কেস স্টাডি মানে জীবন ইতিহাস


জীবন ইতিহাসজীবন ইতিহাস

casestudy-icon
কেস স্টাডি মূলত গবেষণার একটি ধরণ। তাই কেস স্টাডি লেখা সাদামাটা কোন বিষয় নয়। গবেষণার একটি ধরণ হিসাবে এ প্রক্রিয়ায় কোন একটি বিষয় বা ব্যাক্তি সম্পর্কে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। তাই ঘটনা বা ব্যাক্তি সম্পর্কে একটি সার্বিক চিত্র ফুটে ওঠে।
ঊনিশ শতকের শেষের দিকে এই পদ্ধতিতে গবেষণা শুরু হয়েছে। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। কেস স্টাডি হলো কোন সামাজিক বিষয়, যেমন একটি ব্যাক্তি, পরিবার, ক্ষুদ্র গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সম্পর্কে বিশদ ও সুগভীর তথ্য অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ। তাই বাংলায় একে ঘটনা বিশ্লেষণ বা জীবন ইতিহাস বলা অযৌক্তিক ঠেকে না ।
এই পদ্ধতিতে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক গুলোকেও তুলে ধরা হয়। গবেষণার অন্য কোন পদ্ধতির মাধ্যমে কোন একটি বিষয় বা একককে এত গভীরভাবে জানা সম্ভব হয় না। এখানে সীমিত ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা পাবার চেষ্টা থাকে।
লেখার কাঠামো
কেস স্টাডিগুলো মূলত লেখা হয় কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষদের নিয়ে/ কোন বিশেষ ব্যক্তিত্ব/জীবন/উদ্যোগ নিয়ে। এ কথাটি মাথায় রেখে আমরা কেস স্টাডি লেখার একটি কাঠামো দাঁড় করাতে পারি :
শুরু / ভূমিকা/ সূচনা
বর্তমান অবস্থা
পটভূমি
জীবনের মোড় যখন ঘুরল / পরিবর্তনের মুহুর্ত
পরবর্তীতে একের পর এক যে সাফল্যগুলো আসতে শুরু করল
শেষ কথা
একটি প্রশ্ন : আমরা কেস স্টাডি লিখছি কেন?
একজনের সফলতার কাহিনী প্রকাশিত করে অন্যদেরকে উৎসাহিত, উজ্জীবিত এবং ক্ষমতায়িত করা
নিজেদের মূল্যবান কর্মকান্ড সম্পর্কে অন্যদের অবহিত করা
প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি করা, এখানে কতগুলো বিষয় জড়িত
প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি মানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান আপনার প্রতিষ্ঠানকে ফান্ড কিংবা অন্যান্যভাবে সহযোগিতা করতে উদ্ধুদ্ধ হবে
প্রতিষ্ঠানের সুনাম মানে আপনার চাকরির নিরাপত্তা এবং সন্তুষ্টি
আরো কতগুলো বিষয় মনে রাখতে হবে
আপনি কার জন্য লিখছেন?
আপনি তাদেরকে কি বলতে চান?
কতটুকু বলতে চান?
কিভাবে বলতে চান?
আপনি যা লিখছেন তা কি একজন পাঠক হলে আপনি পড়তেন ? পাঠক হিসাবে লেখাটি পড়ে আপনি কি সন্তুষ্ট?
লেখার টেবিলে বসে তথ্য আনার জন্য আবার মাঠে দৌড়াতে হবে না তো?
কেস স্টাডি আকর্ষণীয়ভাবে লিখলে যেমন সবাই পড়বে তেমনি তথ্যসমৃদ্ধ লেখা না হলে আপনার উদ্দেশ্য হাসিল হবে না। তাই পর্যাপ্ত তথ্য নিয়ে লেখার টেবিলে বসবেন।
বিষয়ের সঙ্গতিপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি চেকলিষ্ট তৈরি করুন, কোন কোন বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে, কোন বিষয়ের উপর কতটা তথ্য সংগ্রহ করতে হবে ইত্যাদি। যেমনঃ যদি আপনার সংস্থা থেকে কেউ ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয় এবং এ নিয়ে আপনি একটি কেস ষ্টাডি লিখতে চাইলে যে বিষয় গুলো অবশ্যই জানতে হবে-
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, তার বসবাসের স্থান, তিনি কোন সমিতির সদস্য, তার পূর্বের অবস্থা, তিনি কোন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কি-না এবং বিশেষ করে ঘাসফুলের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা ইত্যাদি।
এসব তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভালভাবে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে। সাক্ষাৎকারের সময়টি এ জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু ভুল শুধরালে আপনাদের লেখা আরো সুন্দর হবে
শুরুতে প্রায়শই কোন তথ্য থাকেনা, সামঞ্জস্যহীন হয়
একটি অনুচ্ছেদের (প্যারা) সাথে অন্য অনুচ্ছেদের ধারাবাহিকতা এবং সামঞ্জস্য রক্ষা করা হয়না
অনেক জায়গায় প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে না
প্রতিষ্ঠান যে জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তা সুন্দর এবং গুছালো হয় না
আকর্ষণীয় করতে গিয়ে বিষয়টি গুলিয়ে ফেলা হয়।

ব্যর্থতা মাধ্যমেই সফলতা আসে


সকলেই জীবনে সফলতা লাভ করতে চায়। কিন্তু সেই সফলতার জন্য নিজের মাঝে কি কি গুনাগুণ থাকা উচিত সে ব্যাপারটা অনেকেরই অজানা থাকে। এইখানে একজন কর্মক্ষেত্রে / জীবনে সফল মানুষের কিছু গুন বা যোগ্যতা তুলে ধরা হলো যা থেকে আমরা নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারিঃ

images (13)

০১. শোনার যোগ্যতাঃ কারো কোন কথা ভালো মতো শুনুন। নিজে কিছু বলার আগে ভালোভাবে শুনে নিন। ভালোমতো শুনার যোগ্যতাটা একটা বড় গুন। মনে রাখবেন সৃষ্টিকর্তা একটা মুখ এবং দুটো কান দিয়েছেন। দুটো কানতো আর খামোখা দেয়নি।

০২. মানসিক দৃঢ়তাঃ একজন সফল মানুষ জানে কিভাবে “না” বলতে হয় এবং কখন নির্দ্বিধায় তা করতে হয়। একজন সফল মানুষই পারে বাস্তবমুখী কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে।

০৩. অতীতের ভুলের প্রতি কম মনোযোগী হোনঃ ভুল আমরা কমবেশী সবাই করি। একজন নিখুঁত মানুষ খুঁজে পাওয়াটা দায়। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করুন কিন্তু অতীত নিয়ে পড়ে থাকবেন না। কারণ, যা চলে যায় তা কখনো আর ফিরে আসে না।

০৪. অন্যজনের দৃষ্টিকোন থেকে দেখুনঃ একজন সফল মানুষ সবসময় একটা বিষয়কে অন্যজন কিভাবে ভাবছে তা নিয়ে চিন্তা করে। সুতরাং একটি বিষয়কে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে দেখুন।

০৫. চ্যালেঞ্জ গ্রহন করার মানসিকতাঃ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুন হলো সর্বদা “নতুন কিছু করার” মানসিকতা। সবসময় নতুন কিছু কে কিংবা নতুন কোন আইডিয়া কে গ্রহণ করুন। এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন। ভুলেও আপনার ভিতরকার হেরে যাওয়ার ভয়টাকে বের হয়ে আসতে দিবেন না। তাহলেই নতুন কিছু সফলভাবে করতে পারবেন।

ফৌজদারি মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য


ফৌজদারি মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য

download (8)

কিছু লিখিত-অলিখিত নৈতিকতা সব আইনজীবীরই থাকা উচিত। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী (ডিফেন্স ল ইয়ার) ও সরকারি পক্ষের কেঁৗসুলির (প্রসিকিউটর) জন্য পেশাগত জীবনে অবশ্যপালনীয় নীতিমালা হিসেবে বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপত্তি হয়েছে। কমন ল-ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোয় বিদ্যমান বিচারব্যবস্থায় বিভিন্ন বিচারিক নজির, সংবিধি অথবা নিয়ন্ত্রণকারী আইনজীবী সংগঠন (বার কাউন্সিল/অ্যাসোসিয়েশন) কর্তৃক নির্ধারিত/প্রণীত আচরণবিধির মাধ্যমে এসব নীতির উৎপত্তি হয়েছে। এসব নীতি পালনে ব্যর্থতার জন্য অনেক সময় একজন আইনজীবীকে ভর্ৎসনা, বরখাস্তসহ বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে পারে। তাই একজন আইনজীবীর পেশাগত জীবনে এসব নীতি মেনে চলা নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য।
অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীর কর্তব্য : বিচারক ও সরকারি কেঁৗসুলির সঙ্গে মামলা সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনায় অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীর সব সময়ই পেশাগত আচরণ করা উচিত। অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে সব সময় কার্যকর প্রতিনিধিত্ব করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব। অসাধু বা অনৈতিক আচরণ একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুনাম নষ্ট করতে পারে। এমনকি যেহেতু একজন ডিফেন্স ল ইয়ার অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করেন, তাই তার অসাধু বা অনৈতিক আচরণ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুনামও নষ্ট করতে পারে।
মক্কেলের প্রতি কর্তব্য : মক্কেলের প্রতি একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের প্রচুর দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আইনগত পরামর্শদাতা হিসেবে একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে কার্যকর ও মানসম্মত প্রতিনিধিত্ব করা নৈতিক দায়িত্ব। অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে যৌথভাবে মামলা পরিচালনার সময় একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলা নৈতিক দায়িত্ব। যুক্তিসঙ্গত দ্রুততা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে মামলা পরিচালনা করাও একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব। মক্কেলের সঙ্গে সম্পাদিত সব ধরনের যোগাযোগের গোপনীয়তা বজায় রাখা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব। মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সম্পর্কে যত দ্রুত সম্ভব তথ্যানুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তা মামলা পরিচালনায় ব্যবহার করা তার নৈতিক দায়িত্ব।
আদালতের প্রতি কর্তব্য : নৈতিক ও পেশাগত আচরণের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে আদালতের সামনে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বার্থ সংরক্ষণ করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের কর্তব্য। একজন ডিফেন্স ল ইয়ার কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের সামনে ভুল তথ্য বা আইনের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করবেন না। যেমন যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি ডিফেন্স ল ইয়ারের কাছে তার কৃত অপরাধের কথা স্বেচ্ছায় স্বীকার করেন, তবে আদালতের সামনে অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক ওই অপরাধ সংঘটিত হয়নি মর্মে জবানবন্দি প্রদানে একজন ডিফেন্স ল ইয়ার কখনো পরামর্শ দেবেন না। মামলা পরিচালনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির অনৈতিক ও অবৈধ নির্দেশনা অনুসরণ করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের জন্য অবশ্য অনুচিত। প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিগুলো যা সরাসরি অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুকূলে যায়, কিন্তু সরকারি পক্ষের আইনজীবী আদালতে উত্থাপন করেননি, সেসব আইন ও বিধিগুলো খুঁজে বের করে আদালতে উত্থাপন করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের অবশ্য-দায়িত্ব। তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তি ও মামলাসংশ্লিষ্ট অন্য সব পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান স্বার্থের দ্বন্দ্ব অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন। ফৌজদারি বিচার প্রশাসনের উন্নয়ন ও পুনর্গঠন এবং মূল আইন (সাবস্টান্টিভ ল) ও পদ্ধতিগত আইনে (প্রসিডিউরাল ল) যদি কোনো অপ্রতুলতা থেকে থাকে তবে তা খুঁজে বের করে নিরসনের উদ্যোগ নেয়া একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব।
রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি বা প্রসিকিউটরের কর্তব্য : উনিশ শতকের গোড়ার দিকে অধিকাংশ মামলাই অভিযোগকারী (ভিকটিম) ব্যক্তিগতভাবে নিজে পরিচালনা করতেন। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি (প্রসিকিউটর) অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। বর্তমানে রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি রাষ্ট্র ও ভিকটিম উভয়ের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন। ফৌজদারি মামলার কার্যকর পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি (প্রসিকিউটর) মুখ্য ভূমিকা রাখেন। কারণ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধের অভিযোগগুলো প্রমাণে তিনি কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। যদি অভিযোগকারী কর্তৃক আনীত অপরাধগুলো অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পাদন করেছেন মর্মে বিশ্বাস করার সম্ভাব্য যথেষ্ট কারণ থাকে, তবেই একজন রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির ওই মামলা পরিচালনা করা উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে মামলাটি পরিচালনা না করে বাতিলের পরামর্শ দেয়া তার নৈতিক দায়িত্ব। বিচারের সময় অবৈধভাবে প্রাপ্ত সাক্ষ্যগুলো ব্যবহার করা রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির কোনোভাবেই উচিত নয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটন করেননি মর্মে কোনো সাক্ষ্য বা প্রমাণাদি পেলে সে তথ্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জানানো রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির নৈতিক দায়িত্ব।
মামলায় বিচারের আগে, বিচার চলাকালে বা বিচার-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির অযৌক্তিক মন্তব্য যেমন ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষীর গ্রহণযোগ্যতাকে হেয় করে এমন কোনো মন্তব্য; বর্ণ, জাতীয়তা, লিঙ্গ বা অন্য কোনো কারণে পক্ষপাতিত্বমূলক মন্তব্য; প্রতিহিংসা বা সহানুভূতিশীল মন্তব্য; সাক্ষ্য থেকে বাদ দেয়া হয়েছে এমন খারাপ কাজ সম্পর্কে মন্তব্য; জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির নিশ্চুপ থাকার অধিকার প্রয়োগ সম্পর্কে মন্তব্য ইত্যাদি করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমাদের দেশের অধিকাংশ আইনজীবী মক্কেলের প্রতি তাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞাত নন। যদিও বা কিছু কিছু আইনজীবী তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, কিন্তু সিনিয়র, জুনিয়র, খ্যাতিমান, অখ্যাত নির্বিশেষে অধিকাংশ আইনজীবীর সেসব নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য পালনে অনীহা লক্ষ্য করা যায়। ফলে মক্কেলরা অনেক সময় হয়রানির শিকার হন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই বিচারব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে একজন আইনজীবীর মক্কেলের প্রতি তাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব-কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করা উচিত।

লেখক : তরুণ ও উদীয়মান মানবাধিকার
কর্মী ও আইনজীবী
জাস্টিসমেকার্স ফেলো, সুইজারল্যান্ড
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এ কর্মরত

Collected : আইন শিক্ষা (Law Education)

যে সমস্ত দলিলপত্রের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক


যে সমস্ত দলিলপত্রের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক

property-title.jpg

(ক) স্থাবর সম্পত্তির দানপত্র ।

(কক) মুসলমানদের ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী প্রদত্ত হেবা সম্পর্কিত ঘোষণা,.২০০৪ সনের ২৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত ।

(খ) উইল ছাড়া অন্যান্য দলিলপত্র যাহা কোনো স্থাবর সম্পত্তিতে বর্তমান বা ভবিষ্যতে কায়েমী বা সম্ভাব্য কোনো অধিকার স্বত্ব বা সুযোগ-সুবিধা জন্মায়, ঘোষণা করে, অর্পণ করে, সীমাবদ্ধ করে বা নিঃশেষিত করে ।

ব্যাখ্যা : কোনো বন্ধকী দলিল হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যে অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর দলিল সম্পাদিত হয়, রেজিস্ট্রেশনের জন্য উহাই মুল্য বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(গ) উইল ছাড়া অন্যান্য দলিলপত্র যাহা কোনো অধিকার, স্বত্ব বা সুযোগ-সুবিধা জন্মানোর ঘোষণা, অর্পণ, সীমাবদ্ধকরণ বা নিঃশেষিত হইবার প্রতি বিনিময়মূল্য স্বরূপ কোনো কিছুর প্রাপ্তি বা প্রদান স্বীকার ।

(গগ) সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর ধারা ৫৯ অনুযায়ী বন্ধকী দলিল,.২০০৪ সনের ২৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত ।

(ঘ) স্থাবর সম্পত্তির বত্সরান্তের অথবা এক বত্সরের ঊর্ধ্বে কোনো মেয়াদী ইজারা বা বাত্সরিক খাজনার শর্তে ইজারার দলিল ।

(ঙ) উইল ছাড়া অন্যান্য দলিলপত্র যাহা কোর্টের ডিক্রি বা হুকুমনামা অথবা কোনো বিচার নিষ্পত্তির হস্তান্তর বা অর্পণ করে এবং যখন ঐরূপ ডিক্রি, হুকুমনামা বা বিচার নিষ্পত্তিতে কোনো স্থাবর সম্পত্তিতে বর্তমান বা ভবিষ্যত কায়েমী বা সম্ভাব্য কোনো অধিকার, স্বত্ব সুযোগ সুবিধা জন্মায়, ঘোষণা করে, অর্পণ করে, সীমাবদ্ধ করে বা নিঃশেষিত করে।

তবে কোনো জিলা বা জিলার অংশে সম্পাদিত কোনো ইজারাকে যদি উক্ত ইজারার মেয়াদ ৫ বত্সরের উর্ধ্বে না হয় বা উহার বাত্সরিক খাজনা ৫০ টাকার বেশি না হয় তবে সরকার সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দিয়া এই উপধারা আওতামুক্ত করিতে পারেন।

(চ) স্ব-স্ব ব্যক্তিগত ধর্মীয় আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ওয়ারিশী স্থাবর সম্পত্তি বন্টন বিষয়ক দলিল,.২০০৪ সনের ২৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত।

(ছ) রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ধারা ৯৬ অনুযায়ী আদালতের আদেশ মোতাবেক বিক্রয় দলিল,.২০০৪ সনের ২৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত।

দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের পদ্ধতি!


দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের পদ্ধতি!

picture-10266

নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অটুট রেখে সংসার করছেন অনেক দম্পতি। বেড়ে উঠছে নতুন একটি প্রজন্ম, যাদের উত্তরাধিকার সূত্রে ধর্মীয় কোন পরিচয় নেই। এটাকে সমাজের অনেক বড় পরিবর্তন বলছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা ধর্ম পরিবর্তন না করেই দু’টি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে বিয়ের ঘটনা বাড়ছে। একই ধর্মের দু’জন বিয়ে করে ঘর সংসার করতে হবে এমন ধারণা থেকে বের হয়ে আসছেন অনেকেই। দুই ধর্মের দু’জন তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ঠিক রেখে বিয়ে করছেন। আচার-আচরণ পালন করছেন যে যার বিশ্বাস মত। এভাবে দেশের আইন অনুযায়ী বিয়ে করে সংসার করছেন অসংখ্য দম্পতি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের জুটি এখন অনেক। আর এই বিয়ের ফলে বেড়ে উঠছে নতুন একটি প্রজন্ম। যারা উত্তরাধিকার সূত্রে কোন ধর্মীয় পরিচয় বহন করছেন না। আধুনিক সমাজে সেটা প্রয়োজনও মনে করছেন না অনেকে। এই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আবার কেউ কেউ নিজেই একটি ধর্ম বেছে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ধর্ম বিশ্বাস থেকে সরে আসছেন। তবে রাষ্ট্র আইন করে এমন বিয়ের ব্যবস্থা করলেও এইসব পরিবারের সম্পত্তি বন্টনের জন্য কোন আইন নেই। বাংলাদেশে ইসলাম, হিন্দু ও খৃষ্টান ধর্মীয় আইনে সম্পত্তি ভাগ হয়। কিন্তু এই পরিবারের সম্পত্তি যদি বাবা-মা ভাগ করে দিয়ে না যান বা উইল না করেন, তবে ভাগ করার কোন নিয়ম নেই। বাংলাদেশের বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২ (সংশোধিত ২০০৭) অনুযায়ী এই বিয়ে হচ্ছে। এই আইন অনুযায়ী, একজন মুসলমান, হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ, ইহুদি বা অন্য যে কোন ধর্মের যে কেউ যে কারো সাথে বিয়ে করতে পারবে। ধর্মের পরিবর্তন করা প্রয়োজন হবে না। অথবা দু’জনই ধর্মীয় বিশ্বাস বাদ দিয়ে বিয়ে করতে পারবে। অথবা একজন অন্যজনের ধর্ম মেনে নিতে পারবে। তবে নাবালকের সাথে কেউ বিয়ে করতে পারবে না। আইন অনুযায়ী এই বিয়ে রেজিষ্ট্রি করার জন্য সরকার একজনকে নিয়োগ দিয়েছে। বাংলাদেশে একজনই এই বিয়ে পড়িয়ে থাকেন। প্রায় প্রতিমাসেই এই বিয়ে হচ্ছে। গত কয়েক বছরে এই বিয়ের হার বেড়েছে। ১৯৮৩ সাল থেকে এপর্যন্ত এক হিসেবে দেখা গেছে, প্রায় ৫০০ দম্পত্তি কোন ধর্ম পরিবর্তন না করেই এমন বিয়ে করেছেন। এদের মধ্যে ছেলে হিন্দু, মেয়ে মুসলমান। কিম্বা ছেলে মুসলমান, মেয়ে হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী। অনেকে আছেন আবেগে বিয়ে করছেন। অনেকে জেনে বুঝে গন্ডি ভাঙ্গার তাগিদে। অনেক পরিবার আছে এই বিয়ে মেনে নিচ্ছেন, আবার অনেক পরিবার আছে যারা মানছেন না। প্রসঙ্গত, সরকারিভাবে এমন বিয়ে পড়ানোর একমাত্র স্থান পুরানো ঢাকার পাটুয়াটুলি। প্রাণেশ সমাদ্দার এই বিয়ের রেজিস্ট্রার। একই সাথে তিনি রাজধানীর পাটুয়াটুলির শরত্চন্দ্র ব্রাহ্ম প্রচারক নিবাসের আচার্য ও ট্রাস্টি। সেখানেই থাকেন তিনি। শুধু ঢাকা নয় দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও ছেলে মেয়েরা আসে বিয়ে করতে। বিশেষ করে যারা দেশের বাইরে যেতে চায় তাদের আসতেই হয়। কারণ কোর্টে বিয়ে করলে বিয়ে রেজিস্ট্রির কোন প্রমাণপত্র পাওয়া যায় না। অবশ্য কোর্টে দুই ধর্মের দু’জন বিয়ে করতে পারে না। অনেক সময় যারা জানে না তারা প্রথমে কোর্টে যায়। আর তখন আইনজীবীরা এখানে নিয়ে আসে। এখানে বিয়ে হলেও ডিভোর্স করানো যায় না। ওটা করতে হয় কোর্টে। আইন মতে, বিয়ের ১৪ দিন আগে রেজিস্ট্রারের কাছে নোটিস দিতে হয়। এরমধ্যে কারো কোন আপত্তি থাকলে সে তা জানাবে। তারপর তিনজন সাক্ষী আর পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে হাজির হতে হবে। নির্দিষ্ট ছকে ছেলে-মেয়ে দু’জন স্বাক্ষর করবে আর স্বাক্ষর করবে তিনজন সাক্ষী। এতেই হয়ে যাবে দু’জনের বিয়ে। সামাজিক আর কোন আনুষ্ঠানিকতা এখানে নেই। তবে বিয়ের পরে কেউ কেউ মিস্টি নিয়ে আসেন। উপস্থিত সবাই মিষ্টি খেয়ে নব দম্পতির মঙ্গল কামনা করেন।

সংগৃহীত

ভুমির সর্বোচ্চ সিলিং


১৯৮৪ সালের ভুমি সংস্কার অধ্যাদেশ অনুযায়ী ভুমির সর্বোচ্চ সিলিং:

download (1)

১লা বৈশাখ ১৩৯১ বাংলা সাল তথা ১৪/৪/১৯৮৪ইং তারিখের পূর্বে বাংলাদেশের কোনো পরিবার বা সংস্থা সর্বোচ্চ ১০০ বিঘা পর্যন্ত জমি ক্রয়ের মাধ্যমে কিংবা দান, উত্তরাধিকার কিংবা অন্য কোনো উপায়ে অর্জন করতে পারত এবং ভোগ দখলে রাখতে পারত, কিন্তু সরকার ১৯৮৪ ইং সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশজারির মাধ্যমে ঘোষনা করেছেন যে, ১৪ই এপ্রিল ১ঌ৮৪ সাল তথা ১লা বৈশাখ ১৩৯১ বাংলা তারিখ থেকে কোনো মালিক পরিবার বা সংস্থা ৬০ বিঘার (২০ একর) অতিরিক্ত কোনো কৃষি জমি ক্রয় সুত্রে/ উত্তরাধিকার সুত্রে/দান বা হেবা কিংবা অন্য কোনো উপায়ে অর্জন করতে পারবেন না।

[১৯৮৪ সালের ভুমি সংস্কার অধ্যাদেশের৪ নং ধারার ১ উপধারা]

অত্র অধ্যাদেশের ৪ নং ধারার ৩ উপধারাতে বলা হয়েছে যে এই অধ্যাদেশের কোনো বিধান লংঘন করে যদি কোনো মালিক বা পরিবার বা ব্যক্তি বা কোনো সংস্থা যে কোনো পদ্ধতিতে নতুন কৃষি জমি অর্জন করেন এবং পূর্বে এবং নতুন অর্জিত জমির পরিমাণ যদি ৬০ বিঘার অতিরিক্ত হয়ে যায় তাহলে ৬০ বিঘার অতিরিক্ত জমি সরকারের হাতে ন্যস্ত হয়ে যাবে। তবে উল্লেখ্য যে ৬০ বিঘার অতিরিক্ত জমি গুলি যদি উত্তরাধিকার, দান (হেবা) এর মাধ্যমে অর্জিত হয়ে থাকে তাহলে উক্ত অতিরিক্ত জমির জন্য সরকার জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ দিবেন।

আইন না জানা কোন অজুহাত নয়


আইন জগতে একটি বহুল প্রচলিত ম্যাক্সিম হলো

law-books_1আইন না জানা কোন অজুহাত নয়।

ল্যাটিন ভাষায় Ignorantia juris non excusat. কেউ একটি ভুল করে এসে অজুহাত দিতে পারবেনা যে ওহ আমি তো জানতামনা যে আমি যা করেছি তা আইনে নিষিদ্ধ। সংসদ বা অথরিটি তথা সরকার যে আইন করবে, তা জনগণের জানা থাকা উচিত। সরকার আইন প্রনয়ণ করে যাবে আর তা জেনে নেওয়ার ও সেই আইনমতে চলার দায়িত্ব জনতার। সরকারের প্রতিটি নাগরিকের কানের কাছে এসে বলা বাস্তবসম্মত নয় যে অমুক আইন হয়েছে, এখন থেকে অমুক কাজটি করা যাবেনা। তাছাড়া, কেউ যদি সংশ্লিষ্ট আইন জানা থাকার পরও দাবী করে বসে যে সে আইনটি সম্পর্কে জানতোনা তাহলে কি হবে? সে-ক্ষেত্রে হয়তো বার্ডেন অব প্রুফ সোজা গিয়ে পড়বে ক্লেইম্যান্ট আসামী/বিবাদীর উপরঃ তুমিই প্রমান কর যে তুমি আইনটা জানতেনা! আর এই অজুহাতকে প্রশ্রয় দিলে জনতা তো আইন জানতেও আগ্রহী হবেনা। এসব-ই ট্রাডিশনাল এ্যাপ্রোচ। কিন্তু আজকাল এই এ্যাপ্রোচের যথেষ্ট সমালোচনা হচ্ছে। আসুন দেখি, এই এ্যাপ্রোচের বিপরীতে আধুনিক আইনবিদগণ কি ভাবছেন।

আমরা যে due process এর কথা জানি, তার অন্যতম একটি প্রিন্সিপল হল Principle of fair warning, অর্থাৎ আইনে কি নিষেধ করা হলো না হলো তা জনতাকে অবশ্যই যুক্তিসঙ্গতভাবে সতর্ক করতে হবে। সরকার অনেকসময় অনেক কঠোর শাস্তির বিধান-সম্বলিত আইন করে রেখে দিতে পারে, যা জনতা না-ও জানতে পারে। এখন সেই জনতার কেউ যদি সেই আইনের আওতায় চলে আসে ও আইন না জানার অজুহাত দেখায়, আর আদালত যদি তাকে ‘নো এক্সকিউজ’ বলে সাজা দিয়ে দেয়, তাহলে কি তার প্রতি অবিচার হবে না? সরকারকে অবশ্যই যথেষ্ঠ পরিমানে আইনটির প্রচার প্রচারণা চালানো উচিত। শুধু গেজেটে প্রকাশ করা কি যথেষ্ট? এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ল’তেও আমরা পড়েছি, কারও বিরুদ্ধে কোন এ্যাকশন নিতে গেলে পূর্বে তাকে যুক্তিসঙ্গত সময় দিয়ে নোটিশ করতে হয়, জানাতে হয়, সতর্ক করতে হয়।

একটা আইন কেউ জানতো কি জানতোনা তা নির্ণয় করা অবশ্য একটি জটিল ব্যাপার। এজন্য নানান মেকানিজম নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা হচ্ছে। যেমন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে এলাকায় বাস করে সে এলাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ (যাদের শিক্ষাদীক্ষা ও বুদ্ধির একটি স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে) আইনটি জানে/জানতো কিনা।

আমাদের দেশের অবস্থা একটু চিন্তা করা যাক। দেশের অধিকাংশ লোক এখনও সুশিক্ষিত নয়। রাষ্ট্র বা সরকারসমূহ জনতার শিক্ষার যথেষ্ঠ বন্দোবস্ত করেনি, করেছে কি? সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র এক্ষেত্রে সবসময় ‘চেষ্টা’ করে থাকে। তারমধ্যে আমাদের আইনগুলোর ভাষা হলো ইংরেজী। ইদানীং কিছু আইন বাংলায় হচ্ছে। কৃষক শ্রমিক জনতা এই আইনের কতটুকুই বা বুঝবে? এমনিতেই কিন্তু আইনের ভাষা (সঙ্গত কারণে) বেশ জটিল। একটা আইন শুধু গেজেটে প্রোমালগেট করাই কি যথেষ্ট? শিক্ষিত লোকজনও কি স্বাভাবিকভাবে খোঁজখবর রাখে, কোন আইনটা পাশ করলো সংসদ? আবার, এই আইনগুলো জনতা কোথায় কিভাবে পাবে বা পড়তে পারবে তা কি তারা জানে? তাদের কি সেই সক্ষমতা আছে? ইন্টারনেটে, ধরা যাক, আইনগুলো পাওয়া যায়। দেশের সাধারণ মানুষ কি ইন্টারনেট থেকে আইন উদ্ধার করে তার পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম? সক্ষম নয় বলে তার দায় কতটুকু তাদের উপরে চাপানো যায়? এখানে একটি বড় ফাঁক থেকে যাচ্ছে, নয় কি?

আবার প্রতিটি আইনের বিধি বিধান জনগণের সামনে যথেষ্ট সহজ ও স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হওয়া বাঞ্চনীয়। Void-for-vagueness doctrine নামে আমেরিকায় বিচারিক সিদ্ধান্ত তথা কমন ল’ হতে উদ্ভাবিত একটি ডকট্রিন আছে যার মূল কথা হলোঃ “men of common intelligence cannot be required to guess at the meaning of [a criminal] enactment.” একটা আইনের অর্থ সাধারণ-বুদ্ধির একজন মানুষ বুঝবে – তা কি আশা করা ঠিক? শুধুমাত্র আইন অস্পষ্ট থাকায় অনেক আসামীকে মার্কিন আদালত খালাস দিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে আমেরিকার ল্যান্ডমার্ক মামলাটি হলো Lambert v. California, 355 U.S. 225 (1957) যেখানে সূপ্রীম কোর্ট ঘোষণা করেন, অস্পষ্ট আইনের আওতায় কাউকে সাজা দেওয়া অসাংবিধানিক।

লুৎফর রহমান শিশির
Senior Assistant Judge at Bangladesh Judicial Service

Collect From:https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=964738100222784&id=238456752850926

জাল দলিল চেনার কিছু টিপস দেওয়া হল :


জাল দলিল চেনার কিছু টিপস দেওয়া হল :

download (7)

ক) দলিলের প্রকৃতি অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চারটি রেজিস্ট্রার বা ভলিউমে লেখা হয়ে থাকে। যদি কোন দলিল নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দলিলটির যাবতীয় তথ্য দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নির্দিষ্টভাবে দরখাস্ত করে রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষণ করা দলিলের সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে।

খ) একই জমি একাধিক মালিকের নামে মালিকানা করা থাকলে সরেজমিনে জমিটি যে এলাকায় সেখানে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মূল মালিক কে, তা খুঁজে বের করতে হবে।

গ) স্বাক্ষর জালিয়াতির ক্ষেত্রে ভূমি অফিস থেকে বিভিন্ন সিল পরীক্ষা করে ও স্বাক্ষর বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করিয়ে নকল স্বাক্ষর নির্ণয় করতে হবে। তবে এ সময় কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে । যেমন :
# পুরনো দলিল কিন্তু সিল নতুন, কিংবা সরকারী বন্ধের দিনের উল্লেখিত তারিখ,
# পুরোনো চিহ্নিত সিল কিন্তু নতুন, বিশেষ করে অর্পিত বা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি জীবিত দেখিয়ে নকল করা।

ঘ) মিউটেশন বা নামজারিতে ধারাবাহিকতা ঠিক আছে কি না সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে তা জেনে নিতে হবে। বিশেষ করে :
# বিক্রেতার খতিয়ানের সঙ্গে সিএস জরিপের মিল,
# জমিটি যতবার বিক্রি হয়েছে জরিপ খতিয়ানে জমির ঠিকানা ও দাগ নম্বরের পরিমাণ ততবার ঠিক উল্লেখিত আছে কিনা।

ঙ) বিক্রেতার কাছ থেকে জমির সঠিক মালিকানা জানতে ভায়া দলিল সহ সব দলিল চেয়ে নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জমির ক্রমিক ও দলিল নম্বর মেলাতে হবে ।

চ) জমিটির কোনো আমমোক্তারনামা দলিল করা হয়ে থাকলে তাতে উভয় পক্ষের ছবি ব্যবহার হয়েছে কি না তা দেখে নিতে হবে ।

ছ) দানকৃত জমির ক্ষেএে :
# দলিল সম্পাদনের ও দখলের তারিখ,
# দলিলদাতার সঙ্গে গ্রহীতার সম্পর্ক এবং দলিলটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে কি না তা দেখে নিতে হবে ।

জ) সর্বশেষবার জমিটি বিক্রির সময় যে দলিল লেখকের সহায়তা গ্রহন করা হয়েছে তার নাম এবং ঠিকানা সংগ্রহ করে প্রয়োজনে তার সাথে সরাসরি দেখা করে আলাপ করে নিতে হবে ।

ঝ) দলিলের উল্টো পৃষ্টায় উল্লেখিত স্ট্যাম্প ভেন্ডারের নাম, ঠিকানা ও ক্রমিক নম্বর এবং বিক্রির তারিখ দেখে এর সত্যতা জেনে নিতে হবে

হলফনামা সম্পাদন করার নিয়ম


হলফনামা সম্পাদন করার নিয়ম

11033726_1607163869516587_77550601806422026_n

জমি কেনাবেচা, বিয়ে কিংবা বিচ্ছেদ, নাম পরিবর্তন বা সংশোধন, পাসপোর্টে নাম সংশোধন ও মামলা মোকদ্দমাসহ নানা কাজে প্রয়োজন হয় হলফনামার। এ ছাড়া বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ তৈরির কাজেও লাগে হলফনামা। হলফনামা হচ্ছে কোনো বিষয়ে সত্যতাসহ এর সমর্থনে ঘোষণা দেওয়া। যথাযথ নিয়মকানুন মেনেই সম্পাদন করতে হয় হলফনামা।

হলফনামায় যা যা উল্লেখ করতে হবে:
•হলফনামা হবে লিখিত। এতে হলফকারীর পূর্ণ নাম, ঠিকানা, বাবা-মায়ের নাম, জাতীয়তা, বয়স, পেশা ও ধর্ম উল্লেখ করতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর। হলফকারী ব্যক্তি কী বিষয়ে, কী কারণে ও কেন হলফ করছেন তাঁর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে হবে।
•কোনো জমিজমা নিয়ে হলে জমির তফসিল উল্লেখ করতে হবে।
বিয়ে সংক্রান্ত হলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, বয়স ও পেশা উল্লেখ করতে হবে। বিয়ের তারিখ, কত টাকা দেনমোহর নির্ধারণ হয়েছে এবং দেনমোহরের কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে সেটাও উল্লেখ থাকতে হবে। প্রয়োজনে সাক্ষীদের নাম ঠিকানাও দিতে হবে। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও এসব তথ্য উল্লেখ করতে হবে। কী কারণে তালাক দেওয়া হয়েছে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকতে হবে। তবে বিয়ের হলফনামায় স্বামী ও স্ত্রী দুজনের স্বাক্ষর লাগবে। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে যিনি বিবাহবিচ্ছেদের হলফনামা করছেন শুধু তিনি স্বাক্ষর দেবেন।
•যেকোনো হলফনামায় অবশ্যই যে তারিখে হলফনামাটি সম্পাদন করা হচ্ছে সেই তারিখটি উল্লেখ করতে হবে।
•নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পূর্ব নাম কী ছিল এবং বর্তমান নামে কী সংশোধন হয়েছে তা স্পষ্ট করে লিখতে হবে।
•হলফকারীকে হলফনামার সঙ্গে পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি দিতে হবে এবং স্বাক্ষর করতে হবে।
•হলফনামার শেষ অংশে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে শনাক্ত করাতে হবে এবং আইনজীবীকে উল্লেখ করতে হবে এই হলফনামাটি তার সামনে সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনজীবীকে আইনজীবী সমিতির সদস্য নম্বরসহ হলফনামায় স্বাক্ষর করতে হবে। মনে রাখতে হবে যেকোনো হলফনামা করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে বিষয়ে হলফনামাটি করা হচ্ছে তার সত্যতার বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা।

কীভাবে সম্পাদন করতে হবে:

হলফনামা সম্পাদন করতে হয় ২০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। তবে বিবাহবিচ্ছেদের হলফনামা করতে হবে ৫০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। হলফনামা লেখার পর (কম্পোজ বা টাইপ) নোটারি পাবলিক বা প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সত্যায়ন করাতে হবে। নিয়ম হচ্ছে যিনি হলফনামাটি করলেন তিনি নোটারি পাবলিক কিংবা প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁর হলফনামাটি সম্পর্কে সত্যপাঠ করবেন। তখন নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেট হলফনামাটি যাচাই-বাছাই করে এর ওপর স্বাক্ষর দেবেন এবং একটি বিশেষ সরকারি সিল ব্যবহার করে এতে ক্রমিক নম্বর বসাবেন। হলফনামাটির একটি ফটোকপি তিনি রেখে দেবেন।

জেনে রাখুন:
•কোনো মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করলে ক্ষেত্রবিশেষে হলফনামা আদালতে দাখিল করতে হয়। বিশেষ করে দেওয়ানি মোকদ্দমায় অন্তর্বর্তীকালীন কোনো প্রতিকার চাইলে এবং এর জবাব দিলে বিচারপ্রার্থীকে হলফনামা দিতে হয় দরখাসে্তর বা জবাবের সঙ্গে। এই হলফনামায় ছবি লাগে না এবং আদালতের সেরেস্তাদারের সামনে স্বাক্ষর করতে হয়। সেরেস্তাদার যাচাই-বাছাই করার পর আদালতে প্রেরণ করেন। জমি কেনা-বেচার দলিলের সঙ্গে দলিল নিবন্ধনের সময় হলফনামা দিতে হয় সাবরেজিস্ট্রি অফিসে।
•নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে হলফনামা করার পর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। হলফনামা দিয়ে বয়স পরিবর্তন করা যাবে না। কোনো বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক আইন অনুযায়ী প্রথমে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। তারপর তাঁরা ইচ্ছা করলে হলফনামা করে রাখতে পারেন। পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিয়ে না করে শুধু এ হলফনামা সম্পন্ন করা উচিত নয়। শুধু হলফনামা সম্পাদন করলেই আইন অনুযায়ী বিয়ে হয়েছে বলা যাবে না। তালাকের ক্ষেত্রেও পারিবারিক আইন মেনে তালাক দিতে হবে। মুসলমান হলে কাজির মাধ্যমে তালাকের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই তালাকের হলফনামা সম্পন্ন করা উচিত।

Source: ainoainjibi.com

এডওয়ার্ড মার্শাল হল-এর আইন সাধনা; আইন উৎসাহী ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী দের জন্য


এডওয়ার্ড মার্শাল হল-এর আইন সাধনা; আইন উৎসাহী ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী দের জন্য।

bangladesh-army-online-dhaka-guide

যদি কেউ আইনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগ থেকে নেশার মত শুধু আইন সাধনা করতে থাকেন এবং অধিক কাজের ফলশ্রুতিতে মৃত্যুমুখে পতিত হন তাহলে আপনি তাকে কি বলবেন? যদি কেউ যৌবনে আইন ও ক্যারিয়ারের নেশায় মাতাল হয়ে নিজ-সংসার তুচ্ছ জ্ঞান করেন এবং ফলশ্রুতিতে অতি সুন্দরী ও ললনাময়ী স্ত্রী ও যদি তাকে ত্যাগ করেন তাহলে ওই আইনী আশেককে আপনি কি নামে ডাকবেন? আপনি তাকে যেভাবেই মূল্যায়ন করেন না কেন আমার চোখে সে আইনের মস্ত বড় সাধক। হ্যাঁ, আজকের আলোচ্য উক্ত সাধকের নাম ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হল। বৃটিশ ভারতের পটভূমিতে রচিত ক্যালকাটা হাইকোর্ট তথা আদালত পাড়া কেন্দ্রিক উকিল-ব্যারিষ্টারদের দৈনন্দিন জীবন-আচার ভিত্তিক চিত্র উল্লেখে ‘শংকর’ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘কত অজানারে’র মাধ্যমে সর্বপ্রথম ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হলের নাম ও সুনাম সম্পর্কে প্রথম অবগত হবার সুযোগ লাভ করি। প্রচন্ড আগ্রহ থেকে পরবর্তীতে তাঁর সম্পর্কে ইন্টারনেট ও পুস্তকে জানার চেষ্টা করি। তারই ফলশ্রুতি আজকের আইন সাধকদের জীবনী পর্বে ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হলের জীবনী শ্রদ্ধাভরে আলোচনা।

Sir Edward Marshall Hall KC, জন্ম ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৫৮ Brighton, England. এবং মৃত্যু২৪ ফেব্রুয়ারী, ১৯২৭. তিনি ছিলেন একজন ইংলিশ ব্যরিষ্টার। সমসাময়িককালে লোকজন তাকে সবচে’ বেশি যে নামে চিনতেন তা হল তিনি ছিলেন ফৌজদারী মামলার এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী আসামী পক্ষের কৌশলী। তাঁর অসাধারণ বাচন ভঙ্গি ও জবানবন্দী ও জেরার করার ক্ষমতা তাকে তাঁর পেশার সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। ইতিহাসে আলোচিত অনেক কুখ্যাত খুনের মামলা থেকে নিরপরাধ আসামীদের ছাড়িয়ে আনার সুখ্যাতি তাকে “The Great Defender” নামে পরিচিত করেছিল।

মার্শাল হল ভিক্টোরিয়ান যুগ ও তৎপরবর্তী এডওয়ার্ডীয়ান যুগে ব্যরিষ্টার হিসাবে ইংল্যান্ডের আদালত সমূহ কাপিয়ে বেড়িয়েছেন। তখনকার সময় বড় বড় ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা ব্যাপকভাবে জন আগ্রহে পরিণত হয়েছিল কার সেগুলো দৈনন্দিন ভিত্তিতে জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোতে প্রচার হত। তখনকার সময়ে আলোচিত আইনজীবীদের মধ্যে তাঁর বাচনভঙ্গিগত ও উৎকর্ষতা, আইনী যুক্তি ও জেরা-জবানবন্দীর কৌশল অন্য অনেক আইনজীবীদের তুলনায় অধিক আকর্ষনীয় ও উপভোগ্য ছিল। বলা হয় যখন তিনি চাঞ্চল্যকর ফৌজদারী মামলাগুলোর শুনানি করতেন তখন আদালতের ভেতর বাইরে উৎসুক জনতার ঢল সামলানো কঠিন হয়ে পড়ত।

ব্যক্তিগত জীবনঃ
১৮৮২ সালের তিনি Ethel Moon নামীয় একজন মহিলাকে তিনি বিয়ে করেন যদিও তাঁর উক্ত বিবাহ সুখকর হয় নি। তারা প্রায়শই আলাদা থাকতেন এবং ১৮৮৯ সালে চূড়ান্তভাবে তারা আইনী পন্থায় আলাদা হয়ে যান। ১৯৯০ সালে মুন তাঁর বয়ফ্রেন্ড কর্তৃক গর্ভবতী হন এবং পরবর্তীতে ভুল এ্যাবোরশনের ফলে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন যদিও এই কারণে এথেল মুনের বয়ফ্রেন্ড, এবর্শনিষ্ট ও অন্য কতিপয়কে হত্যার দায়ে আইনের মুখোমুখি হতে হয়। বলা হয় এথেল মুনের মৃত্যুও ব্যারিস্টার মার্শালের আইন ক্যারিয়ার গঠনে ভূমিকা রাখে কেননা তিনি এথেলের প্রতি উদাসীনতার অনুশোচনা বোধ থেকে পুরুষ কর্তৃক নিষ্ঠুর আচরণের স্বীকার অনেক মহিলার পাশে দাড়িয়েছেন। যাই হোক, তিনি পরবর্তী জীবনে হেনেরিটা নামে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেন এবং সেখানে তাঁর এলনা নামে এক কন্যা সন্তান ছিল।
তিনি অত্যন্ত্য কাজ পাগল একজন আইনজীবী ছিলেন। ক্লায়েন্টের প্রতিটি মামলাকে তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়ে সেগুলো নিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, গবেষণা, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিংস ইত্যাদি কাজে নিমগ্ন থাকতেন। প্রতিটি মামলার প্রতি তাঁর এইরুপ গুরুত্ব আরোপ অন্য আইনজীবী থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে তাকে সাহায্য করেছিল। অতিরিক্ত কাজের ফলে নিজের প্রতি তিনি খেয়াল রাখতে উদাসীনতা প্রদর্শণন করেন এবং বলা হয় নিজের প্রতি এরুপ উদাসীনতা তাকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত করে যা তাকে ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যু মুখে তুলে দেয়।

Camden Town Murder
মার্শালের জীবনে তাকে “The Great Defender” নামে সুখ্যাতি আনতে যে কয়েকটি মামলা টনিকের মত কাজ করেছিল তাঁর মধ্যে একটি ছিল Camden Town Murder Case. ১৯০৭ সালে মার্শালের কাছে এই মামলার ব্রিফ আসে। এই মামলায় মার্শাল এমন এক আসামীকে বাচিয়েছিলেন যাকে ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে খুনের দায়ে আদালতে তাঁর সর্বোচ্চ সাজা হতে যাচ্ছে। কারণ ঘটনার আগে পরে তাঁর ভূমিকা, টি,আই প্যারেডে তাঁর সনাক্ত করণ, আসামী নিজ কর্তৃক এক্সট্রা জুডিশিয়াল স্বীকারোক্তি, পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্য ইত্যাদি বিবেচনায় প্রাইমা ফেসি সবাই ঊডকে দোষী সাব্যস্ত্য করবে- এটাই ছিল স্বাভাবিক। মামলার সংক্ষিপ্ত ঘটনা এই যে, এমিলি ডিমোক ওরফে ফিলিস নামিয় এক পতিতার গলাকাটা মৃতদেহ তাঁর ঘরে পাওয়া যায়। ঘরে এমন এক পোষ্ট কার্ড ও পাওয়া যায় যার হাতের লেখা ছিল আসামী রবার্ট উডের। পোষ্ট কার্ডে ঘটনার রাতে আসামী ভিক্টিমকে তাঁর সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য বলেন। শুধু তাই নয় ঘটনার পর আসামীর গার্লফ্রেন্ড রুবি ইয়ংকে (যিনিও একজন পতিতা ছিলেন) আসামী অনুরোধ করেন যে, যদি কেউ আসামী উডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে তাহলে যেন রুবি সেই জিজ্ঞাসাকারীকে এটা বলে দেয় যে, ঘটনার সময় আসামী উড রুবির সাথে ছিল। উল্লেখ্য, টি, আই প্যারেডে অন্য স্বাক্ষীগন আসামীকে সনাক্ত করেন, অন্য সাক্ষী তাঁর সাক্ষে আদালতে লেন যে, ঘটনার রাতে আসামিকে উক্ত ঘটনা স্থলের নিকটে দেখা গেছে। কেউবা আবার বলেন যে, আসামির সহিত মৃত ভিক্টিমকে স্থানীয় ব্রোথেলে দেখা গেছে। অন্য দিকে যদিও পোষ্ট কার্ডে প্রেরকের ঠিকানায় ‘এলিস’ নামে একজনের নাম লেখা ছিল কিন্তু হাতের লেখা যে রবার্ট উডের এটা প্রমাণ হয়েছিল। সুতরাং সব বিবেচনায় আসামী রবার্টই যে উক্ত এমিলি ডিমোকের হত্যার জন্য দায়ী এটা প্রতীয়মান হচ্ছিল যদিও খুনের মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হয় নি।

এডোয়ার্ড মার্শালের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছিল কেননা ১৯০৭ সালের আগে তখনকার সময় তাঁর আইন পেশায় খুব মন্দাভাব ছিল। ভাল কোন ব্রিফ তাঁর হাতে ছিল না। সুতরাং এই মামলায় মার্শাল তাঁর অসাধারণ ভাষা শৈলির ব্যাবহার সর্বোপরি অবিশ্বাস্য জেরার মাধ্যমে আসামী রবার্ট উডকে নিশ্চিত শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন। (সুযোগ পেলে Camden Town Murder Case-এর বিস্তারিত একদিন লিখবো, অসাধারণ এক মামলা। আমি একটি পূর্ণদিন সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পুরো মামলাটি পড়েছি। এক কথায় অসাধারণ)।

Green Bicycle Murder
মার্শাল হলের অন্যতম আরেকটি মামলা হচ্ছে R v Ligh যাকে Green Bicycle Murder মামলাও বলা হয়। এই মামলাটিও পূর্বে উল্লেখিত Camden Town Murder মামলার ন্যায় পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল যা ছিল পুরোপুরি আসামির বিরুদ্ধে। এই মামলায়ও আসামীর বিরুদ্ধে যে সকল সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপণ করা হয় তা হল আসামী রোনাল্ড লাইট যাকে দেখা ঘটনার দিন ভিক্টিম মৃত বেলা রিটকে গ্রীণ সাইকেলে চড়িয়ে ঘুরতে দেখা গিয়েছল। আসামির দখলে এমন এক অস্ত্র(রিভলবার) ছিল যেটি সদৃশ্য কোন অস্ত্র দ্বারা ভিকটিমকে হত্যা করা হয়েছিল। বলা হয় আসামী কাজ শেষ হবার পর উক্ত গ্রীন বাইসাকেল খালের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন। এছাড়া গ্রেফতার হবার পর আসামী পুলিশের নিকট মিথ্যা বলেছিলেন। ব্যারিস্টার মার্শাল হল এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক উথাপিত সাক্ষ্য প্রমানের অকাট্যতা প্রমানের ব্যার্থতাসমূহ তুলে ধরা সহ জেরার মাধ্যমে সাক্ষীদের বিশ্বাস যোগ্যতাতাকে খন্ডন করেন। এছাড়া কিছু ল’ পয়েন্টে ব্যারিস্টার মার্শাল হল এমন সব যুক্তি তুলে ধরেন যার মাধ্যমে জুরিরা আসামীকে খালাস দিতে বাধ্য হন। ল’ পয়েন্ট গুলোর মধ্যে একটি হল খুনের জন্য পূর্বপরিকল্পনার বিষয়টি অন্যতম। কিন্তু এই মামলায় ‘হেয়ার সে’ (বাংলাদেশে ডাইং দেক্লারেশনের অনুরুপ) নিয়মের উপর ভিত্তি করে এবং ভিক্টিমের প্রদত্ত জবান বন্দীর উপর নির্ভর করে ব্যারিস্টার হল এটা প্রমাণ করেন যে, খুনের সাথে আসামীর কোন যোগ সূত্রতা নেই।

সফলতার পাশাপাশি তিনি কতিপয় মামলায় ব্যার্থ্যও হয়েছেন। ১৯১২ সালে বিখ্যাত পয়জনিং মামলায় তিনি আসামী ফ্রেডারিক সেডনকে রক্ষা করতে ব্যার্থ হন যদিও বলা হয় সেডনের ফাঁসির জন্য সেডন নিজেও দায়ি কারণ সে আইনজীবীর পরামর্শ পুরোপুরি মানেন নি। এছাড়া তিনি জীবনে অসংখ্য ফৌজদারী মামলা পরিচালনা করেন এবং অনেককে তীক্ষ্ণ আইনী যুক্তি, কেস স্টাডি ইত্যাদির মাধ্যমে অনেককে রক্ষা করেন।

জীবনে তিনি সংসদে জন প্রতিনিধি হিসাবেও যাবার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তাঁর জীবনী বিবিসি’তে ৮ পর্বের ধারাবাহিকে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর বিভিন্ন বিখ্যাত মামলা গুলোও টেলিভিশনে উপস্থাপিত ও প্রচারিত হয়েছে। পরিশ্রম করলে, আইনকে ভালবাসলে যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে স্থান করে নেয়া যায় – ব্যারিস্টার মার্শাল হলের জীবনী থেকে এটাই হোক আমাদের শিক্ষা।