ফৌজদারি মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য


ফৌজদারি মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য

download (8)

কিছু লিখিত-অলিখিত নৈতিকতা সব আইনজীবীরই থাকা উচিত। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী (ডিফেন্স ল ইয়ার) ও সরকারি পক্ষের কেঁৗসুলির (প্রসিকিউটর) জন্য পেশাগত জীবনে অবশ্যপালনীয় নীতিমালা হিসেবে বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপত্তি হয়েছে। কমন ল-ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোয় বিদ্যমান বিচারব্যবস্থায় বিভিন্ন বিচারিক নজির, সংবিধি অথবা নিয়ন্ত্রণকারী আইনজীবী সংগঠন (বার কাউন্সিল/অ্যাসোসিয়েশন) কর্তৃক নির্ধারিত/প্রণীত আচরণবিধির মাধ্যমে এসব নীতির উৎপত্তি হয়েছে। এসব নীতি পালনে ব্যর্থতার জন্য অনেক সময় একজন আইনজীবীকে ভর্ৎসনা, বরখাস্তসহ বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে পারে। তাই একজন আইনজীবীর পেশাগত জীবনে এসব নীতি মেনে চলা নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য।
অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীর কর্তব্য : বিচারক ও সরকারি কেঁৗসুলির সঙ্গে মামলা সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনায় অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীর সব সময়ই পেশাগত আচরণ করা উচিত। অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে সব সময় কার্যকর প্রতিনিধিত্ব করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব। অসাধু বা অনৈতিক আচরণ একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুনাম নষ্ট করতে পারে। এমনকি যেহেতু একজন ডিফেন্স ল ইয়ার অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করেন, তাই তার অসাধু বা অনৈতিক আচরণ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুনামও নষ্ট করতে পারে।
মক্কেলের প্রতি কর্তব্য : মক্কেলের প্রতি একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের প্রচুর দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আইনগত পরামর্শদাতা হিসেবে একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে কার্যকর ও মানসম্মত প্রতিনিধিত্ব করা নৈতিক দায়িত্ব। অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে যৌথভাবে মামলা পরিচালনার সময় একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলা নৈতিক দায়িত্ব। যুক্তিসঙ্গত দ্রুততা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে মামলা পরিচালনা করাও একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব। মক্কেলের সঙ্গে সম্পাদিত সব ধরনের যোগাযোগের গোপনীয়তা বজায় রাখা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব। মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সম্পর্কে যত দ্রুত সম্ভব তথ্যানুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তা মামলা পরিচালনায় ব্যবহার করা তার নৈতিক দায়িত্ব।
আদালতের প্রতি কর্তব্য : নৈতিক ও পেশাগত আচরণের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে আদালতের সামনে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বার্থ সংরক্ষণ করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের কর্তব্য। একজন ডিফেন্স ল ইয়ার কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের সামনে ভুল তথ্য বা আইনের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করবেন না। যেমন যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি ডিফেন্স ল ইয়ারের কাছে তার কৃত অপরাধের কথা স্বেচ্ছায় স্বীকার করেন, তবে আদালতের সামনে অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক ওই অপরাধ সংঘটিত হয়নি মর্মে জবানবন্দি প্রদানে একজন ডিফেন্স ল ইয়ার কখনো পরামর্শ দেবেন না। মামলা পরিচালনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির অনৈতিক ও অবৈধ নির্দেশনা অনুসরণ করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের জন্য অবশ্য অনুচিত। প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিগুলো যা সরাসরি অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুকূলে যায়, কিন্তু সরকারি পক্ষের আইনজীবী আদালতে উত্থাপন করেননি, সেসব আইন ও বিধিগুলো খুঁজে বের করে আদালতে উত্থাপন করা একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের অবশ্য-দায়িত্ব। তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তি ও মামলাসংশ্লিষ্ট অন্য সব পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান স্বার্থের দ্বন্দ্ব অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন। ফৌজদারি বিচার প্রশাসনের উন্নয়ন ও পুনর্গঠন এবং মূল আইন (সাবস্টান্টিভ ল) ও পদ্ধতিগত আইনে (প্রসিডিউরাল ল) যদি কোনো অপ্রতুলতা থেকে থাকে তবে তা খুঁজে বের করে নিরসনের উদ্যোগ নেয়া একজন ডিফেন্স ল ইয়ারের নৈতিক দায়িত্ব।
রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি বা প্রসিকিউটরের কর্তব্য : উনিশ শতকের গোড়ার দিকে অধিকাংশ মামলাই অভিযোগকারী (ভিকটিম) ব্যক্তিগতভাবে নিজে পরিচালনা করতেন। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি (প্রসিকিউটর) অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। বর্তমানে রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি রাষ্ট্র ও ভিকটিম উভয়ের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন। ফৌজদারি মামলার কার্যকর পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি (প্রসিকিউটর) মুখ্য ভূমিকা রাখেন। কারণ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধের অভিযোগগুলো প্রমাণে তিনি কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। যদি অভিযোগকারী কর্তৃক আনীত অপরাধগুলো অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পাদন করেছেন মর্মে বিশ্বাস করার সম্ভাব্য যথেষ্ট কারণ থাকে, তবেই একজন রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির ওই মামলা পরিচালনা করা উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে মামলাটি পরিচালনা না করে বাতিলের পরামর্শ দেয়া তার নৈতিক দায়িত্ব। বিচারের সময় অবৈধভাবে প্রাপ্ত সাক্ষ্যগুলো ব্যবহার করা রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির কোনোভাবেই উচিত নয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটন করেননি মর্মে কোনো সাক্ষ্য বা প্রমাণাদি পেলে সে তথ্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জানানো রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির নৈতিক দায়িত্ব।
মামলায় বিচারের আগে, বিচার চলাকালে বা বিচার-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলির অযৌক্তিক মন্তব্য যেমন ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষীর গ্রহণযোগ্যতাকে হেয় করে এমন কোনো মন্তব্য; বর্ণ, জাতীয়তা, লিঙ্গ বা অন্য কোনো কারণে পক্ষপাতিত্বমূলক মন্তব্য; প্রতিহিংসা বা সহানুভূতিশীল মন্তব্য; সাক্ষ্য থেকে বাদ দেয়া হয়েছে এমন খারাপ কাজ সম্পর্কে মন্তব্য; জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির নিশ্চুপ থাকার অধিকার প্রয়োগ সম্পর্কে মন্তব্য ইত্যাদি করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমাদের দেশের অধিকাংশ আইনজীবী মক্কেলের প্রতি তাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞাত নন। যদিও বা কিছু কিছু আইনজীবী তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, কিন্তু সিনিয়র, জুনিয়র, খ্যাতিমান, অখ্যাত নির্বিশেষে অধিকাংশ আইনজীবীর সেসব নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য পালনে অনীহা লক্ষ্য করা যায়। ফলে মক্কেলরা অনেক সময় হয়রানির শিকার হন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই বিচারব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে একজন আইনজীবীর মক্কেলের প্রতি তাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব-কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করা উচিত।

লেখক : তরুণ ও উদীয়মান মানবাধিকার
কর্মী ও আইনজীবী
জাস্টিসমেকার্স ফেলো, সুইজারল্যান্ড
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এ কর্মরত

Collected : আইন শিক্ষা (Law Education)

হলফনামা সম্পাদন করার নিয়ম


হলফনামা সম্পাদন করার নিয়ম

11033726_1607163869516587_77550601806422026_n

জমি কেনাবেচা, বিয়ে কিংবা বিচ্ছেদ, নাম পরিবর্তন বা সংশোধন, পাসপোর্টে নাম সংশোধন ও মামলা মোকদ্দমাসহ নানা কাজে প্রয়োজন হয় হলফনামার। এ ছাড়া বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ তৈরির কাজেও লাগে হলফনামা। হলফনামা হচ্ছে কোনো বিষয়ে সত্যতাসহ এর সমর্থনে ঘোষণা দেওয়া। যথাযথ নিয়মকানুন মেনেই সম্পাদন করতে হয় হলফনামা।

হলফনামায় যা যা উল্লেখ করতে হবে:
•হলফনামা হবে লিখিত। এতে হলফকারীর পূর্ণ নাম, ঠিকানা, বাবা-মায়ের নাম, জাতীয়তা, বয়স, পেশা ও ধর্ম উল্লেখ করতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর। হলফকারী ব্যক্তি কী বিষয়ে, কী কারণে ও কেন হলফ করছেন তাঁর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে হবে।
•কোনো জমিজমা নিয়ে হলে জমির তফসিল উল্লেখ করতে হবে।
বিয়ে সংক্রান্ত হলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, বয়স ও পেশা উল্লেখ করতে হবে। বিয়ের তারিখ, কত টাকা দেনমোহর নির্ধারণ হয়েছে এবং দেনমোহরের কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে সেটাও উল্লেখ থাকতে হবে। প্রয়োজনে সাক্ষীদের নাম ঠিকানাও দিতে হবে। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও এসব তথ্য উল্লেখ করতে হবে। কী কারণে তালাক দেওয়া হয়েছে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকতে হবে। তবে বিয়ের হলফনামায় স্বামী ও স্ত্রী দুজনের স্বাক্ষর লাগবে। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে যিনি বিবাহবিচ্ছেদের হলফনামা করছেন শুধু তিনি স্বাক্ষর দেবেন।
•যেকোনো হলফনামায় অবশ্যই যে তারিখে হলফনামাটি সম্পাদন করা হচ্ছে সেই তারিখটি উল্লেখ করতে হবে।
•নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পূর্ব নাম কী ছিল এবং বর্তমান নামে কী সংশোধন হয়েছে তা স্পষ্ট করে লিখতে হবে।
•হলফকারীকে হলফনামার সঙ্গে পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি দিতে হবে এবং স্বাক্ষর করতে হবে।
•হলফনামার শেষ অংশে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে শনাক্ত করাতে হবে এবং আইনজীবীকে উল্লেখ করতে হবে এই হলফনামাটি তার সামনে সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনজীবীকে আইনজীবী সমিতির সদস্য নম্বরসহ হলফনামায় স্বাক্ষর করতে হবে। মনে রাখতে হবে যেকোনো হলফনামা করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে বিষয়ে হলফনামাটি করা হচ্ছে তার সত্যতার বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা।

কীভাবে সম্পাদন করতে হবে:

হলফনামা সম্পাদন করতে হয় ২০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। তবে বিবাহবিচ্ছেদের হলফনামা করতে হবে ৫০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। হলফনামা লেখার পর (কম্পোজ বা টাইপ) নোটারি পাবলিক বা প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সত্যায়ন করাতে হবে। নিয়ম হচ্ছে যিনি হলফনামাটি করলেন তিনি নোটারি পাবলিক কিংবা প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁর হলফনামাটি সম্পর্কে সত্যপাঠ করবেন। তখন নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেট হলফনামাটি যাচাই-বাছাই করে এর ওপর স্বাক্ষর দেবেন এবং একটি বিশেষ সরকারি সিল ব্যবহার করে এতে ক্রমিক নম্বর বসাবেন। হলফনামাটির একটি ফটোকপি তিনি রেখে দেবেন।

জেনে রাখুন:
•কোনো মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করলে ক্ষেত্রবিশেষে হলফনামা আদালতে দাখিল করতে হয়। বিশেষ করে দেওয়ানি মোকদ্দমায় অন্তর্বর্তীকালীন কোনো প্রতিকার চাইলে এবং এর জবাব দিলে বিচারপ্রার্থীকে হলফনামা দিতে হয় দরখাসে্তর বা জবাবের সঙ্গে। এই হলফনামায় ছবি লাগে না এবং আদালতের সেরেস্তাদারের সামনে স্বাক্ষর করতে হয়। সেরেস্তাদার যাচাই-বাছাই করার পর আদালতে প্রেরণ করেন। জমি কেনা-বেচার দলিলের সঙ্গে দলিল নিবন্ধনের সময় হলফনামা দিতে হয় সাবরেজিস্ট্রি অফিসে।
•নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে হলফনামা করার পর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। হলফনামা দিয়ে বয়স পরিবর্তন করা যাবে না। কোনো বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক আইন অনুযায়ী প্রথমে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। তারপর তাঁরা ইচ্ছা করলে হলফনামা করে রাখতে পারেন। পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিয়ে না করে শুধু এ হলফনামা সম্পন্ন করা উচিত নয়। শুধু হলফনামা সম্পাদন করলেই আইন অনুযায়ী বিয়ে হয়েছে বলা যাবে না। তালাকের ক্ষেত্রেও পারিবারিক আইন মেনে তালাক দিতে হবে। মুসলমান হলে কাজির মাধ্যমে তালাকের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই তালাকের হলফনামা সম্পন্ন করা উচিত।

Source: ainoainjibi.com

এডওয়ার্ড মার্শাল হল-এর আইন সাধনা; আইন উৎসাহী ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী দের জন্য


এডওয়ার্ড মার্শাল হল-এর আইন সাধনা; আইন উৎসাহী ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী দের জন্য।

bangladesh-army-online-dhaka-guide

যদি কেউ আইনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগ থেকে নেশার মত শুধু আইন সাধনা করতে থাকেন এবং অধিক কাজের ফলশ্রুতিতে মৃত্যুমুখে পতিত হন তাহলে আপনি তাকে কি বলবেন? যদি কেউ যৌবনে আইন ও ক্যারিয়ারের নেশায় মাতাল হয়ে নিজ-সংসার তুচ্ছ জ্ঞান করেন এবং ফলশ্রুতিতে অতি সুন্দরী ও ললনাময়ী স্ত্রী ও যদি তাকে ত্যাগ করেন তাহলে ওই আইনী আশেককে আপনি কি নামে ডাকবেন? আপনি তাকে যেভাবেই মূল্যায়ন করেন না কেন আমার চোখে সে আইনের মস্ত বড় সাধক। হ্যাঁ, আজকের আলোচ্য উক্ত সাধকের নাম ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হল। বৃটিশ ভারতের পটভূমিতে রচিত ক্যালকাটা হাইকোর্ট তথা আদালত পাড়া কেন্দ্রিক উকিল-ব্যারিষ্টারদের দৈনন্দিন জীবন-আচার ভিত্তিক চিত্র উল্লেখে ‘শংকর’ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘কত অজানারে’র মাধ্যমে সর্বপ্রথম ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হলের নাম ও সুনাম সম্পর্কে প্রথম অবগত হবার সুযোগ লাভ করি। প্রচন্ড আগ্রহ থেকে পরবর্তীতে তাঁর সম্পর্কে ইন্টারনেট ও পুস্তকে জানার চেষ্টা করি। তারই ফলশ্রুতি আজকের আইন সাধকদের জীবনী পর্বে ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হলের জীবনী শ্রদ্ধাভরে আলোচনা।

Sir Edward Marshall Hall KC, জন্ম ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৫৮ Brighton, England. এবং মৃত্যু২৪ ফেব্রুয়ারী, ১৯২৭. তিনি ছিলেন একজন ইংলিশ ব্যরিষ্টার। সমসাময়িককালে লোকজন তাকে সবচে’ বেশি যে নামে চিনতেন তা হল তিনি ছিলেন ফৌজদারী মামলার এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী আসামী পক্ষের কৌশলী। তাঁর অসাধারণ বাচন ভঙ্গি ও জবানবন্দী ও জেরার করার ক্ষমতা তাকে তাঁর পেশার সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। ইতিহাসে আলোচিত অনেক কুখ্যাত খুনের মামলা থেকে নিরপরাধ আসামীদের ছাড়িয়ে আনার সুখ্যাতি তাকে “The Great Defender” নামে পরিচিত করেছিল।

মার্শাল হল ভিক্টোরিয়ান যুগ ও তৎপরবর্তী এডওয়ার্ডীয়ান যুগে ব্যরিষ্টার হিসাবে ইংল্যান্ডের আদালত সমূহ কাপিয়ে বেড়িয়েছেন। তখনকার সময় বড় বড় ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা ব্যাপকভাবে জন আগ্রহে পরিণত হয়েছিল কার সেগুলো দৈনন্দিন ভিত্তিতে জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোতে প্রচার হত। তখনকার সময়ে আলোচিত আইনজীবীদের মধ্যে তাঁর বাচনভঙ্গিগত ও উৎকর্ষতা, আইনী যুক্তি ও জেরা-জবানবন্দীর কৌশল অন্য অনেক আইনজীবীদের তুলনায় অধিক আকর্ষনীয় ও উপভোগ্য ছিল। বলা হয় যখন তিনি চাঞ্চল্যকর ফৌজদারী মামলাগুলোর শুনানি করতেন তখন আদালতের ভেতর বাইরে উৎসুক জনতার ঢল সামলানো কঠিন হয়ে পড়ত।

ব্যক্তিগত জীবনঃ
১৮৮২ সালের তিনি Ethel Moon নামীয় একজন মহিলাকে তিনি বিয়ে করেন যদিও তাঁর উক্ত বিবাহ সুখকর হয় নি। তারা প্রায়শই আলাদা থাকতেন এবং ১৮৮৯ সালে চূড়ান্তভাবে তারা আইনী পন্থায় আলাদা হয়ে যান। ১৯৯০ সালে মুন তাঁর বয়ফ্রেন্ড কর্তৃক গর্ভবতী হন এবং পরবর্তীতে ভুল এ্যাবোরশনের ফলে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন যদিও এই কারণে এথেল মুনের বয়ফ্রেন্ড, এবর্শনিষ্ট ও অন্য কতিপয়কে হত্যার দায়ে আইনের মুখোমুখি হতে হয়। বলা হয় এথেল মুনের মৃত্যুও ব্যারিস্টার মার্শালের আইন ক্যারিয়ার গঠনে ভূমিকা রাখে কেননা তিনি এথেলের প্রতি উদাসীনতার অনুশোচনা বোধ থেকে পুরুষ কর্তৃক নিষ্ঠুর আচরণের স্বীকার অনেক মহিলার পাশে দাড়িয়েছেন। যাই হোক, তিনি পরবর্তী জীবনে হেনেরিটা নামে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেন এবং সেখানে তাঁর এলনা নামে এক কন্যা সন্তান ছিল।
তিনি অত্যন্ত্য কাজ পাগল একজন আইনজীবী ছিলেন। ক্লায়েন্টের প্রতিটি মামলাকে তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়ে সেগুলো নিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, গবেষণা, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিংস ইত্যাদি কাজে নিমগ্ন থাকতেন। প্রতিটি মামলার প্রতি তাঁর এইরুপ গুরুত্ব আরোপ অন্য আইনজীবী থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে তাকে সাহায্য করেছিল। অতিরিক্ত কাজের ফলে নিজের প্রতি তিনি খেয়াল রাখতে উদাসীনতা প্রদর্শণন করেন এবং বলা হয় নিজের প্রতি এরুপ উদাসীনতা তাকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত করে যা তাকে ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যু মুখে তুলে দেয়।

Camden Town Murder
মার্শালের জীবনে তাকে “The Great Defender” নামে সুখ্যাতি আনতে যে কয়েকটি মামলা টনিকের মত কাজ করেছিল তাঁর মধ্যে একটি ছিল Camden Town Murder Case. ১৯০৭ সালে মার্শালের কাছে এই মামলার ব্রিফ আসে। এই মামলায় মার্শাল এমন এক আসামীকে বাচিয়েছিলেন যাকে ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে খুনের দায়ে আদালতে তাঁর সর্বোচ্চ সাজা হতে যাচ্ছে। কারণ ঘটনার আগে পরে তাঁর ভূমিকা, টি,আই প্যারেডে তাঁর সনাক্ত করণ, আসামী নিজ কর্তৃক এক্সট্রা জুডিশিয়াল স্বীকারোক্তি, পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্য ইত্যাদি বিবেচনায় প্রাইমা ফেসি সবাই ঊডকে দোষী সাব্যস্ত্য করবে- এটাই ছিল স্বাভাবিক। মামলার সংক্ষিপ্ত ঘটনা এই যে, এমিলি ডিমোক ওরফে ফিলিস নামিয় এক পতিতার গলাকাটা মৃতদেহ তাঁর ঘরে পাওয়া যায়। ঘরে এমন এক পোষ্ট কার্ড ও পাওয়া যায় যার হাতের লেখা ছিল আসামী রবার্ট উডের। পোষ্ট কার্ডে ঘটনার রাতে আসামী ভিক্টিমকে তাঁর সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য বলেন। শুধু তাই নয় ঘটনার পর আসামীর গার্লফ্রেন্ড রুবি ইয়ংকে (যিনিও একজন পতিতা ছিলেন) আসামী অনুরোধ করেন যে, যদি কেউ আসামী উডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে তাহলে যেন রুবি সেই জিজ্ঞাসাকারীকে এটা বলে দেয় যে, ঘটনার সময় আসামী উড রুবির সাথে ছিল। উল্লেখ্য, টি, আই প্যারেডে অন্য স্বাক্ষীগন আসামীকে সনাক্ত করেন, অন্য সাক্ষী তাঁর সাক্ষে আদালতে লেন যে, ঘটনার রাতে আসামিকে উক্ত ঘটনা স্থলের নিকটে দেখা গেছে। কেউবা আবার বলেন যে, আসামির সহিত মৃত ভিক্টিমকে স্থানীয় ব্রোথেলে দেখা গেছে। অন্য দিকে যদিও পোষ্ট কার্ডে প্রেরকের ঠিকানায় ‘এলিস’ নামে একজনের নাম লেখা ছিল কিন্তু হাতের লেখা যে রবার্ট উডের এটা প্রমাণ হয়েছিল। সুতরাং সব বিবেচনায় আসামী রবার্টই যে উক্ত এমিলি ডিমোকের হত্যার জন্য দায়ী এটা প্রতীয়মান হচ্ছিল যদিও খুনের মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হয় নি।

এডোয়ার্ড মার্শালের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছিল কেননা ১৯০৭ সালের আগে তখনকার সময় তাঁর আইন পেশায় খুব মন্দাভাব ছিল। ভাল কোন ব্রিফ তাঁর হাতে ছিল না। সুতরাং এই মামলায় মার্শাল তাঁর অসাধারণ ভাষা শৈলির ব্যাবহার সর্বোপরি অবিশ্বাস্য জেরার মাধ্যমে আসামী রবার্ট উডকে নিশ্চিত শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন। (সুযোগ পেলে Camden Town Murder Case-এর বিস্তারিত একদিন লিখবো, অসাধারণ এক মামলা। আমি একটি পূর্ণদিন সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পুরো মামলাটি পড়েছি। এক কথায় অসাধারণ)।

Green Bicycle Murder
মার্শাল হলের অন্যতম আরেকটি মামলা হচ্ছে R v Ligh যাকে Green Bicycle Murder মামলাও বলা হয়। এই মামলাটিও পূর্বে উল্লেখিত Camden Town Murder মামলার ন্যায় পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল যা ছিল পুরোপুরি আসামির বিরুদ্ধে। এই মামলায়ও আসামীর বিরুদ্ধে যে সকল সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপণ করা হয় তা হল আসামী রোনাল্ড লাইট যাকে দেখা ঘটনার দিন ভিক্টিম মৃত বেলা রিটকে গ্রীণ সাইকেলে চড়িয়ে ঘুরতে দেখা গিয়েছল। আসামির দখলে এমন এক অস্ত্র(রিভলবার) ছিল যেটি সদৃশ্য কোন অস্ত্র দ্বারা ভিকটিমকে হত্যা করা হয়েছিল। বলা হয় আসামী কাজ শেষ হবার পর উক্ত গ্রীন বাইসাকেল খালের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন। এছাড়া গ্রেফতার হবার পর আসামী পুলিশের নিকট মিথ্যা বলেছিলেন। ব্যারিস্টার মার্শাল হল এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক উথাপিত সাক্ষ্য প্রমানের অকাট্যতা প্রমানের ব্যার্থতাসমূহ তুলে ধরা সহ জেরার মাধ্যমে সাক্ষীদের বিশ্বাস যোগ্যতাতাকে খন্ডন করেন। এছাড়া কিছু ল’ পয়েন্টে ব্যারিস্টার মার্শাল হল এমন সব যুক্তি তুলে ধরেন যার মাধ্যমে জুরিরা আসামীকে খালাস দিতে বাধ্য হন। ল’ পয়েন্ট গুলোর মধ্যে একটি হল খুনের জন্য পূর্বপরিকল্পনার বিষয়টি অন্যতম। কিন্তু এই মামলায় ‘হেয়ার সে’ (বাংলাদেশে ডাইং দেক্লারেশনের অনুরুপ) নিয়মের উপর ভিত্তি করে এবং ভিক্টিমের প্রদত্ত জবান বন্দীর উপর নির্ভর করে ব্যারিস্টার হল এটা প্রমাণ করেন যে, খুনের সাথে আসামীর কোন যোগ সূত্রতা নেই।

সফলতার পাশাপাশি তিনি কতিপয় মামলায় ব্যার্থ্যও হয়েছেন। ১৯১২ সালে বিখ্যাত পয়জনিং মামলায় তিনি আসামী ফ্রেডারিক সেডনকে রক্ষা করতে ব্যার্থ হন যদিও বলা হয় সেডনের ফাঁসির জন্য সেডন নিজেও দায়ি কারণ সে আইনজীবীর পরামর্শ পুরোপুরি মানেন নি। এছাড়া তিনি জীবনে অসংখ্য ফৌজদারী মামলা পরিচালনা করেন এবং অনেককে তীক্ষ্ণ আইনী যুক্তি, কেস স্টাডি ইত্যাদির মাধ্যমে অনেককে রক্ষা করেন।

জীবনে তিনি সংসদে জন প্রতিনিধি হিসাবেও যাবার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তাঁর জীবনী বিবিসি’তে ৮ পর্বের ধারাবাহিকে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর বিভিন্ন বিখ্যাত মামলা গুলোও টেলিভিশনে উপস্থাপিত ও প্রচারিত হয়েছে। পরিশ্রম করলে, আইনকে ভালবাসলে যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে স্থান করে নেয়া যায় – ব্যারিস্টার মার্শাল হলের জীবনী থেকে এটাই হোক আমাদের শিক্ষা।

যেভাবে জাল দলিল হয়


যেভাবে জাল দলিল হয়

7-bigstock-stamp-that-is-used-by-a-notary-41334763-copy

বণ্টননামার ক্ষেত্রে সহ-শরিকদের অজান্তে ভুয়া বণ্টননামা করে দলিল জাল
এজমালি সম্পত্তি অর্থাৎ ভাইবোন মিলে যে সম্পত্তি ভোগ করে থাকে, এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভাইয়েরা বোনদের না জানিয়ে দলিল তাদের নামেই করিয়ে থাকে
মালিকানা ছাড়াই দলিলদাতা সেজে বা কাউকে মালিক সাজিয়ে জমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে রেজিস্ট্রি করে নেয়া হয়
অনেক সময় অর্পিত সম্পত্তি বা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি জীবিত দেখিয়ে জাল করা হয়।
সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে আদালত থেকে বণ্টননামা সম্পন্ন করা হয় না, সে ক্ষেত্রে দলিল জালের সম্ভাবনা বেশি থাকে
মালিক বিদেশে থাকলে মূল দলিল থেকে জালিয়াতি করা হতে পারে

জালের রকমফের

অনেক সময় ঘষামাজা করে এবং ওভাররাইটিং বা কাটাছেঁড়া করেও দলিল জাল করতে পারে। আবার মূল তারিখ ঠিক রেখে দলিলের বিষয়বস্তু জাল করতে পারে।

আপনি যে জমিটি কিনছেন সেটার দলিল জাল কি-না

১। কোনো দলিল নিয়ে সন্দেহ হলে রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষণ করা দলিলের সাথে সাল মিলিয়ে দেখতে হবে। এ জন্য নির্দিষ্টভাবে দরখাস্ত করতে হবে। এতে দলিলটির যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের প্রকৃতি অনুযায়ী চারটি রেজিস্ট্রার বা ভলিউমে সংরক্ষিত থাকে।

২। বিক্রেতার কাছ থেকে সব দলিল, বিশেষ করে ভায়া দলিল চেয়ে নিতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জানতে হবে সব দলিলের ক্রমিক নম্বর, দলিল নম্বর ঠিক আছে কি না।

৩। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে জমির মিউটেশন বা নামজারি সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে। নামজারিতে ধারাবাহিকতা ঠিক আছে কি না, পর্যবেক্ষণ করুন। যদি দেখা যায়, সিএস জরিপের সঙ্গে বিক্রেতার খতিয়ানের কোনো গরমিল থাকলে ধরে নিতে হতে সমস্যা আছে।

৪। দলিল সম্পাদনের সময় ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের পেছনে কোন ভেন্ডার থেকে স্ট্যাম্প কেনা হয়েছে এবং কার নামে কেনা হয়েছে খেয়াল রাখুন। প্রতিটি স্ট্যাম্পের পেছনে একটি ক্রমিক নম্বর উল্লেখ থাকে। এ নম্বরটি ঠিক আছে কি না, প্রয়োজনে স্ট্যাম্প বিক্রেতার সঙ্গে দেখা করে যাচাই করে নিন।

৫। একাধিক মালিকের ক্ষেত্রে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মূল মালিক কে, তা নির্ণয় করতে হবে।

৬। ভূমি অফিস থেকে বিভিন্ন সিল পরীক্ষা করেও জালিয়াতি নির্ণয় করা যায়।

৭। অনেক সময় স্বাক্ষর জালিয়াতি করে দলিলদাতা বা গ্রহীতার সাজা হয়। এ ক্ষেত্রে স্বাক্ষর বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

৮। ভালো করে তারিখ, কাগজ, সিল ইত্যাদি লক্ষ্য করুন। দেখুন কোন অসংলগ্ন চোখে পড়ে কিনা।

৯। জরিপ খতিয়ানে জমির পরিমাণ পরবর্তী সময়ে যতবার বিক্রি হয়েছে, তার সঙ্গে জমির পরিমাণ মিল আছে কি না, তা যাচাই করুন। দাগ নম্বর, ঠিকানা এসব ঠিক আছে কি না, পরীক্ষা করুন।

১০। সম্প্রতি কোনো আমমোক্তারনামা দলিল থাকলে তাতে উভয় পক্ষের ছবি ব্যবহার হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে।

১১। কোনো দান করা জমি হলে দলিলে সম্পাদনের তারিখ দেখে কবে জমিতে গ্রহীতা দখলে গেছে তা যাচাই করতে হবে। দলিলটি রেজিস্ট্রি করা কি না এবং দলিলদাতার সঙ্গে গ্রহীতার সম্পর্ক কী, তা যাচাই করতে হবে।

১২। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া কোনো বিক্রীত দলিলের দলিল লেখকের নাম ঠিকানা জেনে সরেজমিন কথা বলে নেওয়া দরকার।

যেসব কারনে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারেন


যেসব কারনে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারেন

picture-10266

১. চার বৎসর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে।
২. দুই বৎসর স্বামী স্ত্রীর খোরপোষ দিতে ব্যর্থ হলে।
৩. স্বামীর সাত বৎসর কিংবা তার চেয়েও বেশী কারাদন্ড হলে।
৪. স্বামী কোন যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত তিন বছর যাবৎ দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে।
৫. বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বজায় থাকলে।
৬. স্বামী দুই বৎসর ধরে পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিতে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে।
৭. বিবাহ অস্বীকার করলে। কোন মেয়ের বাবা বা অভিভাবক যদি ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ে দেন, তা হলে মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙ্গে দিতে পারে, তবে যদি মেয়েটির স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সর্ম্পক (সহবাস) স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনি কোন বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারে।
৮. স্বামী ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লংঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে।
৯. স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে।

জেনে নেই সরকারিভাবে আইনগত সহায়তা প্রাপ্তি সম্পর্কিত তথ্য


জেনে নেই সরকারিভাবে আইনগত সহায়তা প্রাপ্তি সম্পর্কিত তথ্য

আইনগত সহায়তা

rev002

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদে অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং সমানভাবে আইনের আশ্রয় পাবার অধিকারী। কিন্তু প্রকৃতভাবে দেখা যায় দরিদ্র নাগরিকেরা অর্থের অভাবে আইনজীবি নিয়োগ দিতে পারেন না এবং আদালতের কাছে বিচার চাওয়া্র মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। এসব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিচার পাবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে আইনগত সহায়তা প্রাপ্তি সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত এবং ২০০০ সালে Canadian International Development Agency (CIDA)’র  সহযোগিতায় সরকার দরিদ্র বিচারপ্রার্থীর জন্য আইনগত সহায়তা প্রদানের উদ্দশ্যে “আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০” পাশ করে। পরবর্তিতে সরকার ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট এ আইন সহায়তা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০ অধিকতর সংশোধন করে আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন ২০১৩ পাস করে।

যৌতুক লেনদেনে শাস্তি


সারা দেশে যৌতুকের কারণে নারী-নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। যৌতুকের লোভে মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি নারীদের ওপর চালানো হচ্ছে শারীরিক নির্যাতন। দেশের প্রচলিত আইনে যৌতুক লেনদেন উভয়ই সমান অপরাধ। এ অপরাধে বিচার কার্যক্রমও হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না আইনের আশ্রয় কীভাবে নিতে হয়। নিচে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো।

dowry (1).jpg

যৌতুক রোধে আইন

১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ২ ধারা অনুসারে যৌতুক বলতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যেকোনো সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানতকে বোঝায়। যদি বিবাহের এক পক্ষ অপর পক্ষকে অথবা বিবাহের কোনো এক পক্ষের মা-বাবা বা অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বিবাহের যেকোনো পক্ষকে বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে বিবাহের মজলিসে অথবা বিবাহের আগে বা পরে বিবাহের পণ হিসেবে প্রদান করে বা প্রদান করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়, সেটিই যৌতুক হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের অধীনে দেনমোহর বা মোহরানা যৌতুকের আওতাভুক্ত হবে না।

১৯৮০ সালের যৌতুক ওই আইনের ১ নং ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যে সন্দেহ নিরসনকল্পে এত দ্বারা জ্ঞাত করা হলো যে, বিবাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয় এমন কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বামী বা স্ত্রী যেকোনো পক্ষকে অনধিক পাঁচশত টাকা মূল্যমানের কোনো জিনিস, বিবাহের পণ হিসেবে নয়, উপঢৌকন হিসেবে প্রদান করলে সেই উপঢৌকন হিসেবে প্রদান করলে সেই উপঢৌকন এ আইন অনুসারে যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না।

২ নং ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়, দণ্ডবিধির ৩০ ধারায় মূল্যবান জামানত যে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এ আইনে সেই অর্থে ব্যবহৃত হবে। যৌতুক আইনের ৩ ও ৪ নং ধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তি যৌতুক প্রদান করলে বা প্রদানে সহায়তা করলে বা যৌতুক দাবি করলে এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় প্রকারের দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

যৌতুকবিরোধী আইন অনুসারে এ ধরনের অপরাধ আমল-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য। এই আইনের ৭নং দ্বারা অনুসারে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর এক বছরের মধ্যে অভিযোগ না করলে আদালত এ ধরনের অভিযোগ আমলে নেবে না। প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নিম্ন আদালত এ ধরনের অপরাধের বিচার করবেন না।

যৌতুকবিরোধী আইনে শাস্তি

কোনো ব্যক্তি যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করে অথবা প্রদান বা গ্রহণে যদি প্ররোচনা বা উৎসাহ দেয় তাহলে তার পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডাদেশ হতে পারে এবং বছরের কম নয় এমন কারাদণ্ডে বা জরিমানায় কিংবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি কোনো ব্যক্তি বর বা কনের পিতা-মাতা বা অভিভাবকের নিকট হতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো যৌতুক দাবি করে তাহলে তিনি পাঁচ বছর মেয়াদ পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য এবং এক বছর মেয়াদের কম নয় এমন কারাদণ্ডে বা জরিমানায় বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

যদি কোনো নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি যৌতুকের জন্য কোনো নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম করেন বা সাধারণ জখম করেন তাহলে ওই স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্বীয় বা ব্যক্তি, মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে ওই দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। মারাত্মক জখম করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা কমপক্ষে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং ওই দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

৩৭ ডিএলআরের মিহির লাল শাহ পোদ্দার বনাম জানু রানী শাহ মামলায় যৌতুকের সংজ্ঞা এবং যৌতুক সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। ১৯৪৮ সালের নারীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা (প্রতিরোধক সাজা) অধ্যাদেশের ৬ নং ধারায় বলা হয়েছে, যেকোনো ব্যক্তি কোনো নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক অথবা আত্মীয় হয়ে যৌতুকের জন্য নারীর মৃত্যু ঘটায় বা ওই নারীকে গুরুতর আঘাত করে অথবা মৃত্যু ঘটানোর বা গুরুতর আহত করার চেষ্টা করে তবে তাকে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর দণ্ডে অথবা ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এ ধারায় যৌতুক বলতে যেকোনো সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত যা স্ত্রী বা তাঁর পিতা-মাতা অভিভাবক বা অন্য কোনো আত্মীয়র কাছ থেকে বিবাহের উছিলায় দাবি করা হয় তা বুঝাবে, কিন্তু যে ব্যক্তির বেলায় মুসলিম পারিবারিক আইন প্রযোজ্য তার বেলায় দেনমোহরকে যৌতুক ধরা হবে না।

Collected:http://www.ntvbd.com/law-and-order/5297/%E0%A6%AF%E0%A7%8C%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%95-%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF

হুমকি দিলে কী করবেন?


হুমকি দিলে কী করবেন?

images (2).jpgকোনো শত্রুপক্ষ বা যে কেউ বিনা কারণে আপনাকে উৎপাত করছেন বা হুমকি দিচ্ছেন। জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা রাস্তায় বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন। তখন কী করবেন আপনি?
এ অবস্থা থেকে বাঁচার উপায় আছে আইনে। এ আইনটি হলো ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা। তবে আদালতে যাওয়ার আগে একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করে রাখতে পারেন নিকটস্থ থানায়। অনেক সময় অভিযোগটি গুরুতর হলে পুলিশ এ জিডি থেকেই নন-প্রসিকিউশন প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

১০৭ ধারায় মামলা রুজু করে প্রতিপক্ষকে কিংবা দায়ী ব্যক্তিকে শান্তি বজায় রাখার জন্য বন্ড বা মুচলেকা সম্পাদনের জন্য বাধ্য করা যায়। এ ধরনের মামলা করতে হয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে।
১০৭ ধারায় আশ্রয় নিলে আদালত প্রাথমিক শুনানিতে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুচলেকা সম্পাদনের জন্য আদেশ দেবেন। তখন দায়ী ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হয়ে মুচলেকা সম্পাদন করতে হবে। মুচলেকায় বলতে হবে ভবিষ্যতে তিনি আর কোনো ধরনের উৎপাত করবেন না এবং ভয়ভীতি দেখাবেন না।

জানুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বিস্তারিত


জানুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বিস্তারিত

 

download (1)দেশের মানবাধিকার রক্ষা এবং তার উন্নয়নের প্রধান দায়িত্ব সরকারের। একটি রাষ্ট্র কতটা সভ্য তা পরিমাপ করা হয় ওই রাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নের মাধ্যমে। এ জন্য বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র নিজ নিজ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান গঠন করে। রাষ্ট্র কর্তৃক গঠিত হলেও জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করেন। দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, যথাযথ পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে সুপারিশ করাই এ কমিশনের কাজ। এ জন্য জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূলত পরামর্শ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিষয়ের নিজস্ব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সরকারকে মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করেন। দেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন

বাংলাদেশে ১৯৯৮ সালে একটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের প্রথম উদ্যোগে নেওয়া হয়। একই সময়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় একটি আইনের খসড়া ও তৈরি করা হয়। কিন্তু এরপর দীর্ঘ এ বিষয়ে আর তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। অবশেষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০০৭-এর মাধ্যমে ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রথম একটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। একজন চেয়ারম্যান ও দু্জন সদস্যকে নিয়ে ২০০৮ সালের ১ ডিসেম্বর এ কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে অধ্যাদেশকে বৈধতা না দিয়ে জাতীয় সংসদ ২০০৯ সালের ২২ জুন একজন চেয়ারম্যান, একজন সার্বক্ষণিক সদস্য এবং অন্য পাঁচ অবতৈনিক সদস্য নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে সাত সদস্যবিশিষ্ট মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠিত হয়।

মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার ব্যাপক। বাংলাদেশের সংবিধান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং বাংলাদেশের পক্ষভুক্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চূক্তিগুলো এ কমিশনের এখতিয়ারে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকায় বলা হয়েছে-যেহেতু সংবিধান অনুযায়ী মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য, তাই মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কমিশনের প্রধান এখতিয়ারগুলো হচ্ছে :

১. কমিশন যেকোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত অভিযোগের তদন্ত করতে পারবে।

২. রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে যেকোনো বিষয়ে কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা না হলেও কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগ গ্রহণ করতে পারবে।

৩. জেলখানা, থানা হেফাজত ইত্যাদি আটকের স্থান পরিদর্শন করে সে সবের উন্নয়নে সরকারকে সুপারিশ প্রদান।

৪. সংবিধান অথবা দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় গ্রহীত ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনা করে এর কার্যকর বাস্তাবায়নের জন্য সরকার সুপারিশ করবে।

৫. মানবাধিকারবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দলিল বিষয়ে গবেষণা করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সুপারিশ প্রদান।

৬. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে দেশীয় আইনের সামঞ্জস্য বিধানের ভূমিকা রাখা।

৭. মানবাধিকার বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা।

৮. আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য কোনো অভিযোগ মধ্যস্থতা ও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা।

৯. মানবাধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যসহ অন্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান।

পুনর্গঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দায়িত্ব

পুনর্গঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই প্রথম যে কাজ হাতে নেয়; তা হচ্ছে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করা। মানবাধিকার কমিশন বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি সম্পন্ন একজন বিশেষজ্ঞের সহায়তায় কৌশলপত্রটির খসড়া তৈরি করা হয়। খসড়া কৌশলপত্রে ১৬টি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কৌলশপত্রটি চূড়ান্ত করার আগে এর ওপর বিভিন্ন কর্মশালার মাধ্যমে শ্রেণীপেশার মানুষের মতামত সংগ্রহ করে কৌশল পত্রটি চূড়ান্ত করা হয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে অভিযোগ

জাতি, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে নারী, পুরুষসহ যেকোন বয়সের দেশি বা বিদেশি যেকোনো ব্যক্তি কমিশনের অভিযোগ করতে পারেন। অর্থাৎ গ্রামের বা শহরের, সমতল বা পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, ধনী, গরিব, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষিত অথবা যে কেউ কমিশনের অভিযোগ করতে পারবে। পরিস্থিতির আলোকে কমিশন নিজেও অভিযোগ গ্রহণ করতে পারবে।

কী ধরনের অভিযোগ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগে যে অধিকারগুলো সব নাগরিককে দেওয়া হয়েছে, তার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি হলে বা স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বর্ণিত অধিকারগুলো লঙ্ঘিত হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ করা যায়। কেউ যদি মনে করে মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে তাঁর জীবন, সমতা ও মর্যাদার যে অধিকার পাওনা আছে, তা ক্ষুণ্ণ হয়েছে কিংবা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় বা সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন বা কোনো জনসেবক কর্তৃক মানবাধিকার (জীবন, সমতা ও মর্যাদা সংক্রান্ত অধিকার) লঙ্ঘন করা হয়েছে বা লঙ্ঘনের প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে কিংবা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় বা সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন বা কোনো জনসেবা কর্তৃক মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ করা যায়।

কীভাবে অভিযোগ দাখিল করবেন

কমিশনের নির্ধারিত ফরমে অথবা সাদা কাগজে হাতে লিখে বা টাইপ করে কমিশনের অফিসে নিজে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে অথবা ডাক/কুরিয়ার সার্ভিস অথবা ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ পাঠানো যায়। অভিযোগের সাথে অন্যান্য কাগজপত্র, ছবি, অডিও-ভিডিও ক্লিপ ইত্যাদি সংযুক্ত করা যেতে পারে।

কমিশনের করণীয়

১.কমিশন অভিযোগকারীর বা অভিযুক্ত কারো পক্ষে নয়, বরং নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্দেশে উভয়ের জন্যই কাজ করা।

২. অভিযোগ করা বা অভিযোগ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া, অভিযোগ করার আগে পরার্মশ করা ইত্যাদির জন্য কোনো খরচ করার প্রয়োজন হয় না।

৩. কমিশেনর মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যেন তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাগরিকের মর্যাদা, সম্মান, সমতা ইত্যাদির অধিকার লঙ্ঘন করতে না পারে তার প্রতি লক্ষ রেখে সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন ঘটানো।