উপকারী কিছু আরবী প্রবাদ- বাংলা অনুবাদ


❖ বুদ্ধির সীমা আছে কিন্তু বোকামীর
কোন সীমা নেই।

জ্ঞানী মূর্খকে চিনতে পারে কেননা সে জ্ঞানী।
পক্ষান্তরে মূর্খ
জ্ঞানীকে চিনতে পারে না,
কেননা সে মূর্খ।
❖ বন্ধুত্ব একটি ছাতার ন্যায়।
বৃষ্টি যতই প্রবল হয় ছাতার ততই
প্রয়োজন পড়ে।
❖ পা পিছলে পড়ে যাওয়া লজ্জার
কথা নয়।
বরং যথা সময়ে উঠে না দাঁড়ানোই
লজ্জার ব্যাপার।
❖ ভূল করা দোষের কথা নয় বরং ভূলের
উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা দোষণীয়।
❖ মানুষের সাথে বন্ধুত্ব ছিন্ন
করে অর্থ উপার্জন করতে যেও না।
কারণ, বন্ধুত্ব স্থাপনই অর্থাপর্জনের
গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
❖ মানুষের সাথে সে রূপ আচরণ কর
যেমন তারা পছন্দ করে। নিজের পছন্দ
মাফিক আচরণ কর না।
❖ তর্কে জেতা বুদ্ধিমানের কাজ নয়
বরং বুদ্ধিমানের কাজ হল
তর্কে না জড়ানো।
❖ আহমকের সাথে তর্ক কর না। কারণ,
মানুষ হয়ত দুজনের মাঝে পার্থক্য
করতে ভূল করবে।
❖ তোমার স্ত্রীর
রুচি বোধকে অবমূল্যায়ণ কর না। কারণ,
সে তোমাকে প্রথম পছন্দ করেছে।
❖ তোমার পিঠে কেউ ততক্ষণ পর্ন্তত
চড়তে পারবে না যতক্ষণ না তুমি পিঠ
নিচু কর।
❖ তুমি যতটা মূল্যবান
ততটা সমালচানার পাত্র হবে।
❖ যে অধিকার আদায়ের
পেছনে চেষ্টা চালানো হয় তা কখনই
বৃথা যায় না।
❖ ইমাম মুসলিম (রহ) বলেন:
“শরীরকে আরামে রেখে জ্ঞানার্জন
করা সম্ভব নয়।”
❖ বেলাল বিন রাবাহ (রহ বলেন: “পাপ
ছোট কি না তা দেখনা বরং দেখ যার
অবাধ্যতা করছ তিনি কত বড়।
❖ রাফেঈ বলেন:
“যদি তুমি দুনিয়াকে নতুন কিছু উপহার
দিতে না পার তবে তুমি দুনিয়ার
একটি বোঝা।”
❖ মিসরীয় সাহিত্যিক আব্বাস মাহমুদ
আক্কাদ বলেন: “তিনটি ভাল বই একবার
করে পড়ার চেয়ে একটি ভাল বই
তিনবার পড়া বেশি উপকার
১) পৃথিবীটা লবণাক্ত পানির মত। যতই
তা পান করবে পিপাসা ততই বাড়বে।
২)তুমি পাহাড়ের চুড়ার মত হইয়ো না।
কারণ, এতে তুমি মানুষকে ছোট
দেখবে আর মানুষও তোমাকে ছোট
দেখবে।
৩)চিরকাল অন্ধকারকে গালমন্দ
না করে ছোট্ট
একটি বাতি জ্বালানো অনেক ভাল।
৪)সব কিছু জানা তোমার জন্য আবশ্যক
নয়। কিন্তু যা কিছু বলছ তার সবটুকু
সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
৫)কুপে থুথু ফেলনা। কারণ, হয়ত
কখনো তোমার এ কুপ থেকে পানি পান
করার প্রয়োজন হতে পারে।
৬)গাছ থেকে যখন আপেল পড়ল তখন
সবাই বলল, গাছ থেকে আপেল পড়েছে।
কিন্তু সব মানুষের মধ্যে এক ব্যক্তিই
শুধু জানতে চাইল কেন আপেলটি পড়েছে?
৭)(আর তার মাধ্যমেই আবিষ্কৃত হল
মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।)
৮)জীবন চলার পথে পড়ে আছে অসংখ্য
পাথর। এতে তোমার চলার পথ যেন
থেমে না যায়।
বরং পাথরগুলো কুড়িয়ে তৈরি কর
সাফল্যের সিঁড়ি।
৯)যে হিংসা করে সে সবার
আগে নিজের ক্ষতি করে।
১০) আত্মতৃপ্তিতে ভোগা সংকীর্ণ
জ্ঞানের পরিচয়।
১০) যে অল্পতে তুষ্ট থাকে তার কাছে এ
পৃথিবীর সব কষ্ট সহজ হয়ে যায়।
১১) যদি নিজে নিজের ‘বিবেক’কে বড়
মনে কর তবে শত্রু সৃষ্টি হবে আর
যদি ‘হৃদয়’কে বড় কর তবে বন্ধু
বৃদ্ধি হবে।
১২) যার ভুল হয় সে মানুষ আর যে ভুলের
উপর স্থির থাকে সে শয়তান।
১৩) বাকপটু ও নির্বোধের
সাথে তর্কে যেও না। কারণ, বাকপটু
তোমাকে কথায় পরাজিত করবে আর
নির্বোধ তোমাকে কষ্ট দিবে
১৪) সম্পদ আসে কচ্ছপের মত আর যায়
হরিণের মত।
১৫) নির্বোধের কথার উত্তর না দেয়াই
তার উত্তর।
১৬) চরিত্রের কারণেই অনেক সম্মানিত
ব্যক্তি সম্মান হারিয়েছে আবার অনেক
নগণ্য ব্যক্তি কুড়িয়েছে বিরাট
সম্মান।
১৭) কোন ঘুমন্ত লোকের নিকট
বসে থাকা আর কোন ঘুমন্ত লোকের
পাশে না ঘুমানো ভদ্রতার ব্যপার।
১৮) যে কাউকে বিশ্বাস
করে না তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।
১৯) কোন মানুষকে সম্মান করা তার
হৃদয়ের মনি কোঠায় প্রবেশের চাবির
সমতুল্য।
২০) কোন জিনিসই অতিরিক্ত হওয়া ভাল
নয় দুটি জিনিস ছাড়া। এক: জ্ঞান দুই:
ভদ্রতা।
২১) বিপদে হা হুতাশ
করা আরেকটি বিপদ।
২২) জ্ঞানীর সম্পদ হল তার জ্ঞান আর
মূর্খের সম্পদ হল তার অর্থ।
২৩) যদি বাঘের দাঁত বের
হয়ে থাকতে দেখ তবে মনে কর না যে,
সে হাঁসছে।
২৪)
জ্ঞানী আগে চিন্তা করে পরে কথা বলে আর
নির্বোধ
আগে কথা বলে পরে চিন্তা করে।
২৫) যে অন্যের বিপদাপদ দেখে তার
নিকট নিজের বিপদ তুচ্ছ হয়ে যায়।
২৬) যার গোপনীয়তা প্রকাশ পেয়ে যায়
তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের
সংখ্যা বেড়ে যায়।
২৭) প্রকৃত বন্ধুরা তারকার মত।
তারকা সব সময় দেখা যায় না কিন্তু
সেগুলো আকাশেই থাকে।
২৮) ঘোড়াকে জোর
করে পানিতে টেনে নেয়া সম্ভব। কিন্তু
তাকে জোর করে পানি পান
করানো সম্ভব নয়।
২৯) ঝাড়ুদারের পেশা হল
আবর্জনা পরিস্কার করা। আর
যারা তাদেরকে ঘৃণা করে তাদের
পেশা হল: নোংরা ও
আবর্জনা সৃষ্টি করা।
৩০) ব্যর্থ মানুষেরা দু প্রকার। এক
প্রকার হল, যারা কাজের
চিন্তা করেছে কিন্তু কাজ করে নি।
আরেক প্রকার হল, যারা কাজ
করেছে কিন্তু চিন্তা করে তা করে নি।
৩১) কথা বলার আগে বিষয় নির্বাচন
করুন। আর বিষয় নির্বাচনে পর্যাপ্ত
সময় নিন যাতে তা পরিপক্ব হয়। কারণ,
মানুষের কথাগুলো ফলের মত।
সেগুলো পরিপক্ব হতে পর্যাপ্ত সময়ের
প্রয়োজন।
৩২) ছোট খাট বিষয়ে বিতর্ক
করলে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। কারণ,
আমাদের মাঝে এমন অনেক লোক
আছে যারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের
চেয়ে ছোট-খাট
বিষয়গুলো সম্পর্কে বেশি জ্ঞান রাখে।
৩৩) মানুষ যখন
কারো প্রশংসা করে তখন খুব কম লোকেই
তা বিশ্বাস করে। কিন্তু যখন
কিনা কারো বদনাম করা হয় তখন প্রায়
সবাই তা বিশ্বাস করে।
৩৪) যখন অনেক উঁচু স্তরে পৌঁছে যাও
তখন নিচের দিকে তাকাও যেন
দেখতে পাও কারা তোমাকে এ
পর্যায়ে পৌঁছতে সাহায্য করেছে। আর
আকাশের দিকে তাকাও যেন আল্লাহ
তোমার পদযুগল স্থির রাখেন। অর্থাৎ
যেন আল্লাহ তোমার এ
মর্যাদা ধরে রাখেন।
৩৫) যখন
হতাশা জীবনকে ঘিরে ফেলে তখন
হতাশার সাগরে আশার সেতু রচনা করুন
জীবন হয়ে উঠবে সুন্দর।
৩৬) মানুষ (তোমার কথায় বিরক্ত হয়ে)
তাদের কান বন্ধ করার
আগে তুমি নিজের মুখ বন্ধ কর আর মানুষ
(তোমার বিরুদ্ধে) মুখ খোলার
আগে নিজের কান খোল তবেই তুমি সফল
মানুষ হবে।
৩৭)
যে ব্যক্তি দ্বিমুখী নীতি নিয়ে জীবন
যাপন করে সে ব্যক্তি যখন মারা যায়
তার কোন নীতিই থাকে না।
৩৮) রাগ অবস্থায় যদি কথা বল
তবে এমন কথা বলে ফেলতে পর যার
জন্য তুমি সারা জীবন লজ্জিত থাকবে।
৩৯) সচ্চরিত্র মানুষের অনেক খারাপ
দিককে ঢেকে দেয় যেমন অসৎ চরিত্র
অনেক ভাল দিককে ঢেকে দেয়।
৪০) তোমার শক্তিমত্তা যখন
তোমাকে অন্যায়-অবিচারের
দিকে আহবান করে তখন আল্লাহর
শক্তিমত্তার কথা স্মরণ কর।
৪১) নীতি হীন মানুষ কাঁটা হীন ঘড়ির
মত।
৪২) মানুষের অস্থির ধমনীকে শান্ত
করার জন্য উপযুক্ত সময়ে একটি সুন্দর
কথা বলার চেয়ে কার্যকরী কোন
চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয় নি।
৪৩) সততা একটি ছোট গাছের মত।
সেটি লাগানোর পর
পরিচর্যা নেয়া প্রয়োজন যেন তা শক্ত
হয় ও বৃদ্ধি পায়।
৪৪) নম্রতার মাধ্যমে যা অর্জন
করা যায় কঠোরতা মাধ্যমে তা অর্জন
করা যায় না।
৪৫) বেশি কৌতুক করলে ব্যক্তিত্ব
চলে যায় আর বেশি হাসলে প্রভাব
ক্ষুণ্ণ হয়।
৪৬) পৃথিবীতে যত পাত্র
আছে তাতে কিছু রাখা হলে তার স্থান
ছোট হয়ে আসে। তবে জ্ঞানের পাত্র এর
ব্যতিক্রম। এতে যতই জ্ঞান ঢালা হয়
তত তা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
৪৭) মূর্খতার মত দরিদ্রতা আর জ্ঞানের
মত সম্পদ কিছু নেই
৪৮) লোকমান (রহ বলেন: মানুষ যখন
গর্ব করে সুন্দরভাবে কথা বলার
মাধ্যমে; তুমি তখন গর্ব কর
নীরবতা সহকারে অন্যের
কথা সুন্দরভাবে শোনার মাধ্যমে।
৫০) আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফ্ফা বলেন:
তুমি যদি করো উপকার কর
তবে সাবধান! কখনো তা তার
কাছে উল্লেখ কর না। আর কেউ
যদি তোমার উপকার করে তবে সাবধান!
কখনো তা ভুলো না।
৫১) তিনি আরও বলেন: যা কিছু শোন
সেগুলো থেকে সব চেয়ে ভাল
কথাগুলো লিখে রাখ। আর যা কিছু লেখ
সেগুলো থেকে সব
চেয়ে ভালোকথা গুলো সংরক্ষণ কর আর
যা কিছু শোন সেগুলো থেকে চেয়ে ভাল
কথাগুলো মানুষকে বল।
৫২) যে ব্যক্তি কাউকে গোপনে উপদেশ
দিল সে তাকে খুশি করল ও সুশোভিত
করল আর
যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে কাউকে উপদেশ
দিল সে যেন তাকে লাঞ্ছিত ও কলঙ্কিত
করল।
৫৩) জনৈক জ্ঞানী বলেন: সব কিছুই ছোট
আকারে শুরু হয় পাপ ছাড়া। কারণ, কেউ
বড় পাপ করতে শুরু
করলে আস্তে আস্তে তা তার নিকট ছোট
মনে হয়। আর কোন কিছু অতিরিক্ত
হলে তার মূল্য কমে যায় আদব
বা ভদ্রতা ছাড়া। কারণ, আদব যতই
বৃদ্ধি পায় তার মূল্য ততই বেড়ে যায়।
৫৪) জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস
করা হল, আপনি জ্ঞান কোথা থেকে অর্জন
করেছেন? তিনি বললেন, অন্ধের কাছ
থেকে। কারণ,
সে মাটিতে পা ফেলে না লাঠি দ্বারা তা ভালভাবে পরীক্ষা না করে।
৫৫) জনৈক দার্শনিক বলেন: মানুষ তিন
প্রকার। একশ্রেণীর মানুষ হল খাদ্যের
মত যাদের দরকার হয় সবসময়। আরেক
শ্রেণীর মানুষ হল, ওষুধের মত যাদের
দরকার হয় মাঝে মাঝে। আরেক শ্রেণীর
মানুষ হল রোগের মত যা আপনার কখনোই
দরকার হয় না।
৫৬)পানি গর্ত সৃষ্টি করে। কিন্তু
তা শক্তি দিয়ে নয় বরং অব্যাহত
পতনের মাধ্যমে।
৫৭)কথা যদি অন্তর থেকে বের হয়
তবে তা অন্তরে প্রবেশ করে। কিন্তু
তা যদি শুধু মুখ থেকে বের হয় তা কান
অতিক্রম করে না।
৫৮) ফুল থেকে শিক্ষা নাও প্রফুল্লতা,
ঘুঘু থেকে শিক্ষা নাও নম্রতা,
মৌমাছি থেকে শিক্ষা নাও শৃঙ্খলা,
পিপীলিকা থেকে শিক্ষা নাও কাজ আর
মোরগ থেকে শিক্ষা নাও খুব ভোরে ঘুম
থেকে উঠা।

অবশেেষ চাকরি গেল আহসানউল্লাহর সেই শিক্ষকের


বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক সফিউল্লাহ  বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ৪ মে থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকরির শর্ত অনুযায়ী তাকে চাকরিচ্যুত করেছে।”

55_Mahfuzur+Rashid+Ferdous_teacher_30042016_0002.jpg

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, ওই শিক্ষকের গ্রেপ্তারের দিন থেকে তাকে চাকরিচ্যুত দেখানো হয়েছে; তাকে কারণ দর্শানোর কোনও নোটিসও দেওয়া হয়নি।

এরই মধ্যে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই শিক্ষককে দুই দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

পরে শনিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার মহানগর হাকিম কাজী কামরুল ইসলামের কাছে জবানবন্দি নেন তিনি।

১৫ পৃষ্ঠায় জবানবন্দিতে ঘটনার পুরো দায় তিনি স্বীকার করেছেন বলে জানান আদালতের পুলিশ কর্মকর্তা এসআই পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

তড়িৎ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফেরদৌস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

কলাবাগান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা একটি মামলায় গত ৪ মে ভোরে রমনার একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

এর আগে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তালাক-ই-তৌফিজের মাধ্যমে তালাক


তালাক-ই-তৌফিজের মাধ্যমে তালাক

images (5)

তালাক-ই-তোফিজ স্ত্রীর নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নয়৷ এটি স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা৷ নিকাহনামা বা কাবিননামার ১৮ নং ঘরে স্বামী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করেছে কিনা? করে থাকলে কি শর্তে?এই প্রশ্নটি ছাপা থাকে৷ স্বামীর যে তালাক দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে সে ক্ষমতাটি যদি স্বামী স্ত্রীকে কাবিননামার ১৮ নং ঘর পূরণের মাধ্যমে প্রদান করে তবে স্ত্রী নিজ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন৷স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা শর্তযুক্ত বা শর্তহীন হতে পারে৷ স্ত্রী কর্তৃক এরূপ তালাক উচ্চারণ করা হলে বা বিয়ে ছিন্ন করা হলে সে তালাকের নাম তালাক-ই-তোফিজ৷ এক্ষেত্রে যেহেতু স্ত্রী তালাক দিচ্ছেন তাই তালাক সংক্রান্ত নোটিশ চেয়ারম্যানের কাছে এবং এর কপি স্বামীর কাছে পাঠাতে হবে৷

তালাক-ই-তোফিজ মুসলিম আইনে একটি কার্যকর সংযোজন৷ তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের দেশে কাবিননামার ১৮ নং ঘরটি ফাকা থাকে৷ ফলে ১৯৩৯ সালে মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে যে ঌটি কারণের কথা বলা আছে তা না থাকলে এবং খুলার মাধ্যমে স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছেদ না পেলে একটি মেয়ের পক্ষে বিয়ের বন্ধন থেকে মুক্তি পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে৷ এই অসুবিধার কথা চিন্তা করে কাবিননামার ১৮ নং ঘরে হ্যা যা শব্দটি ছাপানো হয়েছে৷ যাতে স্ত্রী অপেক্ষাকৃত কম জটিলতায় তালাক-ই-তোফিজের মাধ্যমে মুক্তি পেতে পারে৷ নিকাহ্নামার ১৮ নং ঘরটি এজন্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পূরণ করা উচিত৷ অনেকে এ বিষয়টি সম্পর্কে জানেনা এবং ঘরটি শূন্য থাকে৷ বিয়ে পড়ানোর সময় কাজীদের অবশ্যই দু’পক্ষকে এই ঘরটি সম্পর্কে বিশেষভাবে জানানো উচিত

ফৌজদারি মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য


ফৌজদারি মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য

download (8)

কিছু লিখিত-অলিখিত নৈতিকতা সব আইনজীবীরই থাকা উচিত। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী (ডিফেন্স ল ইয়ার) ও সরকারি পক্ষের কেঁৗসুলির (প্রসিকিউটর) জন্য পেশাগত জীবনে অবশ্যপালনীয় নীতিমালা হিসেবে বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপত্তি হয়েছে। কমন ল-ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোয় বিদ্যমান বিচারব্যবস্থায় বিভিন্ন বিচারিক নজির, সংবিধি অথবা নিয়ন্ত্রণকারী আইনজীবী সংগঠন (বার কাউন্সিল/অ্যাসোসিয়েশন) কর্তৃক নির্ধারিত/প্রণীত আচরণবিধির মাধ্যমে এসব নীতির উৎপত্তি হয়েছে। এসব নীতি পালনে ব্যর্থতার জন্য অনেক সময় একজন আইনজীবীকে ভর্ৎসনা, বরখাস্তসহ বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে পারে। তাই একজন আইনজীবীর পেশাগত জীবনে এসব নীতি মেনে চলা নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য।
অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীর কর্তব্য : বিচারক ও সরকারি কেঁৗসুলির সঙ্গে মামলা সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনায় অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীর সব সময়ই পেশাগত আচরণ করা উচিত। অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে সব সময় কার্যকর প্রতিনিধিত্ব করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব। অসাধু বা অনৈতিক আচরণ একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুনাম নষ্ট করতে পারে। এমনকি যেহেতু একজন ডিফেন্স ল ইয়ার অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করেন, তাই তার অসাধু বা অনৈতিক আচরণ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুনামও নষ্ট করতে পারে।
মক্কেলের প্রতি কর্তব্য : মক্কেলের প্রতি একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের প্রচুর দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আইনগত পরামর্শদাতা হিসেবে একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে কার্যকর ও মানসম্মত প্রতিনিধিত্ব করা নৈতিক দায়িত্ব। অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে যৌথভাবে মামলা পরিচালনার সময় একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলা নৈতিক দায়িত্ব। যুক্তিসঙ্গত দ্রুততা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে মামলা পরিচালনা করাও একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব। মক্কেলের সঙ্গে সম্পাদিত সব ধরনের যোগাযোগের গোপনীয়তা বজায় রাখা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব। মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সম্পর্কে যত দ্রুত সম্ভব তথ্যানুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তা মামলা পরিচালনায় ব্যবহার করা তার নৈতিক দায়িত্ব।
আদালতের প্রতি কর্তব্য : নৈতিক ও পেশাগত আচরণের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে আদালতের সামনে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বার্থ সংরক্ষণ করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের কর্তব্য। একজন ডিফেন্স ল ইয়ার কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের সামনে ভুল তথ্য বা আইনের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করবেন না। যেমন যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি ডিফেন্স ল ইয়ারের কাছে তার কৃত অপরাধের কথা স্বেচ্ছায় স্বীকার করেন, তবে আদালতের সামনে অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক ওই অপরাধ সংঘটিত হয়নি মর্মে জবানবন্দি প্রদানে একজন ডিফেন্স ল ইয়ার কখনো পরামর্শ দেবেন না। মামলা পরিচালনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির অনৈতিক ও অবৈধ নির্দেশনা অনুসরণ করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের জন্য অবশ্য অনুচিত। প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিগুলো যা সরাসরি অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুকূলে যায়, কিন্তু সরকারি পক্ষের আইনজীবী আদালতে উত্থাপন করেননি, সেসব আইন ও বিধিগুলো খুঁজে বের করে আদালতে উত্থাপন করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের অবশ্য-দায়িত্ব। তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তি ও মামলাসংশ্লিষ্ট অন্য সব পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান স্বার্থের দ্বন্দ্ব অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন। ফৌজদারি বিচার প্রশাসনের উন্নয়ন ও পুনর্গঠন এবং মূল আইন (সাবস্টান্টিভ ল) ও পদ্ধতিগত আইনে (প্রসিডিউরাল ল) যদি কোনো অপ্রতুলতা থেকে থাকে তবে তা খুঁজে বের করে নিরসনের উদ্যোগ নেয়া একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব।
রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি বা প্রসিকিউটরের কর্তব্য : উনিশ শতকের গোড়ার দিকে অধিকাংশ মামলাই অভিযোগকারী (ভিকটিম) ব্যক্তিগতভাবে নিজে পরিচালনা করতেন। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি (প্রসিকিউটর) অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। বর্তমানে রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি রাষ্ট্র ও ভিকটিম উভয়ের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন। ফৌজদারি মামলার কার্যকর পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি (প্রসিকিউটর) মুখ্য ভূমিকা রাখেন। কারণ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধের অভিযোগগুলো প্রমাণে তিনি কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। যদি অভিযোগকারী কর্তৃক আনীত অপরাধগুলো অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পাদন করেছেন মর্মে বিশ্বাস করার সম্ভাব্য যথেষ্ট কারণ থাকে, তবেই একজন রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির ওই মামলা পরিচালনা করা উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে মামলাটি পরিচালনা না করে বাতিলের পরামর্শ দেয়া তার নৈতিক দায়িত্ব। বিচারের সময় অবৈধভাবে প্রাপ্ত সাক্ষ্যগুলো ব্যবহার করা রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির কোনোভাবেই উচিত নয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটন করেননি মর্মে কোনো সাক্ষ্য বা প্রমাণাদি পেলে সে তথ্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জানানো রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির নৈতিক দায়িত্ব।
মামলায় বিচারের আগে, বিচার চলাকালে বা বিচার-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির অযৌক্তিক মন্তব্য যেমন ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষীর গ্রহণযোগ্যতাকে হেয় করে এমন কোনো মন্তব্য; বর্ণ, জাতীয়তা, লিঙ্গ বা অন্য কোনো কারণে পক্ষপাতিত্বমূলক মন্তব্য; প্রতিহিংসা বা সহানুভূতিশীল মন্তব্য; সাক্ষ্য থেকে বাদ দেয়া হয়েছে এমন খারাপ কাজ সম্পর্কে মন্তব্য; জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির নিশ্চুপ থাকার অধিকার প্রয়োগ সম্পর্কে মন্তব্য ইত্যাদি করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমাদের দেশের অধিকাংশ আইনজীবী মক্কেলের প্রতি তাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞাত নন। যদিও বা কিছু কিছু আইনজীবী তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, কিন্তু সিনিয়র, জুনিয়র, খ্যাতিমান, অখ্যাত নির্বিশেষে অধিকাংশ আইনজীবীর সেসব নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য পালনে অনীহা লক্ষ্য করা যায়। ফলে মক্কেলরা অনেক সময় হয়রানির শিকার হন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই বিচারব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে একজন আইনজীবীর মক্কেলের প্রতি তাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব-কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করা উচিত।

লেখক : তরুণ ও উদীয়মান মানবাধিকার
কর্মী ও আইনজীবী
জাস্টিসমেকার্স ফেলো, সুইজারল্যান্ড
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এ কর্মরত

Collected : আইন শিক্ষা (Law Education)

যে সমস্ত দলিলপত্রের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক


যে সমস্ত দলিলপত্রের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক

property-title.jpg

(ক) স্থাবর সম্পত্তির দানপত্র ।

(কক) মুসলমানদের ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী প্রদত্ত হেবা সম্পর্কিত ঘোষণা,.২০০৪ সনের ২৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত ।

(খ) উইল ছাড়া অন্যান্য দলিলপত্র যাহা কোনো স্থাবর সম্পত্তিতে বর্তমান বা ভবিষ্যতে কায়েমী বা সম্ভাব্য কোনো অধিকার স্বত্ব বা সুযোগ-সুবিধা জন্মায়, ঘোষণা করে, অর্পণ করে, সীমাবদ্ধ করে বা নিঃশেষিত করে ।

ব্যাখ্যা : কোনো বন্ধকী দলিল হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যে অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর দলিল সম্পাদিত হয়, রেজিস্ট্রেশনের জন্য উহাই মুল্য বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(গ) উইল ছাড়া অন্যান্য দলিলপত্র যাহা কোনো অধিকার, স্বত্ব বা সুযোগ-সুবিধা জন্মানোর ঘোষণা, অর্পণ, সীমাবদ্ধকরণ বা নিঃশেষিত হইবার প্রতি বিনিময়মূল্য স্বরূপ কোনো কিছুর প্রাপ্তি বা প্রদান স্বীকার ।

(গগ) সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর ধারা ৫৯ অনুযায়ী বন্ধকী দলিল,.২০০৪ সনের ২৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত ।

(ঘ) স্থাবর সম্পত্তির বত্সরান্তের অথবা এক বত্সরের ঊর্ধ্বে কোনো মেয়াদী ইজারা বা বাত্সরিক খাজনার শর্তে ইজারার দলিল ।

(ঙ) উইল ছাড়া অন্যান্য দলিলপত্র যাহা কোর্টের ডিক্রি বা হুকুমনামা অথবা কোনো বিচার নিষ্পত্তির হস্তান্তর বা অর্পণ করে এবং যখন ঐরূপ ডিক্রি, হুকুমনামা বা বিচার নিষ্পত্তিতে কোনো স্থাবর সম্পত্তিতে বর্তমান বা ভবিষ্যত কায়েমী বা সম্ভাব্য কোনো অধিকার, স্বত্ব সুযোগ সুবিধা জন্মায়, ঘোষণা করে, অর্পণ করে, সীমাবদ্ধ করে বা নিঃশেষিত করে।

তবে কোনো জিলা বা জিলার অংশে সম্পাদিত কোনো ইজারাকে যদি উক্ত ইজারার মেয়াদ ৫ বত্সরের উর্ধ্বে না হয় বা উহার বাত্সরিক খাজনা ৫০ টাকার বেশি না হয় তবে সরকার সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দিয়া এই উপধারা আওতামুক্ত করিতে পারেন।

(চ) স্ব-স্ব ব্যক্তিগত ধর্মীয় আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ওয়ারিশী স্থাবর সম্পত্তি বন্টন বিষয়ক দলিল,.২০০৪ সনের ২৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত।

(ছ) রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ধারা ৯৬ অনুযায়ী আদালতের আদেশ মোতাবেক বিক্রয় দলিল,.২০০৪ সনের ২৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত।

দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের পদ্ধতি!


দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের পদ্ধতি!

picture-10266

নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অটুট রেখে সংসার করছেন অনেক দম্পতি। বেড়ে উঠছে নতুন একটি প্রজন্ম, যাদের উত্তরাধিকার সূত্রে ধর্মীয় কোন পরিচয় নেই। এটাকে সমাজের অনেক বড় পরিবর্তন বলছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা ধর্ম পরিবর্তন না করেই দু’টি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে বিয়ের ঘটনা বাড়ছে। একই ধর্মের দু’জন বিয়ে করে ঘর সংসার করতে হবে এমন ধারণা থেকে বের হয়ে আসছেন অনেকেই। দুই ধর্মের দু’জন তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ঠিক রেখে বিয়ে করছেন। আচার-আচরণ পালন করছেন যে যার বিশ্বাস মত। এভাবে দেশের আইন অনুযায়ী বিয়ে করে সংসার করছেন অসংখ্য দম্পতি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের জুটি এখন অনেক। আর এই বিয়ের ফলে বেড়ে উঠছে নতুন একটি প্রজন্ম। যারা উত্তরাধিকার সূত্রে কোন ধর্মীয় পরিচয় বহন করছেন না। আধুনিক সমাজে সেটা প্রয়োজনও মনে করছেন না অনেকে। এই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আবার কেউ কেউ নিজেই একটি ধর্ম বেছে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ধর্ম বিশ্বাস থেকে সরে আসছেন। তবে রাষ্ট্র আইন করে এমন বিয়ের ব্যবস্থা করলেও এইসব পরিবারের সম্পত্তি বন্টনের জন্য কোন আইন নেই। বাংলাদেশে ইসলাম, হিন্দু ও খৃষ্টান ধর্মীয় আইনে সম্পত্তি ভাগ হয়। কিন্তু এই পরিবারের সম্পত্তি যদি বাবা-মা ভাগ করে দিয়ে না যান বা উইল না করেন, তবে ভাগ করার কোন নিয়ম নেই। বাংলাদেশের বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২ (সংশোধিত ২০০৭) অনুযায়ী এই বিয়ে হচ্ছে। এই আইন অনুযায়ী, একজন মুসলমান, হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ, ইহুদি বা অন্য যে কোন ধর্মের যে কেউ যে কারো সাথে বিয়ে করতে পারবে। ধর্মের পরিবর্তন করা প্রয়োজন হবে না। অথবা দু’জনই ধর্মীয় বিশ্বাস বাদ দিয়ে বিয়ে করতে পারবে। অথবা একজন অন্যজনের ধর্ম মেনে নিতে পারবে। তবে নাবালকের সাথে কেউ বিয়ে করতে পারবে না। আইন অনুযায়ী এই বিয়ে রেজিষ্ট্রি করার জন্য সরকার একজনকে নিয়োগ দিয়েছে। বাংলাদেশে একজনই এই বিয়ে পড়িয়ে থাকেন। প্রায় প্রতিমাসেই এই বিয়ে হচ্ছে। গত কয়েক বছরে এই বিয়ের হার বেড়েছে। ১৯৮৩ সাল থেকে এপর্যন্ত এক হিসেবে দেখা গেছে, প্রায় ৫০০ দম্পত্তি কোন ধর্ম পরিবর্তন না করেই এমন বিয়ে করেছেন। এদের মধ্যে ছেলে হিন্দু, মেয়ে মুসলমান। কিম্বা ছেলে মুসলমান, মেয়ে হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী। অনেকে আছেন আবেগে বিয়ে করছেন। অনেকে জেনে বুঝে গন্ডি ভাঙ্গার তাগিদে। অনেক পরিবার আছে এই বিয়ে মেনে নিচ্ছেন, আবার অনেক পরিবার আছে যারা মানছেন না। প্রসঙ্গত, সরকারিভাবে এমন বিয়ে পড়ানোর একমাত্র স্থান পুরানো ঢাকার পাটুয়াটুলি। প্রাণেশ সমাদ্দার এই বিয়ের রেজিস্ট্রার। একই সাথে তিনি রাজধানীর পাটুয়াটুলির শরত্চন্দ্র ব্রাহ্ম প্রচারক নিবাসের আচার্য ও ট্রাস্টি। সেখানেই থাকেন তিনি। শুধু ঢাকা নয় দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও ছেলে মেয়েরা আসে বিয়ে করতে। বিশেষ করে যারা দেশের বাইরে যেতে চায় তাদের আসতেই হয়। কারণ কোর্টে বিয়ে করলে বিয়ে রেজিস্ট্রির কোন প্রমাণপত্র পাওয়া যায় না। অবশ্য কোর্টে দুই ধর্মের দু’জন বিয়ে করতে পারে না। অনেক সময় যারা জানে না তারা প্রথমে কোর্টে যায়। আর তখন আইনজীবীরা এখানে নিয়ে আসে। এখানে বিয়ে হলেও ডিভোর্স করানো যায় না। ওটা করতে হয় কোর্টে। আইন মতে, বিয়ের ১৪ দিন আগে রেজিস্ট্রারের কাছে নোটিস দিতে হয়। এরমধ্যে কারো কোন আপত্তি থাকলে সে তা জানাবে। তারপর তিনজন সাক্ষী আর পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে হাজির হতে হবে। নির্দিষ্ট ছকে ছেলে-মেয়ে দু’জন স্বাক্ষর করবে আর স্বাক্ষর করবে তিনজন সাক্ষী। এতেই হয়ে যাবে দু’জনের বিয়ে। সামাজিক আর কোন আনুষ্ঠানিকতা এখানে নেই। তবে বিয়ের পরে কেউ কেউ মিস্টি নিয়ে আসেন। উপস্থিত সবাই মিষ্টি খেয়ে নব দম্পতির মঙ্গল কামনা করেন।

সংগৃহীত

খাইখালাসি বন্ধক


খাইখালাসি বন্ধক

images (3)

আইনে বিভিন্ন রকম বন্ধকের কথা বলা হয়েছে। এর একটি হলো ‘খাইখালাসি বন্ধক’। এই প্রকার বন্ধক ব্যবস্থায় বন্ধকগ্রহীতা জমির যে সুবিধাদি ভোগ করেন, তার জন্য বন্ধকগ্রহীতার প্রতি বন্ধকদাতার দায় হ্রাস পায়। ধরুন, জমির আলী তার একখ- কৃষি জমি বিশ হাজার টাকায় আমির আলীর কাছে খাইখালাসি বন্ধক দিল। আমির আলী এই জমি থেকে কৃষিবাবদ যত সুবিধাদি গ্রহণ করবে, ধীরে ধীরে ততই জমির আলীর বিশ হাজার টাকার দায় কমে আসবে। এটাই খাইখালাসি বন্ধক। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৮(ঘ) ধারা অনুসারে, যখন দাতা কোনো গ্রহীতাকে বন্ধকি সম্পত্তির দখল অর্পণ করেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দখল দিতে নিজেকে বাধ্য করেন; এবং বন্ধকির টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত দখল রাখার অনুমতি দেন, এবং এরকম সম্পত্তি থেকে উদ্ভূত খাজনা ও লাভ বা এরকম খাজনা বা লাভের অংশবিশেষ গ্রহণের অনুমতি দেন, এবং তা বন্ধকি টাকার সুদ বা বন্ধকি টাকা পরিশোধের জন্য বা তার আংশিক সুদ পরিশোধের জন্য এবং আংশিক বন্ধকি টাকা পরিশোধের জন্য ব্যয় করতে অনুমতি দেন, তখন তাকে ‘খাইখালাসি বন্ধক’ বলে। ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৫ ধারার বিধান মতে, কৃষিজমির খাইখালাসি বন্ধকি ছাড়া অন্য কোনোরকম বন্ধক চলতে পারে না। ৯৫ ধারা অনুসারে, অন্য আইনে যাই থাকুক না কেন, কোনো রায়ত তার জমি বা জমির অংশপূর্ণ খাইখালাসি বন্ধকি ছাড়া অন্য কোনো প্রকার বন্ধক দেবেন না এবং তার মেয়াদ সাত বছরের বেশি হবে না। তবে ওই মেয়াদের আগে হারাহারি টাকা দিয়ে রায়ত তার জমিকে বন্ধকমুক্ত করতে পারবেন। এই বন্ধক রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে হতে হবে। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের বিধান অনুসারে, সাত বছরের মধ্যে বন্ধকগ্রহীতার বন্ধকি টাকা উসুল না হলেও তিনি সাত বছরের বেশি সময় বন্ধকি সম্পত্তি নিজ দখলে রাখতে পারবেন না।

জমিজমা সংক্রান্ত আইন ও বিধি


জমিজমা সংক্রান্ত আইন ও বিধি

property3.jpg

ভূমি জরিপ, দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রশন সংক্রান্ত আইন
> ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্ট
> ১৯০৮ সালের রেজিষ্ট্রেশন আইন (সংশোধনী ২০০৫ সহ)
> ১৯৫৫ সালের প্রজাস্বত্ব বিধি
> ১৮৭৫ সালের ভূমি জরিপ আইন

নামজারী বা মিউটেশন সংক্রান্ত আইন
> ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়েল, ১৯৯০

ডুবে যাওয়া জমি (সিকস্তি) ও জেগে ওঠা জমি (পয়োস্তি)
> ১৮২৫ সালের বেঙ্গল এলুভিয়ন ও ডিলুভিয়ন রেগুলেশন

খাস জমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত আইন
> ১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ
> ১৯১৩ সালের সরকারী পাওনা আদায় আইন

অকৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের নীতিমালা
> ১৯৯৫ সালের ৮ই মার্চে প্রকাশিত গেজেট

সর্বচ্চো সিলিং বা জমি দখলে রাখার সীমাবদ্ধতা সংক্রান্ত আইন
> ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ল্যান্ড হোল্ডিং (লিমিটেশন) {১৫/৮/১৯৭২ সালে জারিকৃত প্রেসিডেন্ট আদেশ}

ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত আইন
> ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত ৩০.০৫.১৯৯৫ ইং তারিখে পাশকৃত সংশোধনী
> ১৯১৩ সালের সরকারী পাওনা আদায় আইন

বর্গাচাষ সংক্রান্ত আইন
> ১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ

ওয়াকফ সংক্রান্ত আইন
> ১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশ

ইজমেন্ট বা সুখাধিকার সংক্রান্ত আইন
> ১৯৮২ সালের ইজমেন্ট রাইট এক্ট

অগ্রক্রয় সংক্রান্ত আইন
> ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্ট

সম্পত্তি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আইন
> ১৯৮২ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল অধ্যাদেশ
> ১৯৫০ সালের সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইন

দখল সংক্রান্ত আইন
> ১৮৭৭ সালে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন
> ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি
> ১৯০৮ সালের তামাদি আইন (ধারা)
> ১৯০৮ সালের তামাদি আইন (অনুচ্ছেদ)
> ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন

অন্যান্য আইন
> ষ্ট্যাম্প এক্ট, ১৮৯৯
> ১৯৪৯ সালের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন
> ১৯৫৯ সনের ৬নং অধ্যাদেশ
> ১৯৭২ সালের ৯৮ নং প্রেসিডেন্ট আদেশ
> ১৯৭২ সালের প্রেসিডেন্টের আদেশ নং ১৩৭

রেজিষ্ট্রি দলিলের আবশ্যকীয় শর্তাবলী


রেজিষ্ট্রি দলিলের আবশ্যকীয় শর্তাবলী

download (7)

একটি রেজিষ্ট্রি দলিলে নিমড়ববর্ণিত শর্তাবলী পালন করতে হয় অন্যথায় দলিলটি স্বয়ং সম্পূর্ণ হবেনা:

১। শিরোনামঃ দলিলটি কো ধরণের দলিল তা প্রথম বর্ণনায় উলেলখ করতে হবে। যেমন: সাফকবলা, বায়নাপত্র আম- মোক্তারনামা ইত্যাদি।
২। পক্ষগণের পরিচয়ঃ দান গ্রহীতা, প্রথম পক্ষ, দ্বিতীয় পক্ষ ইত্যাদি। নাম বা প্রতিষ্ঠানের নাম, পিতার নাম, পেশা, ধর্ম, জাতীয়তা বাসস্থান ইত্যাদি। অর্থাৎ কোন কোন পক্ষের মধ্যে দলিলটি সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রি হচ্ছে তার বর্ণনা।
৩। বিক্রীত স্বত্বের বর্ণনাঃ স্বত্বের ইতিহাস, পূর্বের দলিল নম্বর ইত্যাদি। অর্থাৎ বিক্রেতা সম্পত্তিটি কোন সূত্রে অর্জন করেছেন তার বিবরণ। তা নামে খতিয়ান ও জমা খারিজ আছে কিনা।
৪। পণঃ পণ ব্যতিরেকে কোন চুক্তি বৈধ হয় না। মনে রাখা আবশ্যক পনের লেনদেন স্বাভাবিক রীতি অনুযায়ী হতে হবে। অবাস্তর, অবিশ্বাস্য বা সন্দেহজনক পনের বিনিময়ে কোন সম্পত্তি হস্তান্তরিত হলে পরিনামে দলিলটি বাতিল হতে পারে।
৫। দখলঃ বিক্রিত সম্পত্তির দখল বুঝে দেওয়া হলো কিনা তা দলিলে উল্লেখ করতে হবে। দখল না বুঝে দিলে দলিলের প্রধান শর্ত অপূর্ণ রয়ে গেল।
৬। রক্ষিত শর্তাবলীঃ দাতা গ্রহীতার অর্জিত সম্পত্তির অধিকারসমূহের কিয়দংশ সংরক্ষিত রেখে দলিল সম্পাদন করতে পারেন।
৭। দন্ড বিষয়ক অংশঃ জমি জমার ক্রয় বিক্রয়ের ব্যাপারে প্রতারণার নজির ভুরি ভুরি রয়েছে। তাই প্রতারণামূলক কার্যের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসাবে দন্ড বিষয়ক ব্যবস্থাদির দলিলে লিপিবদ্ধ রাখতে হয়।
৮। তারিখঃ দলিলে অবশ্যই তারিখ থাকতে হবে। দলিলে তারিখ না থাকলে উহা বাতিল বরে গণ্য হয়। বাংলা তারিখের সহিত ইংরেজি তারিখও দেওয়া উচিত।
৯। তফসিল বর্ণনাঃ বিক্রয়াধীন সম্পত্তির তফসিল বর্ণনা দলিলের নির্দিষ্ট অংশে উল্লেখ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইহাতে ভুল থাকলে সমস্ত দলিলের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হইতে বাধ্য। তফসিলে জমির পরিমাণ, মৌজা, থানা, রেজিষ্ট্রী অফিস, জেলা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণী, তৌজি, জমির চৌহদ্দি অর্থাৎ উত্তরে, দক্ষিণে, পূর্বে ও পশ্চিমে অবস্থানকারীম ব্যক্তি ও সম্পত্তির নাম, খাজনা ও করের পরিমাণ সম্পত্তির কোন হোল্ডিং নম্বর ও ওয়ার্ড নম্বর থাকলে তাহাও দলিলে উল্লেখ করতে হয়।
১০। দস্তখতঃ দলিল দাতা দলিলের উপরিভাগ দক্ষিণ পার্শ্বে ও শেষ পৃষ্ঠায় নীচে স্বাক্ষর করবেন। কোন কোন দলিলে একাধিক পক্ষের দস্তখত দিতে হয়। দলিলে পক্ষগণের স্বাক্ষর বা টিপ পর্ব শেষ হবার পর দলিল লেখকের নাম, সাকিন ও দুই তিন জন সাক্ষীর নাম ও সাকিন লিখতে হবে।
১১। কৈফিয়তঃ দলিল লিখবার সময় কোন স্থানে ভূল, কাটা, মোছা বা অস্পষ্ট হলে উহার পৃষ্ঠা ও লাইন ক্রম উল্লেখ করে দলিলের শেষাংশে কৈফিয়ত হিসাবে তাহা লিখে দলিল লিখক তাহার নীচে সহি করবেন।
১২। বিবিধঃ দলিল পরিস্কার ও পরিচ্ছন্নভাবে লিখিত হওয়া আবশ্যক। দলিল লিখতে ভাল কালি ব্যবহার করা দরকার। তবে বর্তমানে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হওয়ায় লিখিত দলিল খুব কমই রেজিষ্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপিত হচ্ছে।
১৩। বিক্রেতার নামে খতিয়ান থাকতে হবে। বিক্রিত সম্পত্তির নক্শা ম্যাপ ইত্যাদি থাকলে তাহা অনুচ্ছেদ স্বরূপ মূল দলিলের সহিত যুক্ত করে দিতে হবে।

ফৌজদারি আদালতের এখতিয়ার


ফৌজদারি আদালতের এখতিয়ার

Bangladesh-supreme-court-morningsunbd

ন্যায় বিচার পেতে হলে আমাদের আদালতের দারস্ত হতে হয়। কোনো ব্যক্তি ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হলে আদালতের মাধ্যমেই তাকে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হয়। কিন্তু আমাদের অনেকেই জানি না কোন আদালতের কী এখতিয়ার। আমাদের প্রার্থিত বিষয়ে বিচার করার এখতিয়ার কোন আদালতের আছে সেটি জানা অবশ্যই জরুরি। মামলা করার জন্য সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সাধারণত কোনো আইনজীবির স্মরনাপন্ন হন। ফলে আইনজীবিদের আদালতের এখতিয়ার জানা আরো বেশি জরুরি।তা নাহলে মামলাকারীরা আইনজীবীদের মাধ্যমেও হয়রানির শিকার হতে পারেন। আদালতের এখতিয়ার ফৌজদারী কার্যবিধিতে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এ আইনে কেবল ফৌজদারি অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার সম্পর্কে বলা আছে। দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ার বর্ণনা করা আছে দেওয়ানী কার্যবিধিতে।

কোনো ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ ছাড়া অন্যকোনো অপরাধ করলে এবং তার আদালতে হাজির হওয়ার অথবা তাকে হাজির করার তারিখে তার বয়স ১৫ বছরে কম হলে তার বিচার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট করতে পারবেন অথবা যে ম্যাজিস্ট্রেট যুব অপরাধীদেরকে আটক রাখা, তাদের বিচার করা এবং শাস্তি দেয়ার জন্য প্রণীত আইন অনুসারে সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছেন, এবং যে ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ক্ষমতা সম্পূর্ণ বা আংশিক প্রয়োগ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি তা করতে পারবেন।

হাইকোর্ট বিভাগ আইনে অনুমোদিত যে কোনো দণ্ড প্রদান করতে পারেন। দায়রা জজ অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে অনুমোদিত যেকোনো দণ্ড প্রদান করতে পারেন, তবে এক্ষেত্রে মৃত্যু দণ্ড প্রদান করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। হাইকোর্ট বিভাগ আইনে অনুমোদিত যে কোনো দণ্ড প্রদান করতে পারেন। দায়রা জজ অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে অনুমোদিত যেকোনো দণ্ড প্রদান করতে পারেন, তবে এক্ষেত্রে মৃত্যু দণ্ড প্রদান করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

সহকারি দায়রা জজ মৃত্যুদণ্ড অথবা দশ বছরের বেশি কারাদণ্ড ছাড়া আইনে অনুমোদিত যেকোনো শাস্তি প্রদান করতে পারেন।

কোনো সহকারি দায়রা জজ অতিরিক্ত দায়রা জজ হিসেবে বিবেচিত হলে মৃত্যুদণ্ড ছাড়া আইনে অনুমোদিত যেকোনে দণ্ড প্রদান করতে পারবেন।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আইনে অনুমোদিত নি:সঙ্গ অবরোধসহ পাঁচ বছরের বেশি কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকার অর্থদণ্ড ও বেত্রাঘাত দেয়ার শাস্তি প্রদান করার এখতিয়ার রাখতে পারেন।

দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট্ আইনে অনুমোদিত নি:সঙ্গ অবরোধসহ সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকার অনধিক অর্থদণ্ড প্রদান করতে পারেন।

তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আইনে অনুমোদিত দু্ই বছরের অনধিক কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করতে পারেন।

কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত জরিমানার টাকা প্রদানে ব্যর্থতার জন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত শর্ত সাপেক্ষে আইনে অনুমোদিত যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড প্রদান করতে পারবেন।

মানবাধিকার ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম