আইন না জানা কোন অজুহাত নয়


আইন জগতে একটি বহুল প্রচলিত ম্যাক্সিম হলো

law-books_1আইন না জানা কোন অজুহাত নয়।

ল্যাটিন ভাষায় Ignorantia juris non excusat. কেউ একটি ভুল করে এসে অজুহাত দিতে পারবেনা যে ওহ আমি তো জানতামনা যে আমি যা করেছি তা আইনে নিষিদ্ধ। সংসদ বা অথরিটি তথা সরকার যে আইন করবে, তা জনগণের জানা থাকা উচিত। সরকার আইন প্রনয়ণ করে যাবে আর তা জেনে নেওয়ার ও সেই আইনমতে চলার দায়িত্ব জনতার। সরকারের প্রতিটি নাগরিকের কানের কাছে এসে বলা বাস্তবসম্মত নয় যে অমুক আইন হয়েছে, এখন থেকে অমুক কাজটি করা যাবেনা। তাছাড়া, কেউ যদি সংশ্লিষ্ট আইন জানা থাকার পরও দাবী করে বসে যে সে আইনটি সম্পর্কে জানতোনা তাহলে কি হবে? সে-ক্ষেত্রে হয়তো বার্ডেন অব প্রুফ সোজা গিয়ে পড়বে ক্লেইম্যান্ট আসামী/বিবাদীর উপরঃ তুমিই প্রমান কর যে তুমি আইনটা জানতেনা! আর এই অজুহাতকে প্রশ্রয় দিলে জনতা তো আইন জানতেও আগ্রহী হবেনা। এসব-ই ট্রাডিশনাল এ্যাপ্রোচ। কিন্তু আজকাল এই এ্যাপ্রোচের যথেষ্ট সমালোচনা হচ্ছে। আসুন দেখি, এই এ্যাপ্রোচের বিপরীতে আধুনিক আইনবিদগণ কি ভাবছেন।

আমরা যে due process এর কথা জানি, তার অন্যতম একটি প্রিন্সিপল হল Principle of fair warning, অর্থাৎ আইনে কি নিষেধ করা হলো না হলো তা জনতাকে অবশ্যই যুক্তিসঙ্গতভাবে সতর্ক করতে হবে। সরকার অনেকসময় অনেক কঠোর শাস্তির বিধান-সম্বলিত আইন করে রেখে দিতে পারে, যা জনতা না-ও জানতে পারে। এখন সেই জনতার কেউ যদি সেই আইনের আওতায় চলে আসে ও আইন না জানার অজুহাত দেখায়, আর আদালত যদি তাকে ‘নো এক্সকিউজ’ বলে সাজা দিয়ে দেয়, তাহলে কি তার প্রতি অবিচার হবে না? সরকারকে অবশ্যই যথেষ্ঠ পরিমানে আইনটির প্রচার প্রচারণা চালানো উচিত। শুধু গেজেটে প্রকাশ করা কি যথেষ্ট? এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ল’তেও আমরা পড়েছি, কারও বিরুদ্ধে কোন এ্যাকশন নিতে গেলে পূর্বে তাকে যুক্তিসঙ্গত সময় দিয়ে নোটিশ করতে হয়, জানাতে হয়, সতর্ক করতে হয়।

একটা আইন কেউ জানতো কি জানতোনা তা নির্ণয় করা অবশ্য একটি জটিল ব্যাপার। এজন্য নানান মেকানিজম নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা হচ্ছে। যেমন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে এলাকায় বাস করে সে এলাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ (যাদের শিক্ষাদীক্ষা ও বুদ্ধির একটি স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে) আইনটি জানে/জানতো কিনা।

আমাদের দেশের অবস্থা একটু চিন্তা করা যাক। দেশের অধিকাংশ লোক এখনও সুশিক্ষিত নয়। রাষ্ট্র বা সরকারসমূহ জনতার শিক্ষার যথেষ্ঠ বন্দোবস্ত করেনি, করেছে কি? সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র এক্ষেত্রে সবসময় ‘চেষ্টা’ করে থাকে। তারমধ্যে আমাদের আইনগুলোর ভাষা হলো ইংরেজী। ইদানীং কিছু আইন বাংলায় হচ্ছে। কৃষক শ্রমিক জনতা এই আইনের কতটুকুই বা বুঝবে? এমনিতেই কিন্তু আইনের ভাষা (সঙ্গত কারণে) বেশ জটিল। একটা আইন শুধু গেজেটে প্রোমালগেট করাই কি যথেষ্ট? শিক্ষিত লোকজনও কি স্বাভাবিকভাবে খোঁজখবর রাখে, কোন আইনটা পাশ করলো সংসদ? আবার, এই আইনগুলো জনতা কোথায় কিভাবে পাবে বা পড়তে পারবে তা কি তারা জানে? তাদের কি সেই সক্ষমতা আছে? ইন্টারনেটে, ধরা যাক, আইনগুলো পাওয়া যায়। দেশের সাধারণ মানুষ কি ইন্টারনেট থেকে আইন উদ্ধার করে তার পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম? সক্ষম নয় বলে তার দায় কতটুকু তাদের উপরে চাপানো যায়? এখানে একটি বড় ফাঁক থেকে যাচ্ছে, নয় কি?

আবার প্রতিটি আইনের বিধি বিধান জনগণের সামনে যথেষ্ট সহজ ও স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হওয়া বাঞ্চনীয়। Void-for-vagueness doctrine নামে আমেরিকায় বিচারিক সিদ্ধান্ত তথা কমন ল’ হতে উদ্ভাবিত একটি ডকট্রিন আছে যার মূল কথা হলোঃ “men of common intelligence cannot be required to guess at the meaning of [a criminal] enactment.” একটা আইনের অর্থ সাধারণ-বুদ্ধির একজন মানুষ বুঝবে – তা কি আশা করা ঠিক? শুধুমাত্র আইন অস্পষ্ট থাকায় অনেক আসামীকে মার্কিন আদালত খালাস দিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে আমেরিকার ল্যান্ডমার্ক মামলাটি হলো Lambert v. California, 355 U.S. 225 (1957) যেখানে সূপ্রীম কোর্ট ঘোষণা করেন, অস্পষ্ট আইনের আওতায় কাউকে সাজা দেওয়া অসাংবিধানিক।

লুৎফর রহমান শিশির
Senior Assistant Judge at Bangladesh Judicial Service

Collect From:https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=964738100222784&id=238456752850926

রিমান্ড দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ আইন এবং নিয়ম আছে।


রিমান্ড দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ আইন এবং নিয়ম আছে।ment-of-the-paddle-2c-1912

 

রিমান্ডের আইনে বলা হয়েছে- তদন্তের স্বার্থে এবং সত্য উদঘাটনের স্বার্থে যদি প্রয়োজন হয় তাও সে রেয়ার কেসের ক্ষেত্রে রিমান্ড দেয়া যেতে পারে। শুধু তাই নয় স্পষ্টভাবে বলা আছে – কি কারণে রিমান্ড প্রয়োজন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ম্যাজিস্ট্রেট বা হাকিমের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদের দৃষ্টিকোণ থেকে রিমান্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আসামীর স্বার্থ সাক্ষ্য আইনে মূল্যহীন। আর নির্যাতনের মাধ্যমে যদি কোনো তথ্য পাওয়া যায় সেটি এভিডেন্স হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। রিমান্ডের ওপর ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব হাকিম বা বিচারকদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। বাছ বিচার করে , সুস্পষ্টভাবে কেস স্টাডি করে , কি কারণে রিমান্ড চাচ্ছে তা বিশ্লেষণ করে রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করা উচিত। অতি সাধারণ কারণে এবং মামুলী মামলার ক্ষেত্রেও রিমান্ড চাওয়া উচিত নয়। এধরনের রিমান্ডকে উচ্চতর আদালতে অবশ্যই ডিসক্যারেজ করা উচিত। যে কোনো কেসে রিমান্ড চাওয়াটা যেন অভ্যাসে পরিণত না হয়। রিমান্ড বা রিমান্ডের নামে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা সংবিধানে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ । তাছাড়া জুডিশিয়াল কাস্টডিতে আসামী যে সাক্ষ্য দেয় তার কোন দাম নেই। ক্রিমিনাল জুরিসপ্রুডেন্সের ক্ষেত্রে এ ধরনের সাক্ষ্য মূল্যহীন এবং আইনের পরিপন্থী। রিমান্ড কাদের ক্ষেত্রে নেয়া যেতে পারে সে বিষয়ে আমাদের আইনের যে নির্দেশনা তা হচ্ছে – গ্যাং ডাকাতি, ডাকাতি, গুরুতর অপরাধ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এসব ক্ষেত্রে রিমান্ড দেয়া যেতে পারে এবং আগেকার দিনে এসব ক্ষেত্রেই রিমান্ড চাওয়া হতো। রিমান্ডে নির্যাতনের মাধ্যমে যদি কারো স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় সেই স্বীকারোক্তির কোনো এভিডেনশিয়াল ভ্যালু নেই। আইনের দিক থেকে এটি মূল্যহীন। এটি অনেক কারণে করা হয়ে থাকে। অনেকে অবৈধভাবে পয়সা অর্জনের করে থাকে, অথবা কারো প্রতি প্রভাবিত হয়েও অনেক ক্ষেত্রে এটি করা হয়ে থাকে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে না বুঝে করে। এ বিষয়ে আইন ও সংবিধানের ওপর প্রোপার ট্রেনিং না থাকার কারণে অবৈধ এ বিষয়টির যথেচ্ছ ব্যবহার হয়।

আইন শিক্ষা (Law Education)

এডওয়ার্ড মার্শাল হল-এর আইন সাধনা; আইন উৎসাহী ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী দের জন্য


এডওয়ার্ড মার্শাল হল-এর আইন সাধনা; আইন উৎসাহী ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী দের জন্য।

bangladesh-army-online-dhaka-guide

যদি কেউ আইনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগ থেকে নেশার মত শুধু আইন সাধনা করতে থাকেন এবং অধিক কাজের ফলশ্রুতিতে মৃত্যুমুখে পতিত হন তাহলে আপনি তাকে কি বলবেন? যদি কেউ যৌবনে আইন ও ক্যারিয়ারের নেশায় মাতাল হয়ে নিজ-সংসার তুচ্ছ জ্ঞান করেন এবং ফলশ্রুতিতে অতি সুন্দরী ও ললনাময়ী স্ত্রী ও যদি তাকে ত্যাগ করেন তাহলে ওই আইনী আশেককে আপনি কি নামে ডাকবেন? আপনি তাকে যেভাবেই মূল্যায়ন করেন না কেন আমার চোখে সে আইনের মস্ত বড় সাধক। হ্যাঁ, আজকের আলোচ্য উক্ত সাধকের নাম ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হল। বৃটিশ ভারতের পটভূমিতে রচিত ক্যালকাটা হাইকোর্ট তথা আদালত পাড়া কেন্দ্রিক উকিল-ব্যারিষ্টারদের দৈনন্দিন জীবন-আচার ভিত্তিক চিত্র উল্লেখে ‘শংকর’ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘কত অজানারে’র মাধ্যমে সর্বপ্রথম ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হলের নাম ও সুনাম সম্পর্কে প্রথম অবগত হবার সুযোগ লাভ করি। প্রচন্ড আগ্রহ থেকে পরবর্তীতে তাঁর সম্পর্কে ইন্টারনেট ও পুস্তকে জানার চেষ্টা করি। তারই ফলশ্রুতি আজকের আইন সাধকদের জীবনী পর্বে ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হলের জীবনী শ্রদ্ধাভরে আলোচনা।

Sir Edward Marshall Hall KC, জন্ম ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৫৮ Brighton, England. এবং মৃত্যু২৪ ফেব্রুয়ারী, ১৯২৭. তিনি ছিলেন একজন ইংলিশ ব্যরিষ্টার। সমসাময়িককালে লোকজন তাকে সবচে’ বেশি যে নামে চিনতেন তা হল তিনি ছিলেন ফৌজদারী মামলার এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী আসামী পক্ষের কৌশলী। তাঁর অসাধারণ বাচন ভঙ্গি ও জবানবন্দী ও জেরার করার ক্ষমতা তাকে তাঁর পেশার সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। ইতিহাসে আলোচিত অনেক কুখ্যাত খুনের মামলা থেকে নিরপরাধ আসামীদের ছাড়িয়ে আনার সুখ্যাতি তাকে “The Great Defender” নামে পরিচিত করেছিল।

মার্শাল হল ভিক্টোরিয়ান যুগ ও তৎপরবর্তী এডওয়ার্ডীয়ান যুগে ব্যরিষ্টার হিসাবে ইংল্যান্ডের আদালত সমূহ কাপিয়ে বেড়িয়েছেন। তখনকার সময় বড় বড় ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা ব্যাপকভাবে জন আগ্রহে পরিণত হয়েছিল কার সেগুলো দৈনন্দিন ভিত্তিতে জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোতে প্রচার হত। তখনকার সময়ে আলোচিত আইনজীবীদের মধ্যে তাঁর বাচনভঙ্গিগত ও উৎকর্ষতা, আইনী যুক্তি ও জেরা-জবানবন্দীর কৌশল অন্য অনেক আইনজীবীদের তুলনায় অধিক আকর্ষনীয় ও উপভোগ্য ছিল। বলা হয় যখন তিনি চাঞ্চল্যকর ফৌজদারী মামলাগুলোর শুনানি করতেন তখন আদালতের ভেতর বাইরে উৎসুক জনতার ঢল সামলানো কঠিন হয়ে পড়ত।

ব্যক্তিগত জীবনঃ
১৮৮২ সালের তিনি Ethel Moon নামীয় একজন মহিলাকে তিনি বিয়ে করেন যদিও তাঁর উক্ত বিবাহ সুখকর হয় নি। তারা প্রায়শই আলাদা থাকতেন এবং ১৮৮৯ সালে চূড়ান্তভাবে তারা আইনী পন্থায় আলাদা হয়ে যান। ১৯৯০ সালে মুন তাঁর বয়ফ্রেন্ড কর্তৃক গর্ভবতী হন এবং পরবর্তীতে ভুল এ্যাবোরশনের ফলে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন যদিও এই কারণে এথেল মুনের বয়ফ্রেন্ড, এবর্শনিষ্ট ও অন্য কতিপয়কে হত্যার দায়ে আইনের মুখোমুখি হতে হয়। বলা হয় এথেল মুনের মৃত্যুও ব্যারিস্টার মার্শালের আইন ক্যারিয়ার গঠনে ভূমিকা রাখে কেননা তিনি এথেলের প্রতি উদাসীনতার অনুশোচনা বোধ থেকে পুরুষ কর্তৃক নিষ্ঠুর আচরণের স্বীকার অনেক মহিলার পাশে দাড়িয়েছেন। যাই হোক, তিনি পরবর্তী জীবনে হেনেরিটা নামে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেন এবং সেখানে তাঁর এলনা নামে এক কন্যা সন্তান ছিল।
তিনি অত্যন্ত্য কাজ পাগল একজন আইনজীবী ছিলেন। ক্লায়েন্টের প্রতিটি মামলাকে তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়ে সেগুলো নিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, গবেষণা, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিংস ইত্যাদি কাজে নিমগ্ন থাকতেন। প্রতিটি মামলার প্রতি তাঁর এইরুপ গুরুত্ব আরোপ অন্য আইনজীবী থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে তাকে সাহায্য করেছিল। অতিরিক্ত কাজের ফলে নিজের প্রতি তিনি খেয়াল রাখতে উদাসীনতা প্রদর্শণন করেন এবং বলা হয় নিজের প্রতি এরুপ উদাসীনতা তাকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত করে যা তাকে ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যু মুখে তুলে দেয়।

Camden Town Murder
মার্শালের জীবনে তাকে “The Great Defender” নামে সুখ্যাতি আনতে যে কয়েকটি মামলা টনিকের মত কাজ করেছিল তাঁর মধ্যে একটি ছিল Camden Town Murder Case. ১৯০৭ সালে মার্শালের কাছে এই মামলার ব্রিফ আসে। এই মামলায় মার্শাল এমন এক আসামীকে বাচিয়েছিলেন যাকে ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে খুনের দায়ে আদালতে তাঁর সর্বোচ্চ সাজা হতে যাচ্ছে। কারণ ঘটনার আগে পরে তাঁর ভূমিকা, টি,আই প্যারেডে তাঁর সনাক্ত করণ, আসামী নিজ কর্তৃক এক্সট্রা জুডিশিয়াল স্বীকারোক্তি, পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্য ইত্যাদি বিবেচনায় প্রাইমা ফেসি সবাই ঊডকে দোষী সাব্যস্ত্য করবে- এটাই ছিল স্বাভাবিক। মামলার সংক্ষিপ্ত ঘটনা এই যে, এমিলি ডিমোক ওরফে ফিলিস নামিয় এক পতিতার গলাকাটা মৃতদেহ তাঁর ঘরে পাওয়া যায়। ঘরে এমন এক পোষ্ট কার্ড ও পাওয়া যায় যার হাতের লেখা ছিল আসামী রবার্ট উডের। পোষ্ট কার্ডে ঘটনার রাতে আসামী ভিক্টিমকে তাঁর সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য বলেন। শুধু তাই নয় ঘটনার পর আসামীর গার্লফ্রেন্ড রুবি ইয়ংকে (যিনিও একজন পতিতা ছিলেন) আসামী অনুরোধ করেন যে, যদি কেউ আসামী উডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে তাহলে যেন রুবি সেই জিজ্ঞাসাকারীকে এটা বলে দেয় যে, ঘটনার সময় আসামী উড রুবির সাথে ছিল। উল্লেখ্য, টি, আই প্যারেডে অন্য স্বাক্ষীগন আসামীকে সনাক্ত করেন, অন্য সাক্ষী তাঁর সাক্ষে আদালতে লেন যে, ঘটনার রাতে আসামিকে উক্ত ঘটনা স্থলের নিকটে দেখা গেছে। কেউবা আবার বলেন যে, আসামির সহিত মৃত ভিক্টিমকে স্থানীয় ব্রোথেলে দেখা গেছে। অন্য দিকে যদিও পোষ্ট কার্ডে প্রেরকের ঠিকানায় ‘এলিস’ নামে একজনের নাম লেখা ছিল কিন্তু হাতের লেখা যে রবার্ট উডের এটা প্রমাণ হয়েছিল। সুতরাং সব বিবেচনায় আসামী রবার্টই যে উক্ত এমিলি ডিমোকের হত্যার জন্য দায়ী এটা প্রতীয়মান হচ্ছিল যদিও খুনের মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হয় নি।

এডোয়ার্ড মার্শালের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছিল কেননা ১৯০৭ সালের আগে তখনকার সময় তাঁর আইন পেশায় খুব মন্দাভাব ছিল। ভাল কোন ব্রিফ তাঁর হাতে ছিল না। সুতরাং এই মামলায় মার্শাল তাঁর অসাধারণ ভাষা শৈলির ব্যাবহার সর্বোপরি অবিশ্বাস্য জেরার মাধ্যমে আসামী রবার্ট উডকে নিশ্চিত শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন। (সুযোগ পেলে Camden Town Murder Case-এর বিস্তারিত একদিন লিখবো, অসাধারণ এক মামলা। আমি একটি পূর্ণদিন সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পুরো মামলাটি পড়েছি। এক কথায় অসাধারণ)।

Green Bicycle Murder
মার্শাল হলের অন্যতম আরেকটি মামলা হচ্ছে R v Ligh যাকে Green Bicycle Murder মামলাও বলা হয়। এই মামলাটিও পূর্বে উল্লেখিত Camden Town Murder মামলার ন্যায় পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল যা ছিল পুরোপুরি আসামির বিরুদ্ধে। এই মামলায়ও আসামীর বিরুদ্ধে যে সকল সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপণ করা হয় তা হল আসামী রোনাল্ড লাইট যাকে দেখা ঘটনার দিন ভিক্টিম মৃত বেলা রিটকে গ্রীণ সাইকেলে চড়িয়ে ঘুরতে দেখা গিয়েছল। আসামির দখলে এমন এক অস্ত্র(রিভলবার) ছিল যেটি সদৃশ্য কোন অস্ত্র দ্বারা ভিকটিমকে হত্যা করা হয়েছিল। বলা হয় আসামী কাজ শেষ হবার পর উক্ত গ্রীন বাইসাকেল খালের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন। এছাড়া গ্রেফতার হবার পর আসামী পুলিশের নিকট মিথ্যা বলেছিলেন। ব্যারিস্টার মার্শাল হল এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক উথাপিত সাক্ষ্য প্রমানের অকাট্যতা প্রমানের ব্যার্থতাসমূহ তুলে ধরা সহ জেরার মাধ্যমে সাক্ষীদের বিশ্বাস যোগ্যতাতাকে খন্ডন করেন। এছাড়া কিছু ল’ পয়েন্টে ব্যারিস্টার মার্শাল হল এমন সব যুক্তি তুলে ধরেন যার মাধ্যমে জুরিরা আসামীকে খালাস দিতে বাধ্য হন। ল’ পয়েন্ট গুলোর মধ্যে একটি হল খুনের জন্য পূর্বপরিকল্পনার বিষয়টি অন্যতম। কিন্তু এই মামলায় ‘হেয়ার সে’ (বাংলাদেশে ডাইং দেক্লারেশনের অনুরুপ) নিয়মের উপর ভিত্তি করে এবং ভিক্টিমের প্রদত্ত জবান বন্দীর উপর নির্ভর করে ব্যারিস্টার হল এটা প্রমাণ করেন যে, খুনের সাথে আসামীর কোন যোগ সূত্রতা নেই।

সফলতার পাশাপাশি তিনি কতিপয় মামলায় ব্যার্থ্যও হয়েছেন। ১৯১২ সালে বিখ্যাত পয়জনিং মামলায় তিনি আসামী ফ্রেডারিক সেডনকে রক্ষা করতে ব্যার্থ হন যদিও বলা হয় সেডনের ফাঁসির জন্য সেডন নিজেও দায়ি কারণ সে আইনজীবীর পরামর্শ পুরোপুরি মানেন নি। এছাড়া তিনি জীবনে অসংখ্য ফৌজদারী মামলা পরিচালনা করেন এবং অনেককে তীক্ষ্ণ আইনী যুক্তি, কেস স্টাডি ইত্যাদির মাধ্যমে অনেককে রক্ষা করেন।

জীবনে তিনি সংসদে জন প্রতিনিধি হিসাবেও যাবার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তাঁর জীবনী বিবিসি’তে ৮ পর্বের ধারাবাহিকে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর বিভিন্ন বিখ্যাত মামলা গুলোও টেলিভিশনে উপস্থাপিত ও প্রচারিত হয়েছে। পরিশ্রম করলে, আইনকে ভালবাসলে যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে স্থান করে নেয়া যায় – ব্যারিস্টার মার্শাল হলের জীবনী থেকে এটাই হোক আমাদের শিক্ষা।

কেন আইন জানবেন?


কেন আইন জানবেন?

law-books_1

 

না জানাটাই আপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। যেখানে জানার সুযোগ রয়েছে সেখানে বেঁচে থাকতে হলে জানতে হবে আইন।  অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা মৌলিক চাহিদা। আর সেইসব মৌলিক চাহিদা পূরনে সচেতনভাবে শিক্ষা আহরণ করা কতর্ব্য। সেই শিক্ষার একটি অংশ আইন শিক্ষা যা পেলে আপনি অন্যসব অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করতে পারবেন সচেতনভাবে।

আইন জানা প্রতিটি নাগরিকের কতর্ব্য। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।

সেই দায়িত্ব পালন কল্পে প্রথমে আপনাকে জানতে হবে দেশের বিদ্যমান আইন সম্পর্কে। তাই বলছি আইন জানুন সচেতন হওন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের সুশাসন প্রয়োগে অংশীদার হওন।

আমরা এখানে চেষ্টা করব আইন জানাতে, বাকিটা আপনার দায়িত্ব।

অজ্ঞাত নামায় মামলা হলে কি করবেন?


অজ্ঞাত নামায় মামলা হলে কি করবেন?

law-books_1

কোন একটি ঘটনা ঘটার পর প্রায় দেখা যায় কয়েক জনকে আসামি করে অজ্ঞাত নামায় আরো অনেকে অথবা সংখ্যা উল্লেখ করে মামলা করা হয়। অপরাধটি সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না বা অপরাধীদের চিনেন না তাও আপনি সন্দেহভাজন হয়ে মামলার সাথে জড়িয়ে পরতে পারেন।
এরকম পরিস্থিতিতে নিজেকে বাচানোর জন্য যা করবেন :
১) ঘটনা বুঝে এলাকা থেকে গাঁ ঢাকা দিতে পারেন।
২) এলাকায় আজেবাজে আড্ডা দেওয়া বন্ধ করুন।
৩) অপরিচিত ব্যাক্তি থেকে সর্তক থাকুন।
৪) আজে বাজে কথা বলা পরিহার করুন।
৫) ঘটনা সম্পর্কে অন্যের কাছ থেকে জানার চেষ্টা হতে বিরত থাকুন।
৬) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সহজ সরল সত্য উওর দিন।
মনে রাখবেন পুলিশরা ঘটনার সূত্র ধরে আসামি খোঁজে না, আসামি ধরে ঘটনার সূত্র খোঁজে

জরুরী অবস্থা কখন জারি করা যাবে


জরুরী অবস্থা কখন জারি করা যাবে  এবং এর ফলাফল কি?

Emergency - Martial Law.gif

 

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশে যদি কোন অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় জান-মালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার সম্ভাবনা থাকে তখনই রাস্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে দেশে জরুরী অবস্থা জারি করতে পারেন।
সংবিধানে জরুরী অবস্থা নিয়ে যে ধারাগুলি আছে, দ্বিতীয় ১৪১ক(৩) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরিণ গোলযোগের দ্বারা বিপদ আসন্ন বলে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হলে প্রকৃত যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন।
তৃতীয়ত, ১৪১ক(১) উপ-অনুচ্ছেদের শর্ততে বলা হয়েছে যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হলে ঘোষণার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে।সুতরাং প্রকৃতপক্ষে জরুরি অবস্থা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। অবশ্য জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের শর্তটি যোগ করার পেছনে বাস্তব কারণও আছে।
রাষ্টপতি তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত ব্যতীত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। এরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই প্রতিস্বাক্ষরের বিধান করা হয়েছে।
জরুরি অবস্থার উদ্ভব হয়েছে কিনা কিংবা জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য বাংলাদেশ বা এর কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন কিনা এ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।
কোনো আদালতে তাঁর ষোষণার যর্থাথতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাবে না। আদালত শুধু এইটুকই দেখতে পারবে যে, জরুরি অবস্থা ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর নেয়া হয়েছেল কিনা।
জরুরি অবস্থা ঘোষণা হলে তার ফলাফল:
১. জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর পরবর্তী কোনো ঘোষণার মাধ্যমে রা তা প্রত্যাহার করা যাবে।
২. জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর তা সংসদে উপস্থাপন করতে হবে এবং ঘোষণা ১২০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রস্তাব দ্বারা অনুমোদিত না হলে ১২০ দিন পর তার কোনো কার্যকারীতা থাকবে না।
৩. যদি সংসদ ভেঙ্গে যাওয়া অবস্থায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় অথবা ঘোষণার ১২০ দিনের মধ্যে যদি সংসদ ভেংঙ্গ যায় তাহলে সংসদ পুর্নগঠিত হওয়ার পর প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রস্তাবের মাধ্যমে উক্ত ঘোষণা অনুমোদিত না হলে ৩০ দিন পর তার কোনো কার্যকারীতা থাকবে।
৪. জরুরি অবস্থা ঘোষণার সাথে সাথে সংবিধানের ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪২ অনুচ্ছেদ বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলো স্থগিত হয়ে যাবে এবং যতদিন জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকবে ততিদিন ঐ অধিকারগুলো স্থগিত থাকবে।
ফলে, নির্বাহী বিভাগ এসকল মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
আবার সংসদও এ সকল মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি যে কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারবে। জরুরি অবস্থা যখনই প্রত্যাহার করা হবে তখনই উক্ত অধিকারগুলো পুনরুজ্জীবিত হবে।
৫. জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি আদেশ দ্বারা যে কোনো মৌলিক অধিকারের বলবৎকরণের অধিকার স্থগিত করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ১৪১খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণার সাথে সাথে ৬টি মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়ে যায়।
ফলে, এদের বলবৎকরণের প্রশ্ন থাকেনা। বাকী থাকে ১২টি মৌলিক অধিকার। জরুরি অবস্থা চলাকালে এ ১২ টি অধিকার বহাল থাকে। তবে ১৪১(গ) অনুযায়ী উক্ত ১২টি অধিকারের যেকোনটির বা সবগুলো বলবৎকরনের অধিকারকে রাষ্ট্রপতি আদেশের মাধ্যমে স্থগিত করে দিতে পারেন।
দেশে এ পর্যন্ত যতোবার জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে, প্র্রত্যেকবারই ১২টি অধিকারও স্থগিত করা হয়েছে। কাজেই জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে এমন বিধান করা হয়েছে যাতে সবগুলো মৌলিক অধিকারই স্থগিত করা যায়।

মুসলিম আইনে সম্পত্তিতে নারীর অধিকার


মুসলিম আইনে সম্পত্তিতে নারীর অধিকার

9473280_orig.png

আধুনিক সমাজে এখনো নানা ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে নারীরা। আর এসব বঞ্চনার মধ্যে পরিবারের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা অন্যতম। সমাজ ব্যবস্থার পরির্বতনে এখনো অনেক নারী তাদের অধিকার সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নয়। গ্রামে এখনো অনেক নারী উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সাধারণত মুসলিম আইন অনুযায়ী বাবার সম্পত্তিতে একজন ছেলে সন্তান যে সম্পদের ভাগ পায়, কন্যা সন্তান তার অর্ধেক ভাগ পায়। বাবা ছাড়াও অন্য সম্পর্ক থেকেও নারীরা সম্পত্তির ভাগ পেয়ে থাকে। এসব বিষয় নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

দেনমোহরের অধিকার

মুসলিম আইন অনুযায়ী একজন মুসলিম নারী বিয়ের পর স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহর বাবদ একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পেয়ে থাকে। যা স্বামীকে অবশ্যই বিয়ের আগে অথবা বিয়ের পরে পরিশোধ করতে হয়। অন্যথা স্ত্রী তা যেকোনো সময় আইন অনুযায়ী আদায় করতে পারবে। কোনো কারণে স্বামী জীবিত অবস্থায় পরিশোধ করে যেতে না পারলে তার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি থেকে তা পরিশোধ করতে হয়।

ভরণ পোষণের অধিকার

মুসলিম আইন অনুযায়ী নারীদের যাবতীয় খরচের দায়-দায়িত্ব পুরুষের ওপর বর্তায়। পুত্রসন্তান উপার্জনক্ষম হলে তার ওপর সংসারের যাবতীয় দায়দায়িত্ব এসে পড়ে। আর সে যখন স্বামী তখন তাকে স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে হয়, সে যখন বাবা তখন তাকে তার ছেলেমেয়েদের ভরণপোষণ দিতে হয় এবং মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে হয়। যখন সে ভাই তখন ছোট ভাইবোনদের ভরণপোষণ এবং অবিবাহিত বোনদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে হয়। এ ছাড়া আমাদের দেশে মা-বাবার ভরণপোষণ নিয়ে আলাদা আইনও রয়েছে। ইসলাম ধর্মে এসব দায়দায়িত্ব থেকে নারীকে অব্যাহতি দিয়ে শুধু তা পুরুষের ওপরই অর্পণ করা হয়েছে। বিপরীতে কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে এসব দায়িত্ব পালন ঐচ্ছিক ব্যাপার। সে এসব দায়িত্ব পালন করতে না পারলে তাকে বাধ্য করা যাবে না।

উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রে

একজন পুরুষ উত্তরাধিকারসূত্রে মা-বাবার সম্পত্তি থেকেই অংশ পায়। একজন নারী সন্তান হিসেবে মা-বাবার কাছ থেকে, স্বামী মারা গেলে স্ত্রী হিসেবে স্বামীর কাছ থেকে, মা হিসেবে সন্তানের কাছ থেকে সম্পত্তির অংশ পায়। সব অংশ যোগ করলে এবং উল্লিখিত সব দিক বিবেচনা করলে নারীর অংশের সম্পত্তি, মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া পুরুষের অংশের সম্পত্তির চেয়ে বেশিই হয়।

মানব পাচার আইন, শাস্তি ও করণীয়


নবপাচার আইন, শাস্তি ও করণীয়

বাংলাদেশ থেকে মানবপাচারের পরিমাণ দিনদিন বেড়েই চলেছে। অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নারী-পুরুষ পাচার করা হচ্ছে। চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হচ্ছে; অথবা পতিতাপল্লীতে বিক্রি করা দেওয়া হচ্ছে। দালালদের খপ্পরে পড়ে এভাবে জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে অনেকেরই। দেশে মানব পাচাররোধে আইন করা হয়েছে। যে আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছে। নিম্নে মানবপাচার আইন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

মানব পাচার কী

কোনো ব্যক্তিকে তার দেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে বিক্রি বা পাচারের উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখা, আশ্রয় দেওয়া বা অন্য কোনোভাবে সহায়তা করা হলে মানবপাচার হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া মানবপাচার আইন ২০১২ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির অধিকার হরণ করে জবরদস্তিমূলক শ্রম আদায়, দাসত্বমূলক আচরণ, পতিতাবৃত্তি বা যৌন শোষণ বা নিপীড়নের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে শোষণ বা নিপীড়ন করা হলে মানবপাচার হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কোনো বাড়ি, স্থান বা স্থাপনা; এবং জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হলেও সমান অপরাধ বলে ধরা হবে।

মানবপাচার আইন

আমাদের দেশে মানব পাচারবিষয়ক কোনো সুনির্দিষ্ট আইন ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মানবপাচার অপরাধের বিচার করা হতো।

২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম মানবপাচার প্রতিরোধ এবং এ সংক্রান্ত অপরাধের বিচারের জন্য একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। অপরাধের মাত্রাভেদে আইনের মধ্যে মানবপাচারের বিভিন্ন রকম শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

মানবপাচারের দণ্ড

এ আইনের ৬ ধারা অনুসারে মানবপাচার নিষিদ্ধ করে এর জন্য অনধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও কমপক্ষে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে আইনের ৭ ধারা অনুসারে, সংঘবদ্ধ মানবপাচার অপরাধের দণ্ড মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কমপক্ষে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

এ ছাড়া এ আইনের ৮ ধারা অনুসারে, অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র বা চেষ্টা চালানোর দণ্ড হিসেবে অনধিক সাত বছর এবং কমপক্ষে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড রাখা হয়েছে।

মানবপাচার আইন ২০১২-এর ৯ ধারা অনুসারে, জবরদস্তি বা দাসত্বমূলক শ্রম বা সেবা প্রদান করতে বাধ্য করার দণ্ড অনধিক ১২ বছর এবং কমপক্ষে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড রাখা হয়েছে।

এই আইনের ১০ ধারা অনুসারে, মানবপাচার অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অপহরণ, চুরি ও আটক করার দণ্ড এবং মানবপাচারের অপরাধ সংঘঠনের অভিপ্রায়ে বা যৌন শোষণ ও নিপীড়নের শাস্তি অনধিক ১০ বছর এবং কমপক্ষে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড রাখা হয়েছে। নবজাতক শিশু অপহরণ বা চুরির দণ্ড অনধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড রাখা হয়েছে।

এ আইনের ১১ ধারা অনুসারে, পতিতাবৃত্তি বা অন্য কোনো ধরনের যৌন শোষণ বা নিপীড়নের জন্য আমদানি বা স্থানান্তরের দণ্ড অনধিক সাত বছর এবং কমপক্ষে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড রাখা হয়েছে।

জামিন অযোগ্য আইন

এ আইনের অধীন অপরাধগুলো আমলযোগ্য, আপসের অযোগ্য এবং জামিন অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এ আইনের অধীনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে কোনো ব্যক্তি পুলিশ অথবা ট্রাইব্যুনালের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এ আইনের অধীন অপরাধগুলোর দ্রুত বিচারের জন্য দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারকের সমন্বয়ে মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। এ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার প্রতিটি জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে ওই জেলার মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল হিসেবে নিয়োগ বা ক্ষমতায়িত করতে পারবে।

মানব পাচাররোধে করণীয়

মানব পাচাররোধে মানবপাচার আইন ২০১২-এর সঠিক প্রয়োগ এবং সরকারিভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে মানবপাচারের সংখ্যা কমে আসতে পারে বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। মানবপাচার আইনের সঠিক ব্যবহার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে তৎপর হলে মানবপাচার কমে আসবে। দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারিভাবে মানুষকে বিদেশে যাওয়ার সুবিধা নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে হবে। এ ছাড়া পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। বলে মনে করেন অনেকে।

অসাধারন একটি লেখা। আশাকরি ভালো লাগবে..


অসাধারন একটি লেখা। আশাকরি ভালো লাগবে…

এক ভদ্র মহিলা পাসপোর্ট অফিসে এসেছেন পাসপোর্ট করাতে।
অফিসার জানতে চাইলেন- আপনার পেশা কি?
মহিলা বললেন, আমি একজন মা।
আসলে ,শুধু মা তো কোনো পেশা হতে পারেনা।
যাক, আমি লিখে দিচ্ছি আপনি একজন গৃহিনী।
মহিলা খুব খুশী হলেন। পাসপোর্টের কাজ কোনো ঝামেলা ছাড়াই শেষ হলো। মহিলা সন্তানের চিকিৎসা নিতে বিদেশ গেলেন। সন্তান সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসলো।

অনেকদিন পরে, মহিলা দেখলেন পাসপোর্টটা নবায়ন করা দরকার। যেকোনো সময় কাজে লাগতে পারে। আবার পাসপোর্ট অফিসে আসলেন। দেখেন আগের সেই অফিসার নেই। খুব ভারিক্কি, দাম্ভিক, রুক্ষ মেজাজের এক লোক বসে আছেন।

যথারীতি ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে অফিসার জানতে চাইলেন-
আপনার পেশা কি?
মহিলা কিছু একটা বলতে গিয়েও একবার থেমে গিয়ে বললেন-
আমি একজন গবেষক। নানারকম চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করি। শিশুর মানসিক এবং শারিরীক বিকাশ সাধন পর্যবেক্ষণ করে,সে অনুযায়ী পরিকল্পণা প্রণয়ন করি। বয়স্কদের নিবিড় পরিচর্যার দিকে খেয়াল রাখি। সুস্থ পরিবার ও সমাজ বিনির্মাণে নিরলস শ্রম দিয়ে রাষ্ট্রের কাঠামোগত ভিত মজবুত করি। প্রতিটি মূহুর্তেই আমাকে নানারকমের চ্যালেঞ্জের ভিতর দিয়ে যেতে হয় এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা মোকাবিলা করতে হয়। কারণ,আমার সামান্য ভুলের জন্য যে বিশাল ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

মহিলার কথা শুনে অফিসার একটু নড়ে চড়ে বসলেন। মহিলার দিকে এবার যেন একটু শ্রদ্ধা আর বিশেষ নজরে তাকালেন । এবার অফিসার জানতে চাইলেন-

আসলে আপনার মূল পেশাটি কি? যদি আরেকটু বিশদভাবে বলতেন।লোকটির আগ্রহ এবার বেড়ে গেলো।

আসলে, পৃথিবীর গুণীজনেরা বলেন – আমার প্রকল্পের কাজ এতো বেশি দূরহ আর কষ্ট সাধ্য যে, দিনের পর দিন আঙুলের নখ দিয়ে সুবিশাল একটি দীঘি খনন করা নাকি তার চেয়ে অনেক সহজ।

আমার রিসার্চ প্রজেক্ট তো আসলে অনেকদিন ধরেই চলছে। সর্বক্ষণ আমাকে ল্যাবরেটরি এবং ল্যাবরেটরীর বাইরেও কাজ করতে হয়। আহার,নিদ্রা করারও আমার সময়ের ঠিক নেই। সব সময় আমাকে কাজের প্রতি সজাগ থাকতে হয়। দুজন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অধীনে মূলত আমার প্রকল্পের কাজ নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চলছে।

মহিলা মনে মনে বলেন,দুজনের কাউকে অবশ্য সরাসরি দেখা যায়না।
(একজন হলেন, আমার স্রষ্টা আরেকজন হলো বিবেক)

আমার নিরলস কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ আমি তিনবার স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছি। (মহিলার তিন জন কন্যা সন্তান ছিল।)
এখন আমি সমাজবিজ্ঞান,স্বাস্থ্যবিজ্ঞান আর পারিবারিক বিজ্ঞান এ তিনটি ক্ষেত্রেই একসাথে কাজ করছি, যা পৃথিবীর সবচেয়ে জটিলতম প্রকল্পের বিষয় বলা যায়। প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ হিসাবে একটি অটিস্টিক শিশুর পরিচর্যা করে মানুষ হিসাবে গড়ে তুলছি, প্রতিটি মুহুর্তের জন্য।

‘ঊষর মরুর ধূসর বুকে, ছোট্ট যদি শহর গড়ো,
একটি শিশু মানুষ করা তার চাইতেও অনেক বড়।‘

অফিসার মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে মহিলার কথা শুনলেন । এ যেন এক বিস্ময়কর মহিলা। প্রথমে দেখেতো একেবারে পাত্তাই দিতে মনে হয়নি।

প্রতিদিন আমাকে ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা আবার কোনো কোনো দিন আমাকে ২৪ ঘন্টাই আমার ল্যাবে কাজ করতে হয়। কাজে এতো বেশি ব্যস্ত থাকতে হয় যে, কবে যে শেষবার ভালো করে ঘুমিয়ে ছিলাম কোনো রাতে,তাও আমার মনে নেই। অনেক সময় নিজের আহারের কথা ভুলে যাই।আবার অনেক সময় মনে থাকলেও সবার মুখে অন্ন তুলে না দিয়ে খাওয়ার ফুরসত হয়না । অথবা সবাইকে না খাইয়ে নিজে খেলে পরিতৃপ্তি পাই না। পৃথিবীর সব পেশাতেই কাজের পর ছুটি বলে যে কথাটি আছে আমার পেশাতে সেটা একেবারেই নেই। ২৪ ঘন্টাই আমার অন কল ডিউটি।

এরপর আমার আরো দুটি প্রকল্প আছে । একটা হলো বয়স্ক শিশুদের ক্লিনিক। যা আমাকে নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করতে হয়।সেখানেও প্রতিমুহুর্তে শ্রম দিতে হয়। আমার নিরলস কাজের আর গবেষণার কোনো শেষ নেই ।

আপনার হয়তো বা জানতে ইচ্ছে করছে, এ চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প পরিচালনায় আমার বেতন কেমন হতে পারে।
আমার বেতন ভাতা হলো- পরিবারের সবার মুখে হাসি আর পারিবারিক প্রশান্তি। এর চেয়ে বড় অর্জন আর বড় প্রাপ্তি যে কিছুই নেই।

এবার আমি বলি, আমার পেশা কি?
আমি একজন মা। এই পৃথিবীর অতিসাধারণ এক মা।

মহিলার কথা শুনে অফিসারের চোখ জলে ভরে আসে। অফিসার ধীরে ধীরে চেয়ার ছেড়ে ওঠেন। নিজের মায়ের মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে।তিনি খুব সুন্দর করে ফর্মের সব কাজ শেষ করে, মহিলাকে নমস্কার করে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেন। তারপর নিজের অফিস রুমে এসে একটি ধূসর হয়ে যাওয়া ছবি বের করে -ছবিটির দিকে অপলক চেয়ে থাকেন। নিজের অজান্তেই চোখের জল টপ টপ করে ছবিটির ওপর পড়তে থাকে ।

আসলে “মা”-এর মাঝে যেন নেই কোনো বড় উপাধির চমক।বড় কোনো পেশাদারিত্বের করপোরেট চকচকে ভাব।কিন্তু কত সহজেই পৃথিবীর সব মা নিঃস্বার্থ ভাবে প্রতিটি পরিবারে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।মাতৃত্বের গবেষানাগারে প্রতিনিয়ত তিলেতিলে গড়ে তুলছেন একেকটি মানবিক নক্ষত্র।

সেই মা সবচেয়ে খুশি হন কখন জানেন-
যখন সন্তান প্রকৃতই মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে ধনে নয়, সম্পদে নয়,বিত্তে নয়, ঐশ্বর্যে নয় শুধু চরিত্রে আর সততায় একজন খাঁটি মানুষ হয়।

……………….. (collected ).