে। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। কেস স্টাডি হলো কোন সামাজিক বিষয়, যেমন একটি ব্যাক্তি, পরিবার, ক্ষুদ্র গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সম্পর্কে বিশদ ও সুগভীর তথ্য অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ। তাই বাংলায় একে ঘটনা বিশ্লেষণ বা জীবন ইতিহাস বলা অযৌক্তিক ঠেকে না ।
এই পদ্ধতিতে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক গুলোকেও তুলে ধরা হয়। গবেষণার অন্য কোন পদ্ধতির মাধ্যমে কোন একটি বিষয় বা একককে এত গভীরভাবে জানা সম্ভব হয় না। এখানে সীমিত ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা পাবার চেষ্টা থাকে।
লেখার কাঠামো
কেস স্টাডিগুলো মূলত লেখা হয় কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষদের নিয়ে/ কোন বিশেষ ব্যক্তিত্ব/জীবন/উদ্যোগ নিয়ে। এ কথাটি মাথায় রেখে আমরা কেস স্টাডি লেখার একটি কাঠামো দাঁড় করাতে পারি :
শুরু / ভূমিকা/ সূচনা
বর্তমান অবস্থা
পটভূমি
জীবনের মোড় যখন ঘুরল / পরিবর্তনের মুহুর্ত
পরবর্তীতে একের পর এক যে সাফল্যগুলো আসতে শুরু করল
শেষ কথা
একটি প্রশ্ন : আমরা কেস স্টাডি লিখছি কেন?
একজনের সফলতার কাহিনী প্রকাশিত করে অন্যদেরকে উৎসাহিত, উজ্জীবিত এবং ক্ষমতায়িত করা
নিজেদের মূল্যবান কর্মকান্ড সম্পর্কে অন্যদের অবহিত করা
প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি করা, এখানে কতগুলো বিষয় জড়িত
প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি মানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান আপনার প্রতিষ্ঠানকে ফান্ড কিংবা অন্যান্যভাবে সহযোগিতা করতে উদ্ধুদ্ধ হবে
প্রতিষ্ঠানের সুনাম মানে আপনার চাকরির নিরাপত্তা এবং সন্তুষ্টি
আরো কতগুলো বিষয় মনে রাখতে হবে
আপনি কার জন্য লিখছেন?
আপনি তাদেরকে কি বলতে চান?
কতটুকু বলতে চান?
কিভাবে বলতে চান?
আপনি যা লিখছেন তা কি একজন পাঠক হলে আপনি পড়তেন ? পাঠক হিসাবে লেখাটি পড়ে আপনি কি সন্তুষ্ট?
লেখার টেবিলে বসে তথ্য আনার জন্য আবার মাঠে দৌড়াতে হবে না তো?
কেস স্টাডি আকর্ষণীয়ভাবে লিখলে যেমন সবাই পড়বে তেমনি তথ্যসমৃদ্ধ লেখা না হলে আপনার উদ্দেশ্য হাসিল হবে না। তাই পর্যাপ্ত তথ্য নিয়ে লেখার টেবিলে বসবেন।
বিষয়ের সঙ্গতিপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি চেকলিষ্ট তৈরি করুন, কোন কোন বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে, কোন বিষয়ের উপর কতটা তথ্য সংগ্রহ করতে হবে ইত্যাদি। যেমনঃ যদি আপনার সংস্থা থেকে কেউ ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয় এবং এ নিয়ে আপনি একটি কেস ষ্টাডি লিখতে চাইলে যে বিষয় গুলো অবশ্যই জানতে হবে-
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, তার বসবাসের স্থান, তিনি কোন সমিতির সদস্য, তার পূর্বের অবস্থা, তিনি কোন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কি-না এবং বিশেষ করে ঘাসফুলের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা ইত্যাদি।
এসব তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভালভাবে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে। সাক্ষাৎকারের সময়টি এ জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু ভুল শুধরালে আপনাদের লেখা আরো সুন্দর হবে
শুরুতে প্রায়শই কোন তথ্য থাকেনা, সামঞ্জস্যহীন হয়
একটি অনুচ্ছেদের (প্যারা) সাথে অন্য অনুচ্ছেদের ধারাবাহিকতা এবং সামঞ্জস্য রক্ষা করা হয়না
অনেক জায়গায় প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে না
প্রতিষ্ঠান যে জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তা সুন্দর এবং গুছালো হয় না
আকর্ষণীয় করতে গিয়ে বিষয়টি গুলিয়ে ফেলা হয়।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s