এডওয়ার্ড মার্শাল হল-এর আইন সাধনা; আইন উৎসাহী ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী দের জন্য


এডওয়ার্ড মার্শাল হল-এর আইন সাধনা; আইন উৎসাহী ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী দের জন্য।

bangladesh-army-online-dhaka-guide

যদি কেউ আইনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগ থেকে নেশার মত শুধু আইন সাধনা করতে থাকেন এবং অধিক কাজের ফলশ্রুতিতে মৃত্যুমুখে পতিত হন তাহলে আপনি তাকে কি বলবেন? যদি কেউ যৌবনে আইন ও ক্যারিয়ারের নেশায় মাতাল হয়ে নিজ-সংসার তুচ্ছ জ্ঞান করেন এবং ফলশ্রুতিতে অতি সুন্দরী ও ললনাময়ী স্ত্রী ও যদি তাকে ত্যাগ করেন তাহলে ওই আইনী আশেককে আপনি কি নামে ডাকবেন? আপনি তাকে যেভাবেই মূল্যায়ন করেন না কেন আমার চোখে সে আইনের মস্ত বড় সাধক। হ্যাঁ, আজকের আলোচ্য উক্ত সাধকের নাম ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হল। বৃটিশ ভারতের পটভূমিতে রচিত ক্যালকাটা হাইকোর্ট তথা আদালত পাড়া কেন্দ্রিক উকিল-ব্যারিষ্টারদের দৈনন্দিন জীবন-আচার ভিত্তিক চিত্র উল্লেখে ‘শংকর’ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘কত অজানারে’র মাধ্যমে সর্বপ্রথম ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হলের নাম ও সুনাম সম্পর্কে প্রথম অবগত হবার সুযোগ লাভ করি। প্রচন্ড আগ্রহ থেকে পরবর্তীতে তাঁর সম্পর্কে ইন্টারনেট ও পুস্তকে জানার চেষ্টা করি। তারই ফলশ্রুতি আজকের আইন সাধকদের জীবনী পর্বে ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হলের জীবনী শ্রদ্ধাভরে আলোচনা।

Sir Edward Marshall Hall KC, জন্ম ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৫৮ Brighton, England. এবং মৃত্যু২৪ ফেব্রুয়ারী, ১৯২৭. তিনি ছিলেন একজন ইংলিশ ব্যরিষ্টার। সমসাময়িককালে লোকজন তাকে সবচে’ বেশি যে নামে চিনতেন তা হল তিনি ছিলেন ফৌজদারী মামলার এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী আসামী পক্ষের কৌশলী। তাঁর অসাধারণ বাচন ভঙ্গি ও জবানবন্দী ও জেরার করার ক্ষমতা তাকে তাঁর পেশার সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। ইতিহাসে আলোচিত অনেক কুখ্যাত খুনের মামলা থেকে নিরপরাধ আসামীদের ছাড়িয়ে আনার সুখ্যাতি তাকে “The Great Defender” নামে পরিচিত করেছিল।

মার্শাল হল ভিক্টোরিয়ান যুগ ও তৎপরবর্তী এডওয়ার্ডীয়ান যুগে ব্যরিষ্টার হিসাবে ইংল্যান্ডের আদালত সমূহ কাপিয়ে বেড়িয়েছেন। তখনকার সময় বড় বড় ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা ব্যাপকভাবে জন আগ্রহে পরিণত হয়েছিল কার সেগুলো দৈনন্দিন ভিত্তিতে জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোতে প্রচার হত। তখনকার সময়ে আলোচিত আইনজীবীদের মধ্যে তাঁর বাচনভঙ্গিগত ও উৎকর্ষতা, আইনী যুক্তি ও জেরা-জবানবন্দীর কৌশল অন্য অনেক আইনজীবীদের তুলনায় অধিক আকর্ষনীয় ও উপভোগ্য ছিল। বলা হয় যখন তিনি চাঞ্চল্যকর ফৌজদারী মামলাগুলোর শুনানি করতেন তখন আদালতের ভেতর বাইরে উৎসুক জনতার ঢল সামলানো কঠিন হয়ে পড়ত।

ব্যক্তিগত জীবনঃ
১৮৮২ সালের তিনি Ethel Moon নামীয় একজন মহিলাকে তিনি বিয়ে করেন যদিও তাঁর উক্ত বিবাহ সুখকর হয় নি। তারা প্রায়শই আলাদা থাকতেন এবং ১৮৮৯ সালে চূড়ান্তভাবে তারা আইনী পন্থায় আলাদা হয়ে যান। ১৯৯০ সালে মুন তাঁর বয়ফ্রেন্ড কর্তৃক গর্ভবতী হন এবং পরবর্তীতে ভুল এ্যাবোরশনের ফলে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন যদিও এই কারণে এথেল মুনের বয়ফ্রেন্ড, এবর্শনিষ্ট ও অন্য কতিপয়কে হত্যার দায়ে আইনের মুখোমুখি হতে হয়। বলা হয় এথেল মুনের মৃত্যুও ব্যারিস্টার মার্শালের আইন ক্যারিয়ার গঠনে ভূমিকা রাখে কেননা তিনি এথেলের প্রতি উদাসীনতার অনুশোচনা বোধ থেকে পুরুষ কর্তৃক নিষ্ঠুর আচরণের স্বীকার অনেক মহিলার পাশে দাড়িয়েছেন। যাই হোক, তিনি পরবর্তী জীবনে হেনেরিটা নামে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেন এবং সেখানে তাঁর এলনা নামে এক কন্যা সন্তান ছিল।
তিনি অত্যন্ত্য কাজ পাগল একজন আইনজীবী ছিলেন। ক্লায়েন্টের প্রতিটি মামলাকে তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়ে সেগুলো নিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, গবেষণা, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিংস ইত্যাদি কাজে নিমগ্ন থাকতেন। প্রতিটি মামলার প্রতি তাঁর এইরুপ গুরুত্ব আরোপ অন্য আইনজীবী থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে তাকে সাহায্য করেছিল। অতিরিক্ত কাজের ফলে নিজের প্রতি তিনি খেয়াল রাখতে উদাসীনতা প্রদর্শণন করেন এবং বলা হয় নিজের প্রতি এরুপ উদাসীনতা তাকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত করে যা তাকে ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যু মুখে তুলে দেয়।

Camden Town Murder
মার্শালের জীবনে তাকে “The Great Defender” নামে সুখ্যাতি আনতে যে কয়েকটি মামলা টনিকের মত কাজ করেছিল তাঁর মধ্যে একটি ছিল Camden Town Murder Case. ১৯০৭ সালে মার্শালের কাছে এই মামলার ব্রিফ আসে। এই মামলায় মার্শাল এমন এক আসামীকে বাচিয়েছিলেন যাকে ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে খুনের দায়ে আদালতে তাঁর সর্বোচ্চ সাজা হতে যাচ্ছে। কারণ ঘটনার আগে পরে তাঁর ভূমিকা, টি,আই প্যারেডে তাঁর সনাক্ত করণ, আসামী নিজ কর্তৃক এক্সট্রা জুডিশিয়াল স্বীকারোক্তি, পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্য ইত্যাদি বিবেচনায় প্রাইমা ফেসি সবাই ঊডকে দোষী সাব্যস্ত্য করবে- এটাই ছিল স্বাভাবিক। মামলার সংক্ষিপ্ত ঘটনা এই যে, এমিলি ডিমোক ওরফে ফিলিস নামিয় এক পতিতার গলাকাটা মৃতদেহ তাঁর ঘরে পাওয়া যায়। ঘরে এমন এক পোষ্ট কার্ড ও পাওয়া যায় যার হাতের লেখা ছিল আসামী রবার্ট উডের। পোষ্ট কার্ডে ঘটনার রাতে আসামী ভিক্টিমকে তাঁর সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য বলেন। শুধু তাই নয় ঘটনার পর আসামীর গার্লফ্রেন্ড রুবি ইয়ংকে (যিনিও একজন পতিতা ছিলেন) আসামী অনুরোধ করেন যে, যদি কেউ আসামী উডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে তাহলে যেন রুবি সেই জিজ্ঞাসাকারীকে এটা বলে দেয় যে, ঘটনার সময় আসামী উড রুবির সাথে ছিল। উল্লেখ্য, টি, আই প্যারেডে অন্য স্বাক্ষীগন আসামীকে সনাক্ত করেন, অন্য সাক্ষী তাঁর সাক্ষে আদালতে লেন যে, ঘটনার রাতে আসামিকে উক্ত ঘটনা স্থলের নিকটে দেখা গেছে। কেউবা আবার বলেন যে, আসামির সহিত মৃত ভিক্টিমকে স্থানীয় ব্রোথেলে দেখা গেছে। অন্য দিকে যদিও পোষ্ট কার্ডে প্রেরকের ঠিকানায় ‘এলিস’ নামে একজনের নাম লেখা ছিল কিন্তু হাতের লেখা যে রবার্ট উডের এটা প্রমাণ হয়েছিল। সুতরাং সব বিবেচনায় আসামী রবার্টই যে উক্ত এমিলি ডিমোকের হত্যার জন্য দায়ী এটা প্রতীয়মান হচ্ছিল যদিও খুনের মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হয় নি।

এডোয়ার্ড মার্শালের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছিল কেননা ১৯০৭ সালের আগে তখনকার সময় তাঁর আইন পেশায় খুব মন্দাভাব ছিল। ভাল কোন ব্রিফ তাঁর হাতে ছিল না। সুতরাং এই মামলায় মার্শাল তাঁর অসাধারণ ভাষা শৈলির ব্যাবহার সর্বোপরি অবিশ্বাস্য জেরার মাধ্যমে আসামী রবার্ট উডকে নিশ্চিত শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন। (সুযোগ পেলে Camden Town Murder Case-এর বিস্তারিত একদিন লিখবো, অসাধারণ এক মামলা। আমি একটি পূর্ণদিন সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পুরো মামলাটি পড়েছি। এক কথায় অসাধারণ)।

Green Bicycle Murder
মার্শাল হলের অন্যতম আরেকটি মামলা হচ্ছে R v Ligh যাকে Green Bicycle Murder মামলাও বলা হয়। এই মামলাটিও পূর্বে উল্লেখিত Camden Town Murder মামলার ন্যায় পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল যা ছিল পুরোপুরি আসামির বিরুদ্ধে। এই মামলায়ও আসামীর বিরুদ্ধে যে সকল সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপণ করা হয় তা হল আসামী রোনাল্ড লাইট যাকে দেখা ঘটনার দিন ভিক্টিম মৃত বেলা রিটকে গ্রীণ সাইকেলে চড়িয়ে ঘুরতে দেখা গিয়েছল। আসামির দখলে এমন এক অস্ত্র(রিভলবার) ছিল যেটি সদৃশ্য কোন অস্ত্র দ্বারা ভিকটিমকে হত্যা করা হয়েছিল। বলা হয় আসামী কাজ শেষ হবার পর উক্ত গ্রীন বাইসাকেল খালের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন। এছাড়া গ্রেফতার হবার পর আসামী পুলিশের নিকট মিথ্যা বলেছিলেন। ব্যারিস্টার মার্শাল হল এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক উথাপিত সাক্ষ্য প্রমানের অকাট্যতা প্রমানের ব্যার্থতাসমূহ তুলে ধরা সহ জেরার মাধ্যমে সাক্ষীদের বিশ্বাস যোগ্যতাতাকে খন্ডন করেন। এছাড়া কিছু ল’ পয়েন্টে ব্যারিস্টার মার্শাল হল এমন সব যুক্তি তুলে ধরেন যার মাধ্যমে জুরিরা আসামীকে খালাস দিতে বাধ্য হন। ল’ পয়েন্ট গুলোর মধ্যে একটি হল খুনের জন্য পূর্বপরিকল্পনার বিষয়টি অন্যতম। কিন্তু এই মামলায় ‘হেয়ার সে’ (বাংলাদেশে ডাইং দেক্লারেশনের অনুরুপ) নিয়মের উপর ভিত্তি করে এবং ভিক্টিমের প্রদত্ত জবান বন্দীর উপর নির্ভর করে ব্যারিস্টার হল এটা প্রমাণ করেন যে, খুনের সাথে আসামীর কোন যোগ সূত্রতা নেই।

সফলতার পাশাপাশি তিনি কতিপয় মামলায় ব্যার্থ্যও হয়েছেন। ১৯১২ সালে বিখ্যাত পয়জনিং মামলায় তিনি আসামী ফ্রেডারিক সেডনকে রক্ষা করতে ব্যার্থ হন যদিও বলা হয় সেডনের ফাঁসির জন্য সেডন নিজেও দায়ি কারণ সে আইনজীবীর পরামর্শ পুরোপুরি মানেন নি। এছাড়া তিনি জীবনে অসংখ্য ফৌজদারী মামলা পরিচালনা করেন এবং অনেককে তীক্ষ্ণ আইনী যুক্তি, কেস স্টাডি ইত্যাদির মাধ্যমে অনেককে রক্ষা করেন।

জীবনে তিনি সংসদে জন প্রতিনিধি হিসাবেও যাবার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তাঁর জীবনী বিবিসি’তে ৮ পর্বের ধারাবাহিকে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর বিভিন্ন বিখ্যাত মামলা গুলোও টেলিভিশনে উপস্থাপিত ও প্রচারিত হয়েছে। পরিশ্রম করলে, আইনকে ভালবাসলে যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে স্থান করে নেয়া যায় – ব্যারিস্টার মার্শাল হলের জীবনী থেকে এটাই হোক আমাদের শিক্ষা।

Advertisements

ফৌজদারী আইনে গুরুতর আঘাত বলতে কি বুঝায় ?


ফৌজদারী আইনে গুরুতর আঘাত বলতে কি বুঝায় ?

images (1).jpg
নিম্নোক্ত আট প্রকার আঘাত ফৌজদারী আইনে গুরুতর আঘাত হিসাবে বিবেচিত হবে, যেমনঃ
ক) পুরুষত্বহীন করা।
খ) স্থায়ীভাবে যেকোন চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করা।
গ) স্থায়ীভাবে যেকোন কানের শ্রবণ শক্তি নষ্ট করা।
ঘ) যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থি নষ্ট করা।
ঙ) যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করা বা স্থায়ী ক্ষতিসাধন করা।
চ) মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করা।
ছ) কোন অস্থি বা দাঁত ভেঙ্গে ফেলা বা স্থানচ্যুতি ঘটানো।
জ) এমনভাবে আঘাত করা যার ফলে জীবন বিপন্ন হয় বা আঘাতের ফলে আহত ব্যাক্তি কমপক্ষে ২০ (বিশ) দিন প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে অথবা স্বাভাবিক কাজ করতে অক্ষম হয়।

অসাধারন একটি লেখা। আশাকরি ভালো লাগবে..


অসাধারন একটি লেখা। আশাকরি ভালো লাগবে…

এক ভদ্র মহিলা পাসপোর্ট অফিসে এসেছেন পাসপোর্ট করাতে।
অফিসার জানতে চাইলেন- আপনার পেশা কি?
মহিলা বললেন, আমি একজন মা।
আসলে ,শুধু মা তো কোনো পেশা হতে পারেনা।
যাক, আমি লিখে দিচ্ছি আপনি একজন গৃহিনী।
মহিলা খুব খুশী হলেন। পাসপোর্টের কাজ কোনো ঝামেলা ছাড়াই শেষ হলো। মহিলা সন্তানের চিকিৎসা নিতে বিদেশ গেলেন। সন্তান সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসলো।

অনেকদিন পরে, মহিলা দেখলেন পাসপোর্টটা নবায়ন করা দরকার। যেকোনো সময় কাজে লাগতে পারে। আবার পাসপোর্ট অফিসে আসলেন। দেখেন আগের সেই অফিসার নেই। খুব ভারিক্কি, দাম্ভিক, রুক্ষ মেজাজের এক লোক বসে আছেন।

যথারীতি ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে অফিসার জানতে চাইলেন-
আপনার পেশা কি?
মহিলা কিছু একটা বলতে গিয়েও একবার থেমে গিয়ে বললেন-
আমি একজন গবেষক। নানারকম চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করি। শিশুর মানসিক এবং শারিরীক বিকাশ সাধন পর্যবেক্ষণ করে,সে অনুযায়ী পরিকল্পণা প্রণয়ন করি। বয়স্কদের নিবিড় পরিচর্যার দিকে খেয়াল রাখি। সুস্থ পরিবার ও সমাজ বিনির্মাণে নিরলস শ্রম দিয়ে রাষ্ট্রের কাঠামোগত ভিত মজবুত করি। প্রতিটি মূহুর্তেই আমাকে নানারকমের চ্যালেঞ্জের ভিতর দিয়ে যেতে হয় এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা মোকাবিলা করতে হয়। কারণ,আমার সামান্য ভুলের জন্য যে বিশাল ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

মহিলার কথা শুনে অফিসার একটু নড়ে চড়ে বসলেন। মহিলার দিকে এবার যেন একটু শ্রদ্ধা আর বিশেষ নজরে তাকালেন । এবার অফিসার জানতে চাইলেন-

আসলে আপনার মূল পেশাটি কি? যদি আরেকটু বিশদভাবে বলতেন।লোকটির আগ্রহ এবার বেড়ে গেলো।

আসলে, পৃথিবীর গুণীজনেরা বলেন – আমার প্রকল্পের কাজ এতো বেশি দূরহ আর কষ্ট সাধ্য যে, দিনের পর দিন আঙুলের নখ দিয়ে সুবিশাল একটি দীঘি খনন করা নাকি তার চেয়ে অনেক সহজ।

আমার রিসার্চ প্রজেক্ট তো আসলে অনেকদিন ধরেই চলছে। সর্বক্ষণ আমাকে ল্যাবরেটরি এবং ল্যাবরেটরীর বাইরেও কাজ করতে হয়। আহার,নিদ্রা করারও আমার সময়ের ঠিক নেই। সব সময় আমাকে কাজের প্রতি সজাগ থাকতে হয়। দুজন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অধীনে মূলত আমার প্রকল্পের কাজ নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চলছে।

মহিলা মনে মনে বলেন,দুজনের কাউকে অবশ্য সরাসরি দেখা যায়না।
(একজন হলেন, আমার স্রষ্টা আরেকজন হলো বিবেক)

আমার নিরলস কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ আমি তিনবার স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছি। (মহিলার তিন জন কন্যা সন্তান ছিল।)
এখন আমি সমাজবিজ্ঞান,স্বাস্থ্যবিজ্ঞান আর পারিবারিক বিজ্ঞান এ তিনটি ক্ষেত্রেই একসাথে কাজ করছি, যা পৃথিবীর সবচেয়ে জটিলতম প্রকল্পের বিষয় বলা যায়। প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ হিসাবে একটি অটিস্টিক শিশুর পরিচর্যা করে মানুষ হিসাবে গড়ে তুলছি, প্রতিটি মুহুর্তের জন্য।

‘ঊষর মরুর ধূসর বুকে, ছোট্ট যদি শহর গড়ো,
একটি শিশু মানুষ করা তার চাইতেও অনেক বড়।‘

অফিসার মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে মহিলার কথা শুনলেন । এ যেন এক বিস্ময়কর মহিলা। প্রথমে দেখেতো একেবারে পাত্তাই দিতে মনে হয়নি।

প্রতিদিন আমাকে ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা আবার কোনো কোনো দিন আমাকে ২৪ ঘন্টাই আমার ল্যাবে কাজ করতে হয়। কাজে এতো বেশি ব্যস্ত থাকতে হয় যে, কবে যে শেষবার ভালো করে ঘুমিয়ে ছিলাম কোনো রাতে,তাও আমার মনে নেই। অনেক সময় নিজের আহারের কথা ভুলে যাই।আবার অনেক সময় মনে থাকলেও সবার মুখে অন্ন তুলে না দিয়ে খাওয়ার ফুরসত হয়না । অথবা সবাইকে না খাইয়ে নিজে খেলে পরিতৃপ্তি পাই না। পৃথিবীর সব পেশাতেই কাজের পর ছুটি বলে যে কথাটি আছে আমার পেশাতে সেটা একেবারেই নেই। ২৪ ঘন্টাই আমার অন কল ডিউটি।

এরপর আমার আরো দুটি প্রকল্প আছে । একটা হলো বয়স্ক শিশুদের ক্লিনিক। যা আমাকে নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করতে হয়।সেখানেও প্রতিমুহুর্তে শ্রম দিতে হয়। আমার নিরলস কাজের আর গবেষণার কোনো শেষ নেই ।

আপনার হয়তো বা জানতে ইচ্ছে করছে, এ চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প পরিচালনায় আমার বেতন কেমন হতে পারে।
আমার বেতন ভাতা হলো- পরিবারের সবার মুখে হাসি আর পারিবারিক প্রশান্তি। এর চেয়ে বড় অর্জন আর বড় প্রাপ্তি যে কিছুই নেই।

এবার আমি বলি, আমার পেশা কি?
আমি একজন মা। এই পৃথিবীর অতিসাধারণ এক মা।

মহিলার কথা শুনে অফিসারের চোখ জলে ভরে আসে। অফিসার ধীরে ধীরে চেয়ার ছেড়ে ওঠেন। নিজের মায়ের মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে।তিনি খুব সুন্দর করে ফর্মের সব কাজ শেষ করে, মহিলাকে নমস্কার করে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেন। তারপর নিজের অফিস রুমে এসে একটি ধূসর হয়ে যাওয়া ছবি বের করে -ছবিটির দিকে অপলক চেয়ে থাকেন। নিজের অজান্তেই চোখের জল টপ টপ করে ছবিটির ওপর পড়তে থাকে ।

আসলে “মা”-এর মাঝে যেন নেই কোনো বড় উপাধির চমক।বড় কোনো পেশাদারিত্বের করপোরেট চকচকে ভাব।কিন্তু কত সহজেই পৃথিবীর সব মা নিঃস্বার্থ ভাবে প্রতিটি পরিবারে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।মাতৃত্বের গবেষানাগারে প্রতিনিয়ত তিলেতিলে গড়ে তুলছেন একেকটি মানবিক নক্ষত্র।

সেই মা সবচেয়ে খুশি হন কখন জানেন-
যখন সন্তান প্রকৃতই মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে ধনে নয়, সম্পদে নয়,বিত্তে নয়, ঐশ্বর্যে নয় শুধু চরিত্রে আর সততায় একজন খাঁটি মানুষ হয়।

……………….. (collected ).

বাংলাদেশের সংবিধানে শ্রমিক অধিকার।


বাংলাদেশ সংবিধান : অনুচ্ছেদ ১৪
রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হবে মেহনতী মানুষকে-কৃষক ও শ্রমিকের-এবং জনগণের অনগ্রসর অংশসমূহকে সকল প্রকার শোষণ হইতে মুক্তি দান করা।

বাংলাদেশ সংবিধান : অনুচ্ছেদ ১৫
কর্মের অধিকার অর্তাত্ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করে যুক্তিসংগত মজুরির বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার; যুক্তিসংগত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার।

বাংলাদেশ সংবিধান : অনুচ্ছেদ ২০
কর্ম হইতেছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের পক্ষে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, এবং প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী- এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকে স্বীয় কর্মের জন্য পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।

বাংলাদেশ সংবিধান : অনুচ্ছেদ ৩৪
সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ; এবং এই বিধাণ কোনভাবে লংঘিত হইলে তাহা আইনত: দন্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।

বাংলাদেশ সংবিধান : অনুচ্ছেদ ৩৭
জনশৃংখলা ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।

বাংলাদেশ সংবিধান : অনুচ্ছেদ ৩৮
জনশৃংখলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংগঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।