নিজামির জন্য প্রস্তুত ফাঁসির মঞ্চ ।


মানবতাববিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ফাঁসির মঞ্চে টানানো হয়েছে নতুন শামিয়ানা। আনা হয়েছে ম্যানিলা রশি। সেই সঙ্গে প্রস্তুত রাখা হয়েছে দুই জল্লাদকে।

09-05-16-tribunal_nizami_case-8_211101

মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ পিটিশন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছে সেই পূর্ণাঙ্গ রায় সোমবার প্রকাশিত হয়েছে। বিকেলে তা পাঠানো হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তবে এখন পর্যন্ত রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি কারাগারে যায়নি। যে কোনো সময় এই কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যাবে।
সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী জানান, সোমবারই এ রায় বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

ট্রাইব্যুনাল হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানোর পর নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করবে কারা কর্তৃপক্ষ।

পূর্ণাঙ্গ রায় ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার পর অভিযুক্তকে পড়ে শোনানো হবে। এরপর তার কাছে জানতে চাওয়া হবে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি-না। প্রাণভিক্ষা না চাইলে যে কোনো মুহূর্তে তার রায় কার্যকর করা যাবে।

সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, কবে কোন সময় রায় কার্যকর হবে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষের বিষয়। তবে প্রাণ ভিক্ষা না চাইলে রায় যেকোনো সময় কার্যকর করা যেতে পারে।

জামায়াতের আমির আমির মতিউর রহমান নিজামীকে গত রোববার রাতে কাশিমপুর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ-র‌্যাবের একটি দল তাকে কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে ঢাকায় আনা হয়।

সোমবার বিকেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের যে মঞ্চে কার্যকর করা হয়েছিল ওই একই মঞ্চে নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করা হবে। সূত্রটি জানায়, এ ফাঁসি কার্যকরের জন্য মঞ্চটির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রোববার এ মঞ্চে ফাঁসির একটি মহড়া হয়। মহড়ায় ৪ জন জল্লাদ অংশ নেন।

এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ নিজামীর আপিল মামলার চুড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সর্বোচ্চ আদালত। তার আপিল খারিজ করে ফাঁসি বহাল রেখে দেওয়া এ রায়ের ভিত্তিতে ওইদিনই নিজামীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ২৯ মার্চ রিভিউ আবেদন করার পর থেকে মৃত্যু পরোয়ানা স্থগিত ছিল। বৃহস্পতিবার রিভিউ খারিজ হওয়ায় আবার সচল হয়েছে এই পরোয়ানা।

গত ৫ মে নিজামীর করা রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন । এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৩ নভেম্বর আপিল করেন নিজামী।

মুসলিম আইনে সম্পত্তিতে নারীর অধিকার


মুসলিম আইনে সম্পত্তিতে নারীর অধিকার

9473280_orig.png

আধুনিক সমাজে এখনো নানা ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে নারীরা। আর এসব বঞ্চনার মধ্যে পরিবারের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা অন্যতম। সমাজ ব্যবস্থার পরির্বতনে এখনো অনেক নারী তাদের অধিকার সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নয়। গ্রামে এখনো অনেক নারী উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সাধারণত মুসলিম আইন অনুযায়ী বাবার সম্পত্তিতে একজন ছেলে সন্তান যে সম্পদের ভাগ পায়, কন্যা সন্তান তার অর্ধেক ভাগ পায়। বাবা ছাড়াও অন্য সম্পর্ক থেকেও নারীরা সম্পত্তির ভাগ পেয়ে থাকে। এসব বিষয় নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

দেনমোহরের অধিকার

মুসলিম আইন অনুযায়ী একজন মুসলিম নারী বিয়ের পর স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহর বাবদ একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পেয়ে থাকে। যা স্বামীকে অবশ্যই বিয়ের আগে অথবা বিয়ের পরে পরিশোধ করতে হয়। অন্যথা স্ত্রী তা যেকোনো সময় আইন অনুযায়ী আদায় করতে পারবে। কোনো কারণে স্বামী জীবিত অবস্থায় পরিশোধ করে যেতে না পারলে তার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি থেকে তা পরিশোধ করতে হয়।

ভরণ পোষণের অধিকার

মুসলিম আইন অনুযায়ী নারীদের যাবতীয় খরচের দায়-দায়িত্ব পুরুষের ওপর বর্তায়। পুত্রসন্তান উপার্জনক্ষম হলে তার ওপর সংসারের যাবতীয় দায়দায়িত্ব এসে পড়ে। আর সে যখন স্বামী তখন তাকে স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে হয়, সে যখন বাবা তখন তাকে তার ছেলেমেয়েদের ভরণপোষণ দিতে হয় এবং মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে হয়। যখন সে ভাই তখন ছোট ভাইবোনদের ভরণপোষণ এবং অবিবাহিত বোনদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে হয়। এ ছাড়া আমাদের দেশে মা-বাবার ভরণপোষণ নিয়ে আলাদা আইনও রয়েছে। ইসলাম ধর্মে এসব দায়দায়িত্ব থেকে নারীকে অব্যাহতি দিয়ে শুধু তা পুরুষের ওপরই অর্পণ করা হয়েছে। বিপরীতে কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে এসব দায়িত্ব পালন ঐচ্ছিক ব্যাপার। সে এসব দায়িত্ব পালন করতে না পারলে তাকে বাধ্য করা যাবে না।

উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রে

একজন পুরুষ উত্তরাধিকারসূত্রে মা-বাবার সম্পত্তি থেকেই অংশ পায়। একজন নারী সন্তান হিসেবে মা-বাবার কাছ থেকে, স্বামী মারা গেলে স্ত্রী হিসেবে স্বামীর কাছ থেকে, মা হিসেবে সন্তানের কাছ থেকে সম্পত্তির অংশ পায়। সব অংশ যোগ করলে এবং উল্লিখিত সব দিক বিবেচনা করলে নারীর অংশের সম্পত্তি, মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া পুরুষের অংশের সম্পত্তির চেয়ে বেশিই হয়।

অসাধারন একটি লেখা। আশাকরি ভালো লাগবে..


অসাধারন একটি লেখা। আশাকরি ভালো লাগবে…

এক ভদ্র মহিলা পাসপোর্ট অফিসে এসেছেন পাসপোর্ট করাতে।
অফিসার জানতে চাইলেন- আপনার পেশা কি?
মহিলা বললেন, আমি একজন মা।
আসলে ,শুধু মা তো কোনো পেশা হতে পারেনা।
যাক, আমি লিখে দিচ্ছি আপনি একজন গৃহিনী।
মহিলা খুব খুশী হলেন। পাসপোর্টের কাজ কোনো ঝামেলা ছাড়াই শেষ হলো। মহিলা সন্তানের চিকিৎসা নিতে বিদেশ গেলেন। সন্তান সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসলো।

অনেকদিন পরে, মহিলা দেখলেন পাসপোর্টটা নবায়ন করা দরকার। যেকোনো সময় কাজে লাগতে পারে। আবার পাসপোর্ট অফিসে আসলেন। দেখেন আগের সেই অফিসার নেই। খুব ভারিক্কি, দাম্ভিক, রুক্ষ মেজাজের এক লোক বসে আছেন।

যথারীতি ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে অফিসার জানতে চাইলেন-
আপনার পেশা কি?
মহিলা কিছু একটা বলতে গিয়েও একবার থেমে গিয়ে বললেন-
আমি একজন গবেষক। নানারকম চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করি। শিশুর মানসিক এবং শারিরীক বিকাশ সাধন পর্যবেক্ষণ করে,সে অনুযায়ী পরিকল্পণা প্রণয়ন করি। বয়স্কদের নিবিড় পরিচর্যার দিকে খেয়াল রাখি। সুস্থ পরিবার ও সমাজ বিনির্মাণে নিরলস শ্রম দিয়ে রাষ্ট্রের কাঠামোগত ভিত মজবুত করি। প্রতিটি মূহুর্তেই আমাকে নানারকমের চ্যালেঞ্জের ভিতর দিয়ে যেতে হয় এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা মোকাবিলা করতে হয়। কারণ,আমার সামান্য ভুলের জন্য যে বিশাল ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

মহিলার কথা শুনে অফিসার একটু নড়ে চড়ে বসলেন। মহিলার দিকে এবার যেন একটু শ্রদ্ধা আর বিশেষ নজরে তাকালেন । এবার অফিসার জানতে চাইলেন-

আসলে আপনার মূল পেশাটি কি? যদি আরেকটু বিশদভাবে বলতেন।লোকটির আগ্রহ এবার বেড়ে গেলো।

আসলে, পৃথিবীর গুণীজনেরা বলেন – আমার প্রকল্পের কাজ এতো বেশি দূরহ আর কষ্ট সাধ্য যে, দিনের পর দিন আঙুলের নখ দিয়ে সুবিশাল একটি দীঘি খনন করা নাকি তার চেয়ে অনেক সহজ।

আমার রিসার্চ প্রজেক্ট তো আসলে অনেকদিন ধরেই চলছে। সর্বক্ষণ আমাকে ল্যাবরেটরি এবং ল্যাবরেটরীর বাইরেও কাজ করতে হয়। আহার,নিদ্রা করারও আমার সময়ের ঠিক নেই। সব সময় আমাকে কাজের প্রতি সজাগ থাকতে হয়। দুজন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অধীনে মূলত আমার প্রকল্পের কাজ নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চলছে।

মহিলা মনে মনে বলেন,দুজনের কাউকে অবশ্য সরাসরি দেখা যায়না।
(একজন হলেন, আমার স্রষ্টা আরেকজন হলো বিবেক)

আমার নিরলস কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ আমি তিনবার স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছি। (মহিলার তিন জন কন্যা সন্তান ছিল।)
এখন আমি সমাজবিজ্ঞান,স্বাস্থ্যবিজ্ঞান আর পারিবারিক বিজ্ঞান এ তিনটি ক্ষেত্রেই একসাথে কাজ করছি, যা পৃথিবীর সবচেয়ে জটিলতম প্রকল্পের বিষয় বলা যায়। প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ হিসাবে একটি অটিস্টিক শিশুর পরিচর্যা করে মানুষ হিসাবে গড়ে তুলছি, প্রতিটি মুহুর্তের জন্য।

‘ঊষর মরুর ধূসর বুকে, ছোট্ট যদি শহর গড়ো,
একটি শিশু মানুষ করা তার চাইতেও অনেক বড়।‘

অফিসার মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে মহিলার কথা শুনলেন । এ যেন এক বিস্ময়কর মহিলা। প্রথমে দেখেতো একেবারে পাত্তাই দিতে মনে হয়নি।

প্রতিদিন আমাকে ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা আবার কোনো কোনো দিন আমাকে ২৪ ঘন্টাই আমার ল্যাবে কাজ করতে হয়। কাজে এতো বেশি ব্যস্ত থাকতে হয় যে, কবে যে শেষবার ভালো করে ঘুমিয়ে ছিলাম কোনো রাতে,তাও আমার মনে নেই। অনেক সময় নিজের আহারের কথা ভুলে যাই।আবার অনেক সময় মনে থাকলেও সবার মুখে অন্ন তুলে না দিয়ে খাওয়ার ফুরসত হয়না । অথবা সবাইকে না খাইয়ে নিজে খেলে পরিতৃপ্তি পাই না। পৃথিবীর সব পেশাতেই কাজের পর ছুটি বলে যে কথাটি আছে আমার পেশাতে সেটা একেবারেই নেই। ২৪ ঘন্টাই আমার অন কল ডিউটি।

এরপর আমার আরো দুটি প্রকল্প আছে । একটা হলো বয়স্ক শিশুদের ক্লিনিক। যা আমাকে নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করতে হয়।সেখানেও প্রতিমুহুর্তে শ্রম দিতে হয়। আমার নিরলস কাজের আর গবেষণার কোনো শেষ নেই ।

আপনার হয়তো বা জানতে ইচ্ছে করছে, এ চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প পরিচালনায় আমার বেতন কেমন হতে পারে।
আমার বেতন ভাতা হলো- পরিবারের সবার মুখে হাসি আর পারিবারিক প্রশান্তি। এর চেয়ে বড় অর্জন আর বড় প্রাপ্তি যে কিছুই নেই।

এবার আমি বলি, আমার পেশা কি?
আমি একজন মা। এই পৃথিবীর অতিসাধারণ এক মা।

মহিলার কথা শুনে অফিসারের চোখ জলে ভরে আসে। অফিসার ধীরে ধীরে চেয়ার ছেড়ে ওঠেন। নিজের মায়ের মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে।তিনি খুব সুন্দর করে ফর্মের সব কাজ শেষ করে, মহিলাকে নমস্কার করে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেন। তারপর নিজের অফিস রুমে এসে একটি ধূসর হয়ে যাওয়া ছবি বের করে -ছবিটির দিকে অপলক চেয়ে থাকেন। নিজের অজান্তেই চোখের জল টপ টপ করে ছবিটির ওপর পড়তে থাকে ।

আসলে “মা”-এর মাঝে যেন নেই কোনো বড় উপাধির চমক।বড় কোনো পেশাদারিত্বের করপোরেট চকচকে ভাব।কিন্তু কত সহজেই পৃথিবীর সব মা নিঃস্বার্থ ভাবে প্রতিটি পরিবারে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।মাতৃত্বের গবেষানাগারে প্রতিনিয়ত তিলেতিলে গড়ে তুলছেন একেকটি মানবিক নক্ষত্র।

সেই মা সবচেয়ে খুশি হন কখন জানেন-
যখন সন্তান প্রকৃতই মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে ধনে নয়, সম্পদে নয়,বিত্তে নয়, ঐশ্বর্যে নয় শুধু চরিত্রে আর সততায় একজন খাঁটি মানুষ হয়।

……………….. (collected ).

আইনজীবীর অসদাচরণ, প্রতিকার কী?


আইনজীবীর অসদাচরণ, প্রতিকার কী?

নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক ব্যক্তি তাঁর অধিকার আদায়ে প্রতিকার চেয়ে থানায় বা আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। মামলার শুনানির জন্য দেশের প্রত্যেক ব্যক্তি ইচ্ছে করলে নিজেই শুনানি করতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশের ভুক্তভোগীরা প্রায় সবাই সাধারণত মামলা হলেই আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে থাকেন। দীর্ঘদিন থেকেই এই আইন পেশা সমাজে সম্মানিত পেশা হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু যে মহান নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই পেশার উদ্ভব, বর্তমান যুগে অনেকেই সেই একাগ্রতা ও সততার চূড়ান্ত উৎকর্ষতা থেকে বিচ্যুত। এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা মামলা করতে গিয়ে ওকালতির মারপ্যাঁচে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এখন হরহামেশাই আইনজীবীদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, জামিনের বা বিভিন্ন জায়গায় ঘুষ দেওয়ার নাম করে টাকা খাওয়া, শুনানির দিনে উপস্থিত না হওয়া, ব্যস্ততা দেখিয়ে মক্কেলকে ঘোরানো, বিপক্ষের সঙ্গে লেনদেন করা কিংবা নিজ মক্কেলের সঙ্গে প্রতারণার মতো বিষয়গুলোর শিকার হচ্ছেন অনেক অসহায় বিচারপ্রার্থী। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা বিচারের আশায় নীরবে এই নিগ্রহ সহ্য করে যান। অনেকেই আবার মুখ খুলতে চান না ভয়ে কিংবা জানেনই না যে আইনে এর প্রতিকার রয়েছে। অথচ এই অবস্থার শিকার যে কেউই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে প্রতিকার পেতে পারেন।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল

আইনজীবীদের পেশার সনদ প্রদান ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হলো বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। নতুন আইনজীবীদের তালিকাভুক্তির জন্য পরীক্ষা গ্রহণ, আইনজীবীদের পেশাগত আচরণের জন্য নীতিমালা নির্ধারণ, সব আইনজীবীর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, আইন পেশার মান রক্ষা এবং আইনজীবীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিচার করে থাকে এ প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স ও বার কাউন্সিলের আদেশ দ্বারা বার কাউন্সিলের গঠন, নির্বাচন ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ন্ত্রিত হয়। আইনজীবীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে দ্য বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার অ্যান্ড রুলস, ১৯৭২ এবং ক্যাননস অব প্রফেশনাল কনডাক্টে উল্লেখ আছে।

বার কাউন্সিলের পরিচালনার জন্য একটি পর্ষদ রয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে এই সংস্থার প্রধান। তবে আইনজীবীদের পেশাগত আচরণের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ মানুষের কাছে ততটা পরিচিত নয় এবং সে কারণে ভুক্তভোগী বিচার প্রার্থীরাও জানেন না যে পেশাগত অসদাচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বিরুদ্ধে এখানে অভিযোগ দায়ের করতে হয়।

অভিযোগ করবেন যেভাবে

কোনো আইনজীবীর অসদাচরণের কারণে যেকোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হলে তিনি বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর অভিযোগ দায়ের করতে পারেবেন। বার কাউন্সিল সাধারণত সংক্ষিপ্ত শুনানিতে অভিযোগ নিষ্পত্তি করে থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝির মতো বিষয়গুলো উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হয়। তবে অভিযোগ গুরুতর হলে বা সমাধান না করা গেলে বার কাউন্সিল তা বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেবেন।

আইনজীবীর জন্য ট্রাইব্যুনাল ও শাস্তি

ভুক্তভোগী কোনো ব্যক্তির অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বার কাউন্সিলে বর্তমানে পাঁচটি ট্রাইব্যুনাল আছে। একজন চেয়ারম্যান ও দুজন সদস্যের সমন্বয়ে একেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠিত। অভিযোগ পাওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ তদন্ত করবেন এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে তা নিষ্পত্তি করে দেবেন আর প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে তিরস্কার করাসহ তাঁর সদস্যপদ স্থগিত অথবা সমিতি থেকে বহিষ্কার করার মতো শাস্তি প্রদান করার বিধান রয়েছে। তবে শাস্তির প্রকার নির্ভর করে অভিযুক্ত ব্যক্তি কত গুরুতর অপরাধ করেছে তার ওপর। তবে কেউ যদি মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ করে এবং তা প্রমাণিত হয়, তবে তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে ৫০০ টাকা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষ ট্রাইব্যুনালের রায়ের রিভিউ আবেদন করতে পারে। এ ছাড়া যেকোনো পক্ষ ট্রাইব্যুনালের রায়ের ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবে।

সুপ্রিম কোর্টে মামলা পরিচালনার পদ্ধতি


কোনো বিচারপ্রার্থী জেলা জজ আদালতের রায়ে অসন্তোষ্ট হলে তিনি ন্যায় বিচারের আশায় উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারেন । এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি আগাম জামিন, অন্তর্বর্তীকালীন জামিন, রিট মামলা এবং জনস্বার্থে যেকোনো বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা যায়। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্টই হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালত। উচ্চ আদালতে মামলা নিষ্পত্তির পরপর তা বাস্তবায়ন হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টের দুটি শাখা রয়েছে । একটি হাইকোর্ট বিভাগ এবং অপরটি আপিল বিভাগ । অনেক দেশে সুপ্রিম কোর্টের পরও ব্রিটেনের প্রিভি কাউন্সিলে আপীল করার সুযোগ রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এখন সেই ব্যবস্থা নেই। পাশের দেশ ভারতে একাধিক হাইকোর্ট থাকলেও বাংলাদেশে হাইকোর্ট একটি। হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগ দুটো একই এলাকায় অবস্থিত।

যেসব বিষয়ে  হাইকোর্টে মামলা হয়

সাধারণত জেলা জজ আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হলে তার পরে হাইকোর্ট বা উচ্চ আদালতে আপিল করা যায়। এ ছাড়া নিম্ন আদালতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা বাস্তবায়নে সরকার পক্ষ হাইকোর্টের অনুমোদনের জন্য আসতে পারে। আবার নিম্ন আদালতে চলমান বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েও উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা যায়। এ ছাড়া কিছু কিছু বিষয়ে হাইকোর্ট কোনো নির্দিষ্ট মামলার ব্যাপারে নিম্ন আদালতকে নির্দেশনা দেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে মামলাটিকে উচ্চ আদালতে নিয়ে আসেন। কিছু কিছু মামলা আছে যেগুলোতে সরাসরি হাইকোর্টে যেতে হয়, যেমন : কোম্পানি সংক্রান্ত মামলা, খ্রিস্টান বিবাহ সংক্রান্ত মামলা, এডমিরালিটি বা সমুদ্রগামী জাহাজ সংক্রান্ত মামলা। হাইকোর্টের মোট ৩৩টি বেঞ্চ রয়েছে। তন্মধ্যে বেশির ভাগই দ্বৈত বেঞ্চ। কয়েকটি একক বেঞ্চও রয়েছে। এসব বিচারকক্ষে বিচার সম্পন্ন হয়।

রিট

কোনো নাগরিক জনস্বার্থ বা ব্যক্তিগত বিষয়ে বা সরকারি-বেসরকারি কোনো সিদ্ধান্তে অসন্তোষ্ট হলে সংবিধানের ১০২ ধারা অনুসারে তিনি রিট দায়ের করতে পারেন। রিটের বিষয়টি মামলার মতো হলেও দুটির মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। কেউ যদি মনে করে সরকারের প্রণীত কোনো আইন প্রচলিত অন্য আইনের পরিপন্থী বা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক, সে ক্ষেত্রেও আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করা যায়। অবশ্য কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে রিট এবং সাধারণ মামলা দুটিই করা চলে। রিটে খরচ কিছুটা বেশি হলেও সাধারণত দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।

আগাম জামিন  

কোনো মামলায় জেলা জজ আদালত জামিন দিতে অস্বীকার করলে এর বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বা উচ্চ আদালতে আবেদন করলে আদালত জামিনের নির্দেশ দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মামলাটি নিম্ন আদালতে চলতে থাকে, যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে বেরিয়ে আসার সুযোগ পান। সাধারণত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আগাম জামিনের সুবিধা পান। যদি কেউ আশঙ্কা করেন যে তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা হতে পারে, তবে তিনি আগে থেকেই হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। হাইকোর্ট গুরুত্ব বুঝে আগাম জামিনের নির্দেশ দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা গেলেও ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায় না।

অন্তর্বর্তীকালীন জামিন  

কোনো ব্যক্তি যেকোনো মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিম্ন আদালতে  জামিনের আবেদন করতে পারেন। নিম্ন আদালত জামিন না দিলে সে ক্ষেত্রে তিনি হাইকোর্টবে জামিন চাইতে পারেন। হাইকোর্ট জামিন আবেদন বাতিল করলে তিনি আপিল বিভাগে জামিন চাইতে পারেন। ন্ম্নি আদালত থেকে আপিল বিভাগ পর্যন্ত মামলার কয়েকটি স্তর। তবে আপিল বিভাগের রায় চূড়ান্ত।

কারা মামলা করতে পারেন  

বাংলাদেশের সব আদালতে বিচার প্রার্থী ইচ্ছে করলে নিজের মামলা নিজে পরিচালনা করতে পারেন। আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইনগত দিক বুঝে আত্মপক্ষ সমর্থন বা নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণত বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক যেসব আইনজীবী উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছেন, শুধু তাঁরাই উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারেন।

চেম্বার জজ  

হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের মধ্যবর্তী সেতু হলো চেম্বার জজ আদালত। কোনো মামলা হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হওয়ার পর আপিল করতে হলে প্রথমে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করতে হয় । এ ছাড়া আপিল বিভাগ ছুটিতে থাকাকালীন জরুরি বিষয়ে নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের একজন বিচারককে চেম্বার জজ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি আবেদনকারীর আবেদন বিবেচনা করে প্রয়োজনে নির্দেশ দেন, কিংবা নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য বিষয়টি পাঠিয়ে দেন। তিনি অফিস সময়ের বাইরেও আবেদন শুনতে পারেন, এমকি বাসায়ও আবেদন বিবেচনা করে রায় দিতে পারেন। তবে দেরি করলে আবেদনকারীর ক্ষতি হতে পারে কেবল এমন আবেদনই তিনি বিবেচনা করেন।

আপিল বিভাগ  

হাইকোর্ট বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির পর কোনো পক্ষ অসন্তোষ্ট হলে তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশে আপিল বিভাগের রায় চূড়ান্ত রায়। তবে কোনো ব্যক্তি আপিল বিভাগের রায়ে অসন্তোষ্ট হলে একই বিভাগে পুনরায় রায়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারেন। যাকে আমরা রিভিউ হিসেবে জানি। বর্তমানে আপিল বিভাগে দুটি বেঞ্চ রয়েছে।