অবশেেষ চাকরি গেল আহসানউল্লাহর সেই শিক্ষকের


বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক সফিউল্লাহ  বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ৪ মে থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকরির শর্ত অনুযায়ী তাকে চাকরিচ্যুত করেছে।”

55_Mahfuzur+Rashid+Ferdous_teacher_30042016_0002.jpg

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, ওই শিক্ষকের গ্রেপ্তারের দিন থেকে তাকে চাকরিচ্যুত দেখানো হয়েছে; তাকে কারণ দর্শানোর কোনও নোটিসও দেওয়া হয়নি।

এরই মধ্যে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই শিক্ষককে দুই দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

পরে শনিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার মহানগর হাকিম কাজী কামরুল ইসলামের কাছে জবানবন্দি নেন তিনি।

১৫ পৃষ্ঠায় জবানবন্দিতে ঘটনার পুরো দায় তিনি স্বীকার করেছেন বলে জানান আদালতের পুলিশ কর্মকর্তা এসআই পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

তড়িৎ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফেরদৌস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

কলাবাগান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা একটি মামলায় গত ৪ মে ভোরে রমনার একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

এর আগে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না


ফাঁসি দড়ি থেকে আর একধাপ দূরে থাকা জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী বলেছেন, আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

 

সোমবার একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিজামীর রিভিউ খারিজের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে প্রকাশের পর এখন শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি ক্ষমা নাকচ করলে আসামির দণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকবে না। অর্থাৎ নিজামীর ফাঁসি কার্যকরে এখন শুধু এই একটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নিজামীর রিভিউ খারিজের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে কপি যাবে কারাগারে। ইতোমধ্যে র‌্যাব, পুলিশ ও কারারক্ষীদের সমন্বয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকের বাইরে দুই স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

গত ৬ মে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায়। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের নেতা এম আলম স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতি বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডের আদেশে নিজামী মোটেই বিচলিত নন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ মে পরিবারের সদস্যরা নিজামীর সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে, তিনি তাদের বলেন, ‘জীবন-মৃত্যুর মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। মহান আল্লাহ আমার মৃত্যুর জন্য যে সময় ও স্থান নির্ধারণ করে রেখেছেন ঠিক সে সময় এবং সে স্থানেই আমার মৃত্যু হবে।’

নিজামী বলেন, ‘আমি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করছি, প্রাণের মালিক আল্লাহ। সুতরাং আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

৫ মে নিজামীর রিভিউ খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এক শব্দের এই রায় ঘোষণা করেন। বেলা সাড়ে ১১টায় এজলাসে এসে প্রধান বিচারপতি শুধু বলেন, ‘ডিসমিসড’।

বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন : বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। রিভিউ আবেদন খারিজের পর থেকে পুরো জাতি নিজামীর ফাঁসির রজনীর জন্য অপেক্ষায় আছে।

গাজীপুরের কাশিমপুর-২ কারাগারের ৪০ নম্বর কনডেম সেলে বন্দি নিজামীকে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, এরই মধ্যে কেরানীগঞ্জে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নিজামীর রায় কার্যকরই হতে পারে নতুন কারাগারের প্রথম ফাঁসি।

তবে কোনো কারণে সেখানে ফাঁসির মঞ্চের সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন না হলে বেছে নেয়া হতে পারে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের ফাঁসির মঞ্চ। তবে কাশিমপুর কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জে না নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়ায় সেখানেই ফাঁসি কার্যকরের সম্ভাবনা বেশি।

নিজামীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি চূড়ান্ত রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ১৫ মার্চ পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেন দেশের এই সর্বোচ্চ আদালত। ওইদিনই আপিল বিভাগের এই রায়ের কপি পেয়ে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

নিজামির জন্য প্রস্তুত ফাঁসির মঞ্চ ।


মানবতাববিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ফাঁসির মঞ্চে টানানো হয়েছে নতুন শামিয়ানা। আনা হয়েছে ম্যানিলা রশি। সেই সঙ্গে প্রস্তুত রাখা হয়েছে দুই জল্লাদকে।

09-05-16-tribunal_nizami_case-8_211101

মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ পিটিশন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছে সেই পূর্ণাঙ্গ রায় সোমবার প্রকাশিত হয়েছে। বিকেলে তা পাঠানো হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তবে এখন পর্যন্ত রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি কারাগারে যায়নি। যে কোনো সময় এই কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যাবে।
সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী জানান, সোমবারই এ রায় বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

ট্রাইব্যুনাল হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানোর পর নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করবে কারা কর্তৃপক্ষ।

পূর্ণাঙ্গ রায় ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার পর অভিযুক্তকে পড়ে শোনানো হবে। এরপর তার কাছে জানতে চাওয়া হবে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি-না। প্রাণভিক্ষা না চাইলে যে কোনো মুহূর্তে তার রায় কার্যকর করা যাবে।

সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, কবে কোন সময় রায় কার্যকর হবে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষের বিষয়। তবে প্রাণ ভিক্ষা না চাইলে রায় যেকোনো সময় কার্যকর করা যেতে পারে।

জামায়াতের আমির আমির মতিউর রহমান নিজামীকে গত রোববার রাতে কাশিমপুর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ-র‌্যাবের একটি দল তাকে কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে ঢাকায় আনা হয়।

সোমবার বিকেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের যে মঞ্চে কার্যকর করা হয়েছিল ওই একই মঞ্চে নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করা হবে। সূত্রটি জানায়, এ ফাঁসি কার্যকরের জন্য মঞ্চটির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রোববার এ মঞ্চে ফাঁসির একটি মহড়া হয়। মহড়ায় ৪ জন জল্লাদ অংশ নেন।

এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ নিজামীর আপিল মামলার চুড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সর্বোচ্চ আদালত। তার আপিল খারিজ করে ফাঁসি বহাল রেখে দেওয়া এ রায়ের ভিত্তিতে ওইদিনই নিজামীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ২৯ মার্চ রিভিউ আবেদন করার পর থেকে মৃত্যু পরোয়ানা স্থগিত ছিল। বৃহস্পতিবার রিভিউ খারিজ হওয়ায় আবার সচল হয়েছে এই পরোয়ানা।

গত ৫ মে নিজামীর করা রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন । এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৩ নভেম্বর আপিল করেন নিজামী।

ব্যর্থতা মাধ্যমেই সফলতা আসে


সকলেই জীবনে সফলতা লাভ করতে চায়। কিন্তু সেই সফলতার জন্য নিজের মাঝে কি কি গুনাগুণ থাকা উচিত সে ব্যাপারটা অনেকেরই অজানা থাকে। এইখানে একজন কর্মক্ষেত্রে / জীবনে সফল মানুষের কিছু গুন বা যোগ্যতা তুলে ধরা হলো যা থেকে আমরা নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারিঃ

images (13)

০১. শোনার যোগ্যতাঃ কারো কোন কথা ভালো মতো শুনুন। নিজে কিছু বলার আগে ভালোভাবে শুনে নিন। ভালোমতো শুনার যোগ্যতাটা একটা বড় গুন। মনে রাখবেন সৃষ্টিকর্তা একটা মুখ এবং দুটো কান দিয়েছেন। দুটো কানতো আর খামোখা দেয়নি।

০২. মানসিক দৃঢ়তাঃ একজন সফল মানুষ জানে কিভাবে “না” বলতে হয় এবং কখন নির্দ্বিধায় তা করতে হয়। একজন সফল মানুষই পারে বাস্তবমুখী কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে।

০৩. অতীতের ভুলের প্রতি কম মনোযোগী হোনঃ ভুল আমরা কমবেশী সবাই করি। একজন নিখুঁত মানুষ খুঁজে পাওয়াটা দায়। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করুন কিন্তু অতীত নিয়ে পড়ে থাকবেন না। কারণ, যা চলে যায় তা কখনো আর ফিরে আসে না।

০৪. অন্যজনের দৃষ্টিকোন থেকে দেখুনঃ একজন সফল মানুষ সবসময় একটা বিষয়কে অন্যজন কিভাবে ভাবছে তা নিয়ে চিন্তা করে। সুতরাং একটি বিষয়কে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে দেখুন।

০৫. চ্যালেঞ্জ গ্রহন করার মানসিকতাঃ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুন হলো সর্বদা “নতুন কিছু করার” মানসিকতা। সবসময় নতুন কিছু কে কিংবা নতুন কোন আইডিয়া কে গ্রহণ করুন। এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন। ভুলেও আপনার ভিতরকার হেরে যাওয়ার ভয়টাকে বের হয়ে আসতে দিবেন না। তাহলেই নতুন কিছু সফলভাবে করতে পারবেন।

তালাক-ই-তৌফিজের মাধ্যমে তালাক


তালাক-ই-তৌফিজের মাধ্যমে তালাক

images (5)

তালাক-ই-তোফিজ স্ত্রীর নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নয়৷ এটি স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা৷ নিকাহনামা বা কাবিননামার ১৮ নং ঘরে স্বামী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করেছে কিনা? করে থাকলে কি শর্তে?এই প্রশ্নটি ছাপা থাকে৷ স্বামীর যে তালাক দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে সে ক্ষমতাটি যদি স্বামী স্ত্রীকে কাবিননামার ১৮ নং ঘর পূরণের মাধ্যমে প্রদান করে তবে স্ত্রী নিজ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন৷স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা শর্তযুক্ত বা শর্তহীন হতে পারে৷ স্ত্রী কর্তৃক এরূপ তালাক উচ্চারণ করা হলে বা বিয়ে ছিন্ন করা হলে সে তালাকের নাম তালাক-ই-তোফিজ৷ এক্ষেত্রে যেহেতু স্ত্রী তালাক দিচ্ছেন তাই তালাক সংক্রান্ত নোটিশ চেয়ারম্যানের কাছে এবং এর কপি স্বামীর কাছে পাঠাতে হবে৷

তালাক-ই-তোফিজ মুসলিম আইনে একটি কার্যকর সংযোজন৷ তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের দেশে কাবিননামার ১৮ নং ঘরটি ফাকা থাকে৷ ফলে ১৯৩৯ সালে মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে যে ঌটি কারণের কথা বলা আছে তা না থাকলে এবং খুলার মাধ্যমে স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছেদ না পেলে একটি মেয়ের পক্ষে বিয়ের বন্ধন থেকে মুক্তি পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে৷ এই অসুবিধার কথা চিন্তা করে কাবিননামার ১৮ নং ঘরে হ্যা যা শব্দটি ছাপানো হয়েছে৷ যাতে স্ত্রী অপেক্ষাকৃত কম জটিলতায় তালাক-ই-তোফিজের মাধ্যমে মুক্তি পেতে পারে৷ নিকাহ্নামার ১৮ নং ঘরটি এজন্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পূরণ করা উচিত৷ অনেকে এ বিষয়টি সম্পর্কে জানেনা এবং ঘরটি শূন্য থাকে৷ বিয়ে পড়ানোর সময় কাজীদের অবশ্যই দু’পক্ষকে এই ঘরটি সম্পর্কে বিশেষভাবে জানানো উচিত

ফৌজদারি মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য


ফৌজদারি মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য

download (8)

কিছু লিখিত-অলিখিত নৈতিকতা সব আইনজীবীরই থাকা উচিত। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী (ডিফেন্স ল ইয়ার) ও সরকারি পক্ষের কেঁৗসুলির (প্রসিকিউটর) জন্য পেশাগত জীবনে অবশ্যপালনীয় নীতিমালা হিসেবে বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপত্তি হয়েছে। কমন ল-ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোয় বিদ্যমান বিচারব্যবস্থায় বিভিন্ন বিচারিক নজির, সংবিধি অথবা নিয়ন্ত্রণকারী আইনজীবী সংগঠন (বার কাউন্সিল/অ্যাসোসিয়েশন) কর্তৃক নির্ধারিত/প্রণীত আচরণবিধির মাধ্যমে এসব নীতির উৎপত্তি হয়েছে। এসব নীতি পালনে ব্যর্থতার জন্য অনেক সময় একজন আইনজীবীকে ভর্ৎসনা, বরখাস্তসহ বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে পারে। তাই একজন আইনজীবীর পেশাগত জীবনে এসব নীতি মেনে চলা নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য।
অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীর কর্তব্য : বিচারক ও সরকারি কেঁৗসুলির সঙ্গে মামলা সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনায় অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীর সব সময়ই পেশাগত আচরণ করা উচিত। অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে সব সময় কার্যকর প্রতিনিধিত্ব করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব। অসাধু বা অনৈতিক আচরণ একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুনাম নষ্ট করতে পারে। এমনকি যেহেতু একজন ডিফেন্স ল ইয়ার অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করেন, তাই তার অসাধু বা অনৈতিক আচরণ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুনামও নষ্ট করতে পারে।
মক্কেলের প্রতি কর্তব্য : মক্কেলের প্রতি একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের প্রচুর দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আইনগত পরামর্শদাতা হিসেবে একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে কার্যকর ও মানসম্মত প্রতিনিধিত্ব করা নৈতিক দায়িত্ব। অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে যৌথভাবে মামলা পরিচালনার সময় একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলা নৈতিক দায়িত্ব। যুক্তিসঙ্গত দ্রুততা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে মামলা পরিচালনা করাও একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব। মক্কেলের সঙ্গে সম্পাদিত সব ধরনের যোগাযোগের গোপনীয়তা বজায় রাখা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব। মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সম্পর্কে যত দ্রুত সম্ভব তথ্যানুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তা মামলা পরিচালনায় ব্যবহার করা তার নৈতিক দায়িত্ব।
আদালতের প্রতি কর্তব্য : নৈতিক ও পেশাগত আচরণের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে আদালতের সামনে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বার্থ সংরক্ষণ করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের কর্তব্য। একজন ডিফেন্স ল ইয়ার কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের সামনে ভুল তথ্য বা আইনের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করবেন না। যেমন যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি ডিফেন্স ল ইয়ারের কাছে তার কৃত অপরাধের কথা স্বেচ্ছায় স্বীকার করেন, তবে আদালতের সামনে অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক ওই অপরাধ সংঘটিত হয়নি মর্মে জবানবন্দি প্রদানে একজন ডিফেন্স ল ইয়ার কখনো পরামর্শ দেবেন না। মামলা পরিচালনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির অনৈতিক ও অবৈধ নির্দেশনা অনুসরণ করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের জন্য অবশ্য অনুচিত। প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিগুলো যা সরাসরি অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুকূলে যায়, কিন্তু সরকারি পক্ষের আইনজীবী আদালতে উত্থাপন করেননি, সেসব আইন ও বিধিগুলো খুঁজে বের করে আদালতে উত্থাপন করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের অবশ্য-দায়িত্ব। তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তি ও মামলাসংশ্লিষ্ট অন্য সব পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান স্বার্থের দ্বন্দ্ব অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন। ফৌজদারি বিচার প্রশাসনের উন্নয়ন ও পুনর্গঠন এবং মূল আইন (সাবস্টান্টিভ ল) ও পদ্ধতিগত আইনে (প্রসিডিউরাল ল) যদি কোনো অপ্রতুলতা থেকে থাকে তবে তা খুঁজে বের করে নিরসনের উদ্যোগ নেয়া একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব।
রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি বা প্রসিকিউটরের কর্তব্য : উনিশ শতকের গোড়ার দিকে অধিকাংশ মামলাই অভিযোগকারী (ভিকটিম) ব্যক্তিগতভাবে নিজে পরিচালনা করতেন। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি (প্রসিকিউটর) অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। বর্তমানে রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি রাষ্ট্র ও ভিকটিম উভয়ের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন। ফৌজদারি মামলার কার্যকর পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি (প্রসিকিউটর) মুখ্য ভূমিকা রাখেন। কারণ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধের অভিযোগগুলো প্রমাণে তিনি কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। যদি অভিযোগকারী কর্তৃক আনীত অপরাধগুলো অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পাদন করেছেন মর্মে বিশ্বাস করার সম্ভাব্য যথেষ্ট কারণ থাকে, তবেই একজন রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির ওই মামলা পরিচালনা করা উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে মামলাটি পরিচালনা না করে বাতিলের পরামর্শ দেয়া তার নৈতিক দায়িত্ব। বিচারের সময় অবৈধভাবে প্রাপ্ত সাক্ষ্যগুলো ব্যবহার করা রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির কোনোভাবেই উচিত নয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটন করেননি মর্মে কোনো সাক্ষ্য বা প্রমাণাদি পেলে সে তথ্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জানানো রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির নৈতিক দায়িত্ব।
মামলায় বিচারের আগে, বিচার চলাকালে বা বিচার-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির অযৌক্তিক মন্তব্য যেমন ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষীর গ্রহণযোগ্যতাকে হেয় করে এমন কোনো মন্তব্য; বর্ণ, জাতীয়তা, লিঙ্গ বা অন্য কোনো কারণে পক্ষপাতিত্বমূলক মন্তব্য; প্রতিহিংসা বা সহানুভূতিশীল মন্তব্য; সাক্ষ্য থেকে বাদ দেয়া হয়েছে এমন খারাপ কাজ সম্পর্কে মন্তব্য; জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির নিশ্চুপ থাকার অধিকার প্রয়োগ সম্পর্কে মন্তব্য ইত্যাদি করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমাদের দেশের অধিকাংশ আইনজীবী মক্কেলের প্রতি তাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞাত নন। যদিও বা কিছু কিছু আইনজীবী তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, কিন্তু সিনিয়র, জুনিয়র, খ্যাতিমান, অখ্যাত নির্বিশেষে অধিকাংশ আইনজীবীর সেসব নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য পালনে অনীহা লক্ষ্য করা যায়। ফলে মক্কেলরা অনেক সময় হয়রানির শিকার হন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই বিচারব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে একজন আইনজীবীর মক্কেলের প্রতি তাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব-কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করা উচিত।

লেখক : তরুণ ও উদীয়মান মানবাধিকার
কর্মী ও আইনজীবী
জাস্টিসমেকার্স ফেলো, সুইজারল্যান্ড
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এ কর্মরত

Collected : আইন শিক্ষা (Law Education)

যে সমস্ত দলিলপত্রের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক


যে সমস্ত দলিলপত্রের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক

property-title.jpg

(ক) স্থাবর সম্পত্তির দানপত্র ।

(কক) মুসলমানদের ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী প্রদত্ত হেবা সম্পর্কিত ঘোষণা,.২০০৪ সনের ২৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত ।

(খ) উইল ছাড়া অন্যান্য দলিলপত্র যাহা কোনো স্থাবর সম্পত্তিতে বর্তমান বা ভবিষ্যতে কায়েমী বা সম্ভাব্য কোনো অধিকার স্বত্ব বা সুযোগ-সুবিধা জন্মায়, ঘোষণা করে, অর্পণ করে, সীমাবদ্ধ করে বা নিঃশেষিত করে ।

ব্যাখ্যা : কোনো বন্ধকী দলিল হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যে অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর দলিল সম্পাদিত হয়, রেজিস্ট্রেশনের জন্য উহাই মুল্য বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(গ) উইল ছাড়া অন্যান্য দলিলপত্র যাহা কোনো অধিকার, স্বত্ব বা সুযোগ-সুবিধা জন্মানোর ঘোষণা, অর্পণ, সীমাবদ্ধকরণ বা নিঃশেষিত হইবার প্রতি বিনিময়মূল্য স্বরূপ কোনো কিছুর প্রাপ্তি বা প্রদান স্বীকার ।

(গগ) সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর ধারা ৫৯ অনুযায়ী বন্ধকী দলিল,.২০০৪ সনের ২৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত ।

(ঘ) স্থাবর সম্পত্তির বত্সরান্তের অথবা এক বত্সরের ঊর্ধ্বে কোনো মেয়াদী ইজারা বা বাত্সরিক খাজনার শর্তে ইজারার দলিল ।

(ঙ) উইল ছাড়া অন্যান্য দলিলপত্র যাহা কোর্টের ডিক্রি বা হুকুমনামা অথবা কোনো বিচার নিষ্পত্তির হস্তান্তর বা অর্পণ করে এবং যখন ঐরূপ ডিক্রি, হুকুমনামা বা বিচার নিষ্পত্তিতে কোনো স্থাবর সম্পত্তিতে বর্তমান বা ভবিষ্যত কায়েমী বা সম্ভাব্য কোনো অধিকার, স্বত্ব সুযোগ সুবিধা জন্মায়, ঘোষণা করে, অর্পণ করে, সীমাবদ্ধ করে বা নিঃশেষিত করে।

তবে কোনো জিলা বা জিলার অংশে সম্পাদিত কোনো ইজারাকে যদি উক্ত ইজারার মেয়াদ ৫ বত্সরের উর্ধ্বে না হয় বা উহার বাত্সরিক খাজনা ৫০ টাকার বেশি না হয় তবে সরকার সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দিয়া এই উপধারা আওতামুক্ত করিতে পারেন।

(চ) স্ব-স্ব ব্যক্তিগত ধর্মীয় আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ওয়ারিশী স্থাবর সম্পত্তি বন্টন বিষয়ক দলিল,.২০০৪ সনের ২৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত।

(ছ) রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ধারা ৯৬ অনুযায়ী আদালতের আদেশ মোতাবেক বিক্রয় দলিল,.২০০৪ সনের ২৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত।

দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের পদ্ধতি!


দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের পদ্ধতি!

picture-10266

নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অটুট রেখে সংসার করছেন অনেক দম্পতি। বেড়ে উঠছে নতুন একটি প্রজন্ম, যাদের উত্তরাধিকার সূত্রে ধর্মীয় কোন পরিচয় নেই। এটাকে সমাজের অনেক বড় পরিবর্তন বলছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা ধর্ম পরিবর্তন না করেই দু’টি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে বিয়ের ঘটনা বাড়ছে। একই ধর্মের দু’জন বিয়ে করে ঘর সংসার করতে হবে এমন ধারণা থেকে বের হয়ে আসছেন অনেকেই। দুই ধর্মের দু’জন তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ঠিক রেখে বিয়ে করছেন। আচার-আচরণ পালন করছেন যে যার বিশ্বাস মত। এভাবে দেশের আইন অনুযায়ী বিয়ে করে সংসার করছেন অসংখ্য দম্পতি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের জুটি এখন অনেক। আর এই বিয়ের ফলে বেড়ে উঠছে নতুন একটি প্রজন্ম। যারা উত্তরাধিকার সূত্রে কোন ধর্মীয় পরিচয় বহন করছেন না। আধুনিক সমাজে সেটা প্রয়োজনও মনে করছেন না অনেকে। এই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আবার কেউ কেউ নিজেই একটি ধর্ম বেছে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ধর্ম বিশ্বাস থেকে সরে আসছেন। তবে রাষ্ট্র আইন করে এমন বিয়ের ব্যবস্থা করলেও এইসব পরিবারের সম্পত্তি বন্টনের জন্য কোন আইন নেই। বাংলাদেশে ইসলাম, হিন্দু ও খৃষ্টান ধর্মীয় আইনে সম্পত্তি ভাগ হয়। কিন্তু এই পরিবারের সম্পত্তি যদি বাবা-মা ভাগ করে দিয়ে না যান বা উইল না করেন, তবে ভাগ করার কোন নিয়ম নেই। বাংলাদেশের বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২ (সংশোধিত ২০০৭) অনুযায়ী এই বিয়ে হচ্ছে। এই আইন অনুযায়ী, একজন মুসলমান, হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ, ইহুদি বা অন্য যে কোন ধর্মের যে কেউ যে কারো সাথে বিয়ে করতে পারবে। ধর্মের পরিবর্তন করা প্রয়োজন হবে না। অথবা দু’জনই ধর্মীয় বিশ্বাস বাদ দিয়ে বিয়ে করতে পারবে। অথবা একজন অন্যজনের ধর্ম মেনে নিতে পারবে। তবে নাবালকের সাথে কেউ বিয়ে করতে পারবে না। আইন অনুযায়ী এই বিয়ে রেজিষ্ট্রি করার জন্য সরকার একজনকে নিয়োগ দিয়েছে। বাংলাদেশে একজনই এই বিয়ে পড়িয়ে থাকেন। প্রায় প্রতিমাসেই এই বিয়ে হচ্ছে। গত কয়েক বছরে এই বিয়ের হার বেড়েছে। ১৯৮৩ সাল থেকে এপর্যন্ত এক হিসেবে দেখা গেছে, প্রায় ৫০০ দম্পত্তি কোন ধর্ম পরিবর্তন না করেই এমন বিয়ে করেছেন। এদের মধ্যে ছেলে হিন্দু, মেয়ে মুসলমান। কিম্বা ছেলে মুসলমান, মেয়ে হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী। অনেকে আছেন আবেগে বিয়ে করছেন। অনেকে জেনে বুঝে গন্ডি ভাঙ্গার তাগিদে। অনেক পরিবার আছে এই বিয়ে মেনে নিচ্ছেন, আবার অনেক পরিবার আছে যারা মানছেন না। প্রসঙ্গত, সরকারিভাবে এমন বিয়ে পড়ানোর একমাত্র স্থান পুরানো ঢাকার পাটুয়াটুলি। প্রাণেশ সমাদ্দার এই বিয়ের রেজিস্ট্রার। একই সাথে তিনি রাজধানীর পাটুয়াটুলির শরত্চন্দ্র ব্রাহ্ম প্রচারক নিবাসের আচার্য ও ট্রাস্টি। সেখানেই থাকেন তিনি। শুধু ঢাকা নয় দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও ছেলে মেয়েরা আসে বিয়ে করতে। বিশেষ করে যারা দেশের বাইরে যেতে চায় তাদের আসতেই হয়। কারণ কোর্টে বিয়ে করলে বিয়ে রেজিস্ট্রির কোন প্রমাণপত্র পাওয়া যায় না। অবশ্য কোর্টে দুই ধর্মের দু’জন বিয়ে করতে পারে না। অনেক সময় যারা জানে না তারা প্রথমে কোর্টে যায়। আর তখন আইনজীবীরা এখানে নিয়ে আসে। এখানে বিয়ে হলেও ডিভোর্স করানো যায় না। ওটা করতে হয় কোর্টে। আইন মতে, বিয়ের ১৪ দিন আগে রেজিস্ট্রারের কাছে নোটিস দিতে হয়। এরমধ্যে কারো কোন আপত্তি থাকলে সে তা জানাবে। তারপর তিনজন সাক্ষী আর পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে হাজির হতে হবে। নির্দিষ্ট ছকে ছেলে-মেয়ে দু’জন স্বাক্ষর করবে আর স্বাক্ষর করবে তিনজন সাক্ষী। এতেই হয়ে যাবে দু’জনের বিয়ে। সামাজিক আর কোন আনুষ্ঠানিকতা এখানে নেই। তবে বিয়ের পরে কেউ কেউ মিস্টি নিয়ে আসেন। উপস্থিত সবাই মিষ্টি খেয়ে নব দম্পতির মঙ্গল কামনা করেন।

সংগৃহীত

খাইখালাসি বন্ধক


খাইখালাসি বন্ধক

images (3)

আইনে বিভিন্ন রকম বন্ধকের কথা বলা হয়েছে। এর একটি হলো ‘খাইখালাসি বন্ধক’। এই প্রকার বন্ধক ব্যবস্থায় বন্ধকগ্রহীতা জমির যে সুবিধাদি ভোগ করেন, তার জন্য বন্ধকগ্রহীতার প্রতি বন্ধকদাতার দায় হ্রাস পায়। ধরুন, জমির আলী তার একখ- কৃষি জমি বিশ হাজার টাকায় আমির আলীর কাছে খাইখালাসি বন্ধক দিল। আমির আলী এই জমি থেকে কৃষিবাবদ যত সুবিধাদি গ্রহণ করবে, ধীরে ধীরে ততই জমির আলীর বিশ হাজার টাকার দায় কমে আসবে। এটাই খাইখালাসি বন্ধক। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৮(ঘ) ধারা অনুসারে, যখন দাতা কোনো গ্রহীতাকে বন্ধকি সম্পত্তির দখল অর্পণ করেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দখল দিতে নিজেকে বাধ্য করেন; এবং বন্ধকির টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত দখল রাখার অনুমতি দেন, এবং এরকম সম্পত্তি থেকে উদ্ভূত খাজনা ও লাভ বা এরকম খাজনা বা লাভের অংশবিশেষ গ্রহণের অনুমতি দেন, এবং তা বন্ধকি টাকার সুদ বা বন্ধকি টাকা পরিশোধের জন্য বা তার আংশিক সুদ পরিশোধের জন্য এবং আংশিক বন্ধকি টাকা পরিশোধের জন্য ব্যয় করতে অনুমতি দেন, তখন তাকে ‘খাইখালাসি বন্ধক’ বলে। ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৫ ধারার বিধান মতে, কৃষিজমির খাইখালাসি বন্ধকি ছাড়া অন্য কোনোরকম বন্ধক চলতে পারে না। ৯৫ ধারা অনুসারে, অন্য আইনে যাই থাকুক না কেন, কোনো রায়ত তার জমি বা জমির অংশপূর্ণ খাইখালাসি বন্ধকি ছাড়া অন্য কোনো প্রকার বন্ধক দেবেন না এবং তার মেয়াদ সাত বছরের বেশি হবে না। তবে ওই মেয়াদের আগে হারাহারি টাকা দিয়ে রায়ত তার জমিকে বন্ধকমুক্ত করতে পারবেন। এই বন্ধক রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে হতে হবে। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের বিধান অনুসারে, সাত বছরের মধ্যে বন্ধকগ্রহীতার বন্ধকি টাকা উসুল না হলেও তিনি সাত বছরের বেশি সময় বন্ধকি সম্পত্তি নিজ দখলে রাখতে পারবেন না।

জমিজমা সংক্রান্ত আইন ও বিধি


জমিজমা সংক্রান্ত আইন ও বিধি

property3.jpg

ভূমি জরিপ, দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রশন সংক্রান্ত আইন
> ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্ট
> ১৯০৮ সালের রেজিষ্ট্রেশন আইন (সংশোধনী ২০০৫ সহ)
> ১৯৫৫ সালের প্রজাস্বত্ব বিধি
> ১৮৭৫ সালের ভূমি জরিপ আইন

নামজারী বা মিউটেশন সংক্রান্ত আইন
> ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়েল, ১৯৯০

ডুবে যাওয়া জমি (সিকস্তি) ও জেগে ওঠা জমি (পয়োস্তি)
> ১৮২৫ সালের বেঙ্গল এলুভিয়ন ও ডিলুভিয়ন রেগুলেশন

খাস জমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত আইন
> ১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ
> ১৯১৩ সালের সরকারী পাওনা আদায় আইন

অকৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের নীতিমালা
> ১৯৯৫ সালের ৮ই মার্চে প্রকাশিত গেজেট

সর্বচ্চো সিলিং বা জমি দখলে রাখার সীমাবদ্ধতা সংক্রান্ত আইন
> ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ল্যান্ড হোল্ডিং (লিমিটেশন) {১৫/৮/১৯৭২ সালে জারিকৃত প্রেসিডেন্ট আদেশ}

ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত আইন
> ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত ৩০.০৫.১৯৯৫ ইং তারিখে পাশকৃত সংশোধনী
> ১৯১৩ সালের সরকারী পাওনা আদায় আইন

বর্গাচাষ সংক্রান্ত আইন
> ১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ

ওয়াকফ সংক্রান্ত আইন
> ১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশ

ইজমেন্ট বা সুখাধিকার সংক্রান্ত আইন
> ১৯৮২ সালের ইজমেন্ট রাইট এক্ট

অগ্রক্রয় সংক্রান্ত আইন
> ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্ট

সম্পত্তি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আইন
> ১৯৮২ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল অধ্যাদেশ
> ১৯৫০ সালের সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইন

দখল সংক্রান্ত আইন
> ১৮৭৭ সালে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন
> ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি
> ১৯০৮ সালের তামাদি আইন (ধারা)
> ১৯০৮ সালের তামাদি আইন (অনুচ্ছেদ)
> ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন

অন্যান্য আইন
> ষ্ট্যাম্প এক্ট, ১৮৯৯
> ১৯৪৯ সালের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন
> ১৯৫৯ সনের ৬নং অধ্যাদেশ
> ১৯৭২ সালের ৯৮ নং প্রেসিডেন্ট আদেশ
> ১৯৭২ সালের প্রেসিডেন্টের আদেশ নং ১৩৭