রেজিষ্ট্রি দলিলের আবশ্যকীয় শর্তাবলী


রেজিষ্ট্রি দলিলের আবশ্যকীয় শর্তাবলী

download (7)

একটি রেজিষ্ট্রি দলিলে নিমড়ববর্ণিত শর্তাবলী পালন করতে হয় অন্যথায় দলিলটি স্বয়ং সম্পূর্ণ হবেনা:

১। শিরোনামঃ দলিলটি কো ধরণের দলিল তা প্রথম বর্ণনায় উলেলখ করতে হবে। যেমন: সাফকবলা, বায়নাপত্র আম- মোক্তারনামা ইত্যাদি।
২। পক্ষগণের পরিচয়ঃ দান গ্রহীতা, প্রথম পক্ষ, দ্বিতীয় পক্ষ ইত্যাদি। নাম বা প্রতিষ্ঠানের নাম, পিতার নাম, পেশা, ধর্ম, জাতীয়তা বাসস্থান ইত্যাদি। অর্থাৎ কোন কোন পক্ষের মধ্যে দলিলটি সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রি হচ্ছে তার বর্ণনা।
৩। বিক্রীত স্বত্বের বর্ণনাঃ স্বত্বের ইতিহাস, পূর্বের দলিল নম্বর ইত্যাদি। অর্থাৎ বিক্রেতা সম্পত্তিটি কোন সূত্রে অর্জন করেছেন তার বিবরণ। তা নামে খতিয়ান ও জমা খারিজ আছে কিনা।
৪। পণঃ পণ ব্যতিরেকে কোন চুক্তি বৈধ হয় না। মনে রাখা আবশ্যক পনের লেনদেন স্বাভাবিক রীতি অনুযায়ী হতে হবে। অবাস্তর, অবিশ্বাস্য বা সন্দেহজনক পনের বিনিময়ে কোন সম্পত্তি হস্তান্তরিত হলে পরিনামে দলিলটি বাতিল হতে পারে।
৫। দখলঃ বিক্রিত সম্পত্তির দখল বুঝে দেওয়া হলো কিনা তা দলিলে উল্লেখ করতে হবে। দখল না বুঝে দিলে দলিলের প্রধান শর্ত অপূর্ণ রয়ে গেল।
৬। রক্ষিত শর্তাবলীঃ দাতা গ্রহীতার অর্জিত সম্পত্তির অধিকারসমূহের কিয়দংশ সংরক্ষিত রেখে দলিল সম্পাদন করতে পারেন।
৭। দন্ড বিষয়ক অংশঃ জমি জমার ক্রয় বিক্রয়ের ব্যাপারে প্রতারণার নজির ভুরি ভুরি রয়েছে। তাই প্রতারণামূলক কার্যের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসাবে দন্ড বিষয়ক ব্যবস্থাদির দলিলে লিপিবদ্ধ রাখতে হয়।
৮। তারিখঃ দলিলে অবশ্যই তারিখ থাকতে হবে। দলিলে তারিখ না থাকলে উহা বাতিল বরে গণ্য হয়। বাংলা তারিখের সহিত ইংরেজি তারিখও দেওয়া উচিত।
৯। তফসিল বর্ণনাঃ বিক্রয়াধীন সম্পত্তির তফসিল বর্ণনা দলিলের নির্দিষ্ট অংশে উল্লেখ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইহাতে ভুল থাকলে সমস্ত দলিলের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হইতে বাধ্য। তফসিলে জমির পরিমাণ, মৌজা, থানা, রেজিষ্ট্রী অফিস, জেলা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণী, তৌজি, জমির চৌহদ্দি অর্থাৎ উত্তরে, দক্ষিণে, পূর্বে ও পশ্চিমে অবস্থানকারীম ব্যক্তি ও সম্পত্তির নাম, খাজনা ও করের পরিমাণ সম্পত্তির কোন হোল্ডিং নম্বর ও ওয়ার্ড নম্বর থাকলে তাহাও দলিলে উল্লেখ করতে হয়।
১০। দস্তখতঃ দলিল দাতা দলিলের উপরিভাগ দক্ষিণ পার্শ্বে ও শেষ পৃষ্ঠায় নীচে স্বাক্ষর করবেন। কোন কোন দলিলে একাধিক পক্ষের দস্তখত দিতে হয়। দলিলে পক্ষগণের স্বাক্ষর বা টিপ পর্ব শেষ হবার পর দলিল লেখকের নাম, সাকিন ও দুই তিন জন সাক্ষীর নাম ও সাকিন লিখতে হবে।
১১। কৈফিয়তঃ দলিল লিখবার সময় কোন স্থানে ভূল, কাটা, মোছা বা অস্পষ্ট হলে উহার পৃষ্ঠা ও লাইন ক্রম উল্লেখ করে দলিলের শেষাংশে কৈফিয়ত হিসাবে তাহা লিখে দলিল লিখক তাহার নীচে সহি করবেন।
১২। বিবিধঃ দলিল পরিস্কার ও পরিচ্ছন্নভাবে লিখিত হওয়া আবশ্যক। দলিল লিখতে ভাল কালি ব্যবহার করা দরকার। তবে বর্তমানে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হওয়ায় লিখিত দলিল খুব কমই রেজিষ্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপিত হচ্ছে।
১৩। বিক্রেতার নামে খতিয়ান থাকতে হবে। বিক্রিত সম্পত্তির নক্শা ম্যাপ ইত্যাদি থাকলে তাহা অনুচ্ছেদ স্বরূপ মূল দলিলের সহিত যুক্ত করে দিতে হবে।

ভুমির সর্বোচ্চ সিলিং


১৯৮৪ সালের ভুমি সংস্কার অধ্যাদেশ অনুযায়ী ভুমির সর্বোচ্চ সিলিং:

download (1)

১লা বৈশাখ ১৩৯১ বাংলা সাল তথা ১৪/৪/১৯৮৪ইং তারিখের পূর্বে বাংলাদেশের কোনো পরিবার বা সংস্থা সর্বোচ্চ ১০০ বিঘা পর্যন্ত জমি ক্রয়ের মাধ্যমে কিংবা দান, উত্তরাধিকার কিংবা অন্য কোনো উপায়ে অর্জন করতে পারত এবং ভোগ দখলে রাখতে পারত, কিন্তু সরকার ১৯৮৪ ইং সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশজারির মাধ্যমে ঘোষনা করেছেন যে, ১৪ই এপ্রিল ১ঌ৮৪ সাল তথা ১লা বৈশাখ ১৩৯১ বাংলা তারিখ থেকে কোনো মালিক পরিবার বা সংস্থা ৬০ বিঘার (২০ একর) অতিরিক্ত কোনো কৃষি জমি ক্রয় সুত্রে/ উত্তরাধিকার সুত্রে/দান বা হেবা কিংবা অন্য কোনো উপায়ে অর্জন করতে পারবেন না।

[১৯৮৪ সালের ভুমি সংস্কার অধ্যাদেশের৪ নং ধারার ১ উপধারা]

অত্র অধ্যাদেশের ৪ নং ধারার ৩ উপধারাতে বলা হয়েছে যে এই অধ্যাদেশের কোনো বিধান লংঘন করে যদি কোনো মালিক বা পরিবার বা ব্যক্তি বা কোনো সংস্থা যে কোনো পদ্ধতিতে নতুন কৃষি জমি অর্জন করেন এবং পূর্বে এবং নতুন অর্জিত জমির পরিমাণ যদি ৬০ বিঘার অতিরিক্ত হয়ে যায় তাহলে ৬০ বিঘার অতিরিক্ত জমি সরকারের হাতে ন্যস্ত হয়ে যাবে। তবে উল্লেখ্য যে ৬০ বিঘার অতিরিক্ত জমি গুলি যদি উত্তরাধিকার, দান (হেবা) এর মাধ্যমে অর্জিত হয়ে থাকে তাহলে উক্ত অতিরিক্ত জমির জন্য সরকার জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ দিবেন।

রিমান্ড দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ আইন এবং নিয়ম আছে।


রিমান্ড দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ আইন এবং নিয়ম আছে।ment-of-the-paddle-2c-1912

 

রিমান্ডের আইনে বলা হয়েছে- তদন্তের স্বার্থে এবং সত্য উদঘাটনের স্বার্থে যদি প্রয়োজন হয় তাও সে রেয়ার কেসের ক্ষেত্রে রিমান্ড দেয়া যেতে পারে। শুধু তাই নয় স্পষ্টভাবে বলা আছে – কি কারণে রিমান্ড প্রয়োজন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ম্যাজিস্ট্রেট বা হাকিমের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদের দৃষ্টিকোণ থেকে রিমান্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আসামীর স্বার্থ সাক্ষ্য আইনে মূল্যহীন। আর নির্যাতনের মাধ্যমে যদি কোনো তথ্য পাওয়া যায় সেটি এভিডেন্স হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। রিমান্ডের ওপর ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব হাকিম বা বিচারকদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। বাছ বিচার করে , সুস্পষ্টভাবে কেস স্টাডি করে , কি কারণে রিমান্ড চাচ্ছে তা বিশ্লেষণ করে রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করা উচিত। অতি সাধারণ কারণে এবং মামুলী মামলার ক্ষেত্রেও রিমান্ড চাওয়া উচিত নয়। এধরনের রিমান্ডকে উচ্চতর আদালতে অবশ্যই ডিসক্যারেজ করা উচিত। যে কোনো কেসে রিমান্ড চাওয়াটা যেন অভ্যাসে পরিণত না হয়। রিমান্ড বা রিমান্ডের নামে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা সংবিধানে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ । তাছাড়া জুডিশিয়াল কাস্টডিতে আসামী যে সাক্ষ্য দেয় তার কোন দাম নেই। ক্রিমিনাল জুরিসপ্রুডেন্সের ক্ষেত্রে এ ধরনের সাক্ষ্য মূল্যহীন এবং আইনের পরিপন্থী। রিমান্ড কাদের ক্ষেত্রে নেয়া যেতে পারে সে বিষয়ে আমাদের আইনের যে নির্দেশনা তা হচ্ছে – গ্যাং ডাকাতি, ডাকাতি, গুরুতর অপরাধ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এসব ক্ষেত্রে রিমান্ড দেয়া যেতে পারে এবং আগেকার দিনে এসব ক্ষেত্রেই রিমান্ড চাওয়া হতো। রিমান্ডে নির্যাতনের মাধ্যমে যদি কারো স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় সেই স্বীকারোক্তির কোনো এভিডেনশিয়াল ভ্যালু নেই। আইনের দিক থেকে এটি মূল্যহীন। এটি অনেক কারণে করা হয়ে থাকে। অনেকে অবৈধভাবে পয়সা অর্জনের করে থাকে, অথবা কারো প্রতি প্রভাবিত হয়েও অনেক ক্ষেত্রে এটি করা হয়ে থাকে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে না বুঝে করে। এ বিষয়ে আইন ও সংবিধানের ওপর প্রোপার ট্রেনিং না থাকার কারণে অবৈধ এ বিষয়টির যথেচ্ছ ব্যবহার হয়।

আইন শিক্ষা (Law Education)

হলফনামা সম্পাদন করার নিয়ম


হলফনামা সম্পাদন করার নিয়ম

11033726_1607163869516587_77550601806422026_n

জমি কেনাবেচা, বিয়ে কিংবা বিচ্ছেদ, নাম পরিবর্তন বা সংশোধন, পাসপোর্টে নাম সংশোধন ও মামলা মোকদ্দমাসহ নানা কাজে প্রয়োজন হয় হলফনামার। এ ছাড়া বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ তৈরির কাজেও লাগে হলফনামা। হলফনামা হচ্ছে কোনো বিষয়ে সত্যতাসহ এর সমর্থনে ঘোষণা দেওয়া। যথাযথ নিয়মকানুন মেনেই সম্পাদন করতে হয় হলফনামা।

হলফনামায় যা যা উল্লেখ করতে হবে:
•হলফনামা হবে লিখিত। এতে হলফকারীর পূর্ণ নাম, ঠিকানা, বাবা-মায়ের নাম, জাতীয়তা, বয়স, পেশা ও ধর্ম উল্লেখ করতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর। হলফকারী ব্যক্তি কী বিষয়ে, কী কারণে ও কেন হলফ করছেন তাঁর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে হবে।
•কোনো জমিজমা নিয়ে হলে জমির তফসিল উল্লেখ করতে হবে।
বিয়ে সংক্রান্ত হলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, বয়স ও পেশা উল্লেখ করতে হবে। বিয়ের তারিখ, কত টাকা দেনমোহর নির্ধারণ হয়েছে এবং দেনমোহরের কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে সেটাও উল্লেখ থাকতে হবে। প্রয়োজনে সাক্ষীদের নাম ঠিকানাও দিতে হবে। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও এসব তথ্য উল্লেখ করতে হবে। কী কারণে তালাক দেওয়া হয়েছে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকতে হবে। তবে বিয়ের হলফনামায় স্বামী ও স্ত্রী দুজনের স্বাক্ষর লাগবে। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে যিনি বিবাহবিচ্ছেদের হলফনামা করছেন শুধু তিনি স্বাক্ষর দেবেন।
•যেকোনো হলফনামায় অবশ্যই যে তারিখে হলফনামাটি সম্পাদন করা হচ্ছে সেই তারিখটি উল্লেখ করতে হবে।
•নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পূর্ব নাম কী ছিল এবং বর্তমান নামে কী সংশোধন হয়েছে তা স্পষ্ট করে লিখতে হবে।
•হলফকারীকে হলফনামার সঙ্গে পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি দিতে হবে এবং স্বাক্ষর করতে হবে।
•হলফনামার শেষ অংশে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে শনাক্ত করাতে হবে এবং আইনজীবীকে উল্লেখ করতে হবে এই হলফনামাটি তার সামনে সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনজীবীকে আইনজীবী সমিতির সদস্য নম্বরসহ হলফনামায় স্বাক্ষর করতে হবে। মনে রাখতে হবে যেকোনো হলফনামা করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে বিষয়ে হলফনামাটি করা হচ্ছে তার সত্যতার বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা।

কীভাবে সম্পাদন করতে হবে:

হলফনামা সম্পাদন করতে হয় ২০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। তবে বিবাহবিচ্ছেদের হলফনামা করতে হবে ৫০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। হলফনামা লেখার পর (কম্পোজ বা টাইপ) নোটারি পাবলিক বা প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সত্যায়ন করাতে হবে। নিয়ম হচ্ছে যিনি হলফনামাটি করলেন তিনি নোটারি পাবলিক কিংবা প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁর হলফনামাটি সম্পর্কে সত্যপাঠ করবেন। তখন নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেট হলফনামাটি যাচাই-বাছাই করে এর ওপর স্বাক্ষর দেবেন এবং একটি বিশেষ সরকারি সিল ব্যবহার করে এতে ক্রমিক নম্বর বসাবেন। হলফনামাটির একটি ফটোকপি তিনি রেখে দেবেন।

জেনে রাখুন:
•কোনো মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করলে ক্ষেত্রবিশেষে হলফনামা আদালতে দাখিল করতে হয়। বিশেষ করে দেওয়ানি মোকদ্দমায় অন্তর্বর্তীকালীন কোনো প্রতিকার চাইলে এবং এর জবাব দিলে বিচারপ্রার্থীকে হলফনামা দিতে হয় দরখাসে্তর বা জবাবের সঙ্গে। এই হলফনামায় ছবি লাগে না এবং আদালতের সেরেস্তাদারের সামনে স্বাক্ষর করতে হয়। সেরেস্তাদার যাচাই-বাছাই করার পর আদালতে প্রেরণ করেন। জমি কেনা-বেচার দলিলের সঙ্গে দলিল নিবন্ধনের সময় হলফনামা দিতে হয় সাবরেজিস্ট্রি অফিসে।
•নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে হলফনামা করার পর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। হলফনামা দিয়ে বয়স পরিবর্তন করা যাবে না। কোনো বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক আইন অনুযায়ী প্রথমে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। তারপর তাঁরা ইচ্ছা করলে হলফনামা করে রাখতে পারেন। পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিয়ে না করে শুধু এ হলফনামা সম্পন্ন করা উচিত নয়। শুধু হলফনামা সম্পাদন করলেই আইন অনুযায়ী বিয়ে হয়েছে বলা যাবে না। তালাকের ক্ষেত্রেও পারিবারিক আইন মেনে তালাক দিতে হবে। মুসলমান হলে কাজির মাধ্যমে তালাকের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই তালাকের হলফনামা সম্পন্ন করা উচিত।

Source: ainoainjibi.com

যেসব কারনে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারেন


যেসব কারনে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারেন

picture-10266

১. চার বৎসর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে।
২. দুই বৎসর স্বামী স্ত্রীর খোরপোষ দিতে ব্যর্থ হলে।
৩. স্বামীর সাত বৎসর কিংবা তার চেয়েও বেশী কারাদন্ড হলে।
৪. স্বামী কোন যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত তিন বছর যাবৎ দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে।
৫. বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বজায় থাকলে।
৬. স্বামী দুই বৎসর ধরে পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিতে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে।
৭. বিবাহ অস্বীকার করলে। কোন মেয়ের বাবা বা অভিভাবক যদি ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ে দেন, তা হলে মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙ্গে দিতে পারে, তবে যদি মেয়েটির স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সর্ম্পক (সহবাস) স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনি কোন বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারে।
৮. স্বামী ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লংঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে।
৯. স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে।

Code of Civil Procedure বা দেওয়ানী কার্যবিধি


CPC= Code of Civil Procedure বা দেওয়ানী কার্যবিধি
download (6)
১৯০৮ সালের ৫ নং আইন। অর্থাৎ ১৯০৮ সালের ২১ শে মার্চ প্রকাশিত পায়
এবং ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে কার্যকর হয়।
দেওয়ানী কার্যবিধিতে মোট ১৫৮ টি ধারা এবং ৫১ টি আদেশ আছে।
দেওয়ানী কার্যবিধি একটি পদ্ধতিগত (Procedural Law) আইন।
যদিও এই আইনে মূল আইনের (Substantive Law)কিছু উপাদান বিদ্যমান আছে।
১। দেওয়ানী কার্যবিধি কখন থেকে কার্যকর হয় ?
উত্তর- ১৯০৯ সালের ১ লা জানুয়ারী।
২। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় ডিক্রীদারের সংজ্ঞা দেওয়া আছে ?
উত্তর- ২(৩) ধারায়।
৩। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় সরকারী উকিল (Government Pleader) সম্পর্কে বলা হয়েছে ?
উত্তর- ২(৭)ধারায়।
৪। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় জজ (Judge)সম্পর্কে বলা আছে ?
উত্তর- ২(৮)ধারায়।
৫। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় রায় (Judgement)সম্পর্কে বলা আছে ?
উত্তর- ২(৯) ধারায়।
৬। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় জাজমেন্ট ডেটার এর বিধান আছে?
এবং Judgement Debtor কে ?
উত্তর- ২(১০)ধারায়।Judgement Debtor যার বিরুদ্ধে ডিক্রী হয়েছে।
৭। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় উকিল (Pleader)সম্পর্কে বলা হয়েছে ?
উত্তর- ২(১৫) ধারায়।
৮। নিষেধ না থাকিলে আদালত সকল প্রকার দেওয়ানী মোকদ্দমার বিচার করিবেন
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় বলা আছে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ ধারায় বলা আছে।
৯। প্রত্যেক মোকদ্দমা উহা বিচারের ক্ষমতাসম্পন্ন নিম্নতম আদালতে দায়ের করতে
হবে কত ধারায় বলা আছে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫ ধারায়।
১০। যেখানে বিষয়বস্তু অবস্থিত, সেখানে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে কোথায় বলা
আছে?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৬ ধারায়।
১১। বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত সম্পত্তির মোকদ্দমা যেখানে
দায়ের করতে হবে কত ধারার বিধান ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ ধারার।
১২। একাধিক আদালতের এখতিয়ার অনির্দিষ্ট হলে যেখানে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে কত ধারার বিধান ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৮ ধারার।
১৩। দেওয়ানী মোকদ্দমা স্তানান্তরের দরখাস্ত কত ধারায় করতে হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ২৪ ধারায়।
১৪। আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে হয় কত ধারায় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৪ ধারায়।
১৫। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় হাইকোর্টে রিভিশনের দরখাস্ত করতে হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারায়।
১৬। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় জজকোর্টে রিভিশনের দরখাস্ত করতে হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(২)ধারায়।
১৭। বিবাদীর প্রতি সমন জারী কত ধারায় করতে হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ২৭ ধারায়।
১৮। মোকদ্দমার পক্ষভুক্ত করা হয় কোন বিধান মতে ?
উত্তর-দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১ নিয়ম-১০ মতে।
১৯। দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করা হয় কোন বিধান মতে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ ধারা ও আদেশ ৪ নিয়ম ১ মতে।
২০। বাদীর অনুপস্থিতির কারনে মোকদ্দমা খারিজ হলে ছানী/পুনরুজ্জীবিত করতে হয় কোন বিধান মতে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৯ নিয়ম ৯ মতে।
২১। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন কোন বিধান মতে করতে হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ নিয়ম ১ মতে।
২২। দেওয়ানী আদালত কোন বিধান বলে সময় মঞ্জুর করে থাকেন ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৮ ধারা এবং আদেশ ১৭ নিয়ম ১ মতে।
২৩। ডিক্রী কত প্রকার ?
উত্তর- ২য় প্রকার। যথাঃ (ক) প্রাথমিক ডিক্রি ও (খ) চূড়ান্ত ডিক্রি।
২৪। একতরফা ডিক্রী (Ex-parte Decree) কাকে বলে ?
উত্তর- বিবাদীপক্ষের অনুপস্থিতে বাদী পক্ষের অনুকুলে যে ডিক্রী প্রদান করে।
২৫। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধান মতে একতরফা ডিক্রী প্রধান করা হয় ?
উত্তর- আদেশ ৯ নিয়ম ৬ মতে।
২৬। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা রদ বা রহিত করা হয় কোন বিধান মতে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ নিয়ম ৪ মতে।
২৭। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধানে সেট অফ বর্নিত আছে? এবং সেট অফ কি ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৮ নিয়ম ৬(১)। সেট অফ কোন মোকদ্দমায় বাদীর দাবীর বিরুদ্ধে বিবাদী কর্তৃক টাকার পাল্টা দাবী।
২৮। দেওয়ানী প্রকৃতির মোকদ্দমা কি ?
উত্তর- যে মোকদ্দমায় সম্পত্তির স্বত্ব বা পদের অধিকার সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বিত
া করে।
২৯। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা দায়েরের পর যদি বিবাদী তার সমস্ত বা আংশিক সম্পত্তি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয় তাহলে বাদীর করনীয় কি ?
উত্তর- রায়ের পূর্ ক্রোকের আবেদন করা।
৩০। দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬ নিয়ম ১ এর বিধান কি ?
উত্তর- প্লিডিংস।
৩১। বাদী যে সকল কারনের উপর ভিত্তি করে মোকদ্দমা দায়ের করে তাকে কি বলে? উত্তর- কজ অব এ্যাকশন।
৩২। Local Inspection করা হয় দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধান মতে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ নিয়ম ৭ মতে।
৩৩। Local Investigation করা হয় দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধান মতে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৬ নিয়ম ৯ মতে।
৩৪। দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪০ নিয়ম ১ এর বিধান কি ?
উত্তর- রিসিভার নিয়োগ।
৩৫। কোন ডিক্রীর বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না ?
উত্তর- সোলে ডিক্রী।
৩৬। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধানে Issue বা বির্চায বিষয় সম্পর্কে আলোচনা
করাহয়েছে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪ নং আদেশে।
৩৭। ইস্যু বা বিচার্য বিষয় কয় প্রকার ?
উত্তর- ২ প্রকার। যথাঃ (ক) আইনগত ও (খ) তথ্যগত।
৩৮। মোকদ্দমার এক পক্ষের স্বীকৃত্ব এবং অপর পক্ষের অস্বীকৃত্ব প্রত্যেকটি বিষয় কি? উত্তর- বিচার্য বিষয়।
৩৯। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত না মঞ্জুর হলে কি করবেন এবং কত ধারা মতে ?
উত্তর- মিস আপীল। ১০৪ ধারা মতে।
৪০। আপীল রিজেক্ট হলে কি করবেন ?
উত্তর- রিভিশন।
৪১। আরজি খারিজের সিদ্ধান্ত কি ?
উত্তর- ডিক্রী।
৪২। আদালতের নির্দেশ পালনে ব্যর্থতায় আরজি খারিজ কি ?
উত্তর- আদেশ।
৪৩। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধান মতে হলফনামা দিতে হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১৯ নিয়ম ১ মতে।
৪৪। ডিক্রী রদ হলে কি করতে হবে ?
উত্তর- রিভিশন।
৪৫। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় কোড (Code) উল্লেখ আছে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ২(১) ধারায়।
৪৬। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় রুল(Rule)উল্লেখ আছে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ২(১৮)ধারায়।
৪৭। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারা মতে উকিল নিয়োগ করা হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩ নিয়ম ৪ মতে।
৪৮। আদালত সাক্ষীর প্রতি সমন জারী করেন কোন বিধান মতে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১৬ নিয়ম ১ মতে।
৪৯। মোকদ্দমা দায়েরের পর বাদী মোকদ্দমায় হেরে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিলে কোন বিধান মতে আরজি প্রত্যাহার করবেন ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৩ নিয়ম ১ মতে।
৫০। আপীল পর্যায়ে কোন ধারা মতে বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি করা যায় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯-গ ধারা মতে।
৫১। ডিক্রী জারী করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির কত বিধান মতে আবেদন করতে
হবে ? উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারা ও আদেশ ২১ নিয়ম ১০ মতে।
৫২। দেওয়ানী কার্যবিধির কোথায় সত্যপাঠ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬ নিয়ম ১৫ ।
৫৩। যেক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা রয়েছে অথবা
প্রস্তাবিত সংশোধনীর কারনে মোকদ্দমার প্রকৃতি পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা থাকে সে
ক্ষেত্রে কি হবে ?
উত্তর- আরজি সংশোধন করা যাবে না।
৫৪। নিম্নের কোন ধরনের মোকদ্দমায় ডিক্রি জারীর প্রয়োজন নাই ?
উত্তর- ঘোষনামূলক ও স্বত্ব ঘোষনামূলক মোকদ্দমার ক্ষেত্রে।
৫৫। সহকারী জজ অথবা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে কি করা যায় ?
উত্তর- জেলা জজ আদালতে রিভিশন করা যায়।
৫৬। সহকারী জজ বা যুগ্ন জেলা জজ আদালতের আদেশ যদি আপীলযোগ্য হয় তাহলে দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারার বিধান মতে আপীল করা যাবে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৪ ধারা এবং আদেশ ৪৩ নিয়ম ১ অনুসারে।
৫৭। সহকারী জজ বা যুগ্ন জেলা জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন হবে
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় এবং কোথায় ?
উত্তর- জেলা জজ আদালতে ১১৫(২) ধারায়।
৫৮। অতিরিক্ত জেলাজজ কিংবা জেলাজজের আদেশের বিরুদ্ধে কোথায়
রিভিশন দাখির করতে হবে এবং কত ধারায় ?
উত্তর- ১১৫(১) ধারার অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে।
৫৯। দেওয়ানী কার্যবিধিতে মোট কতটি ধারা আছে এবং কতটি আদেশ ও তফশীল আছে ও কয়টি অংশ ?
উত্তর- ১৫৮টি ধারা এবং ৫১টি আদেশ ও ৫টি তফশীল আছে। ২ টি মৌলিক অংশে বিভক্ত।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন ও শাস্তি


পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন ও শাস্তি

 

391906-old-handsপিতা-মাতার সেবা করা প্রত্যেক সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব। পিতা-মাতা, দাদা-দাদি ভাই-বোন মিলে যৌথ পরিবারে মানুষের বসবাস পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে যৌথ পরিবারে বসবাস প্রথার পরিবর্তন হয়েছে। ক্রমেই মানুষ স্বাধীনভাবে বসবাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এতে দিন দিন ভেঙে পড়ছে দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা যৌথ পরিবার। সন্তানরা ভুলে যাচ্ছে মা-বাবার মায়ার বাঁধন। দেশের এমন পরিস্থিতি অনুধাবন করে সরকার পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩ পাস করে। এ আইনে পিতা-মাতা, দাদা-দাদি এবং নানা-নানির ভরণ-পোষণ করা সন্তানের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। অন্যথায় তাদের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হলো।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন

মা-বাবার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা এবং তাদের সঙ্গে সন্তানের বসবাস বাধ্যতামূলক করার বিধান করে সরকার ২০১৩ সালে এ আইন পাস করে।

মা-বাবার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩-এর ৩ ধারায় বলা হয়, প্রত্যেক সন্তানকে তার মা-বাবার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো মা-বাবার একাধিক সন্তান থাকলে সে ক্ষেত্রে সন্তানরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করবে।

এ আইনের ৩ ধারায় আরো বলা হয়, কোনো সন্তান তার বাবা বা মাকে অথবা উভয়কে তার বা ক্ষেত্রমতো তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধ নিবাস কিংবা অন্য কোথাও একত্রে কিংবা আলাদাভাবে বাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। তা ছাড়া সন্তান তার মা-বাবার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করবে। আইনে বলা হয়, কোনো সন্তানের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে বা নিকটাত্মীয় যদি বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় তাহলে তারাও একই অপরাধে অপরাধী হবে। ফলে তারাও একই শাস্তির মুখোমুখি হবে। এ আইনের মাধ্যমে বাবার অবর্তমানে দাদা-দাদি এবং মায়ের অবর্তমানে নানা-নানিরও ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

মা-বাবা ছাড়া আরো যারা ভরণ-পোষণ পাবেন

মা-বাবার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩-এর ৪ ধারা অনুযায়ী, মা-বাবার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ আইন অনুযায়ী দাদা-দাদি, নানা-নানিকেও ভরণ-পোষণ দিতে হবে। তবে সে ক্ষেত্রে পিতা যদি বেঁচে থাকে তাহলে সন্তানকে দাদা-দাদির এবং মাতা বেঁচে থাকলে নানা-নানির ভরণ-পোষণ করতে হবে না। ভরণ-পোষণ বলতে খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বসবাসের সুবিধা এবং সঙ্গ প্রদান করতে আইনে বলা হয়েছে।

ভরণ-পোষণের পরিমাণ

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনের ৩ এর (৭) অনুযায়ী, কোনো পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে, সন্তানদের সহিত বসবাস না করিয়া পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত পিতা বা মাতার প্রত্যেক সন্তান তাহার দৈনন্দিন আয়-রোজগার, বা ক্ষেত্রমতো, মাসিক আয় বা বাৎসরিক আয় হইতে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, বা ক্ষেত্রমতে, উভয়কে নিয়মিত প্রদান করিবে। অথবা মাসিক আয়ের কমপক্ষে দশ ভাগ পিতা-মাতার বরণ পোষণ করিবেন।

আইন অমান্যকারীর বিচার

কোন ব্যক্তি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন আমান্য করলে অপরাধের আমলযোগ্যতা, বিচার ও জামিন সংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, এ ধরনের অপরাধ প্রথম শ্রেণীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচারযোগ্য হবে। কোনো আদালত এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সন্তানের বাবা বা মায়ের লিখিত অভিযোগ ছাড়া আমলে নেবে না। বিলটিতে আপস-নিষ্পত্তির ধারাও সংযুক্ত করা হয়েছে।

আইন অমান্যকারীর শাস্তি

পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩-এর ৫ ধারার (১) অনুযায়ী, যদি কোনো প্রবীণ তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আনেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

করণীয়

মা-বাবার ভরণ-পোষণ আইন সম্পর্কে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকতা আটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্কে এত পরিবর্তন এসেছে যে, বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আমাদের ভাবতেই হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সবাই নিজের মতো করে পৃথকভাবে বাস করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ফলে যৌথ পরিবারের প্রতি আগ্রহ কমছে। অসহায় ও সহায়-সম্বলহীন বৃদ্ধ বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানির প্রতি তাদের সন্তানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ করার সময় এসেছে। পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থায় মা-বাবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইন প্রণয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকার সময়োপযোগী এই আইন করেছে। এখন প্রয়োজন যেসব পরিবারে পিতা-মাতা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনা এবং মাসিক আয় থেকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের একটি ব্যবস্থা করা।’

বিক্রয়ের বায়না চুক্তি, দান দলিল ও বন্ধক দলিল রেজিস্ট্রি ফি


বিক্রয়ের বায়না চুক্তি, দান দলিল ও বন্ধক দলিল রেজিস্ট্রি ফি

7-bigstock-stamp-that-is-used-by-a-notary-41334763-copy

রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) আইন ২০০৪ এ নতুন সংযোজিত ৭৮এ ধারা অনুসারে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির বায়না চুক্তি, দান দলিল ও বন্ধক দলিল রেজিস্ট্রি ফি হবে নিমড়বরূপঃ

(এ) স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির বায়না চুক্তি রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফি হবেঃ
(i) সম্পত্তি বিক্রয়ের বায়না/চুক্তিপত্রের জন্য ষ্ট্যাম্প শুল্ক মাত্র ১৫০ টাকা।
(ii) বিক্রয়তব্য সম্পত্তির বিক্রয় মূল্য পাঁচ লাখ টাকার বেশী না হলে ফি ৫০০ টাকা। (iii) সম্পত্তির বিক্রয় মূল্য পাঁচ লাখ টাকার বেশি কিন্তু পঞ্চাশ লাখ টাকার বেশী না হলে ফি ১০০০ টাকা।
(iv) সম্পত্তির মূল্য পঞ্চাশ লাখ টাকার বেশী হলে ফি ২০০০ টাকা।

(বি) দান দলিল রেজিস্ট্রি ফিঃ

মুসলিম পারসোনাল ল’ (শরীয়ত) অনুসারে স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তান, দাদা-দাদী ও নাতি-নাতনী, সহোদর ভাই-ভাই, সহোদর বোন-বোন এবং সহোদর ভাই ও সহোদর বোনের মধ্যে যে কোনো স্থাবর সম্পত্তির দান দলিল বা দান চুক্তি রেজিস্ট্রি ফি মাত্র ১০০ টাকা।

(সি) বন্ধক (Mortgage)চুক্তি রেজিস্ট্রি ফিঃ

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২ এর ৫৯ ধারার বিধান অনুসারে-

(i) বন্ধবী অর্থের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে না হলে ফি বন্ধকী অর্থের ১% তবে ২০০ টাকার নিমেড়ব নয় এবং ৫০০ টাকার ঊর্ধ্বে নয়।
(ii) বন্ধকী অর্থের পরিমাণ ৫ লাখ টাকার উপরে কিন্তু বিশ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে না হলে ফি বন্ধকী অর্থের ০.২৫% (শূন্য দশমিক এক শূন্য শতাংশ) টাকা হারে তবে ৩০০০ টাকার কম নয় এবং ৫,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে নয়।
(iii) বন্ধকী অর্থের পরিমাণ বিশ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে হরে সে চুক্তি রেজিস্ট্রি ফি লাগবে বন্ধকী অর্থের ০.১০% (শূন্য দশমিক এক শূন্য শতাংশ) টাকা হারে তবে ৩০০০ টাকার কম নয় এবং ৫,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে নয়।