আমাদের দেশের অধিকাংশ আইন এসেছে ব্রিটিশ আইন থেকে


আমাদের দেশের অধিকাংশ আইন এসেছে ব্রিটিশ আইন থেকে।

অশ্লীলতার আইন তার ব্যতিক্রম নয়। ১৭১৭ সালের আগে ইংল্যাণ্ডে অশ্লীলতার বিচার হত ধর্মীয় আদালতে। কোন বই অশ্লীল সেটি ঠিক করতো ইংল্যাণ্ডের চার্চ কিন্তু ১৭১৭ সাল থেকে স্থির হয় অশ্লীলতার বিচার হবে সাধারণ আদালতে। ১৮৬৮ সালে হিকলিনস মামলায় অশ্লীলতার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, মোটামুটি ভাবে তারই উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে অশ্লীলতা আইনগুলি রচিত। অশ্লীলতা বলতে আমরা কি বুঝি,

শ্লীলতা অশ্লীলতা অনেকটাই ব্যক্তি-নির্ভর। একজনের কাছে যা অশ্লীল, আরেকজনের কাছে তা নাও হতে পারে। আইন অনুযায়ী এর সঠিক সংজ্ঞা পাওয়া যায় না। কামপ্রবৃত্তিকে আকৃষ্ট করে, অথবা যার
ফল, যদি সামগ্রিক ভাবে বিচার করা যায়, লোকের মনকে কলুষিত ও নৈতিক ভাবে অধঃপাতিত করতে পারে সেটি হবে দণ্ডনীয় অপরাধ।বাংলা একাডেমির অভিধান থেকে অশ্লীলতার সংজ্ঞায় বলা হয়, কুৎসিত, জগন্য, কুরুচিপূর্ণ কোন কিছু। বাংলাদেশ পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ধারা ২৯২ এ বলা হয়েছে, কোন অশ্লীল বই, পুস্তিকা, কাগজ, অঙ্কন, ছবি, মূর্তি বা অন্য কোনো অশ্লীল জিনিস বিক্রি, ভাড়া দেওয়া, প্রদর্শন বা বিতরণ করার উদ্দেশ্যে বানানো; অথবা উপরোক্ত অশ্লীল জিনিসগুলি বিক্রি, ভাড়া দেওয়া, বিতরণ বা প্রদর্শন করা, অথবা সেগুলি নিজের কাছে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। উপরোক্ত যে কোনো উদ্দেশ্যে কোনো অশ্লীল বস্তু আমদানী বা রপ্তানী করা; নিজের সে উদ্দেশ্য না থাকলেও সেই উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহৃত হতে পারে যদি জানা থাকে সেটাও দণ্ডনীয় অপরাধ। নিজের জ্ঞাতসারে অশ্লীল বস্তু সংক্রান্ত ব্যবসায় অংশ নিলে বা সেই ব্যবসার লভ্যাংশ গ্রহণ করলে সেটিও হবে দণ্ডনীয়।এই ধারা অনুসারে অবৈধ কোনো কাজে যুক্ত লোকের খবর কাউকে জানালে বা তার জন্য বিজ্ঞাপন দিলে অপরাধ বলে গণ্য হবে। তবে আইনে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে, যেমন, প্রকৃতই ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত বা ব্যবহৃত কোন পুস্তক বা লেখা বা চিত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সাধারণ ভাবে বলতে পারি, যা মনকে দূষিত করে তা অশ্লীল। বিতর্কিত পুস্তক বা প্রকাশ যাদের হাতে পড়ার কথা তারা যদি এমন বয়সের বা অবস্থায় হয় যে, তাদের মন উত্তেজনাকর কোন কিছুর প্রভাবে হঠাৎ আকৃষ্ট হয় এবং উক্ত পুস্তক বা প্রকাশনার মধ্যে যদি এমন কিছু থাকে যা উক্ত মনগুলিকে নিচের দিকে টানে বা দূষিত করে তোলে, তবে তা অশ্লীল বলে গণ্য হবে। বাংলাদেশ দন্ডবিধি,১৮৬০ এর ধারা ২৯২, ২৯৩, ২৯৪ অনুযায়ী অশ্লীল পুস্তক, চিত্রকর্ম বিক্রয় তথা, অল্প বয়স্ক ব্যক্তির নিকট বিক্রয় সহ অশ্লীল গান ও কার্য্য দন্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত হবে আমাদের দেশে। তবে গানে অশ্লীলতা হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য স¤পূর্ণ গানটি বিবেচনায় আনতে হবে। একই সাথে দন্ডবিধির ৫০৯ ধারায় বলা আছে, কোন নারীর শালীনতার অমর্যাদার অভিপ্রায়ে কোন মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা কাজ দন্ডনীয় অপরাধ। যাকে আমরা ইভটিজিং বলে থাকি। অশ্লীলতা নতুন ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যম বা সাইবার স্পেসে। বাংলাদেশ সরকার ২০০৬ সালে পাশে করেছে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি আইন। আইসিটি আইন, ২০০৬ ধারা ৫৭(১,২)অনুযায়ী ‘ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অশ্লিল বা নোংড়া কোন কিছু প্রকাশ বা সংযুক্তি করলে, যার মাধ্যমে কোন ধর্মীয় অনুভুতি ও সমাজে আঘাত করে বা কোন ব্যক্তির ক্ষতি সাধনের ঝোঁক পাকায় বা দুর্নীতির স্বীকার হয় সেই প্রকাশনি দেখানো, শোনানো বা পড়ানোর মাধ্যমে যা অপরাধ বলে গণ্য হবে। যার সবোর্চ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদন্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা। স্থান, কাল, পাত্র ভেদে শ্লীল-অশ্লীল তারতম্য হয়। তারতম্য বা শ্রেণিভাগ যাই থাক অশ্লীলতার সামাজিক ক্ষতি নিয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই। অশ্লীলতা বলতে সরকারের নীতিনির্ধারকরা বাণিজ্যিক উদ্দেশে তৈরি অশ্লীল সংলাপ, প্রকাশনা, নৃত্য, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন চলচিত্র বা ভিডিওচিত্র বা স্থিরচিত্রকে চিহ্নিত করেছেন। সেই অনুযায়ী পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ করা হয়েছে। যদিও উক্ত আইনে অশ্লীলতার সংজ্ঞা দেয়া হয় নি তবে বলা হয়েছে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী অশ্লীল বই, সাময়িকী, ভাস্কর্য, কল্পমূর্তি, মূর্তি, কাটুর্ন বা লিফলেট; বিতরণ অপরাধ যা অশ্লীলতার নামান্তর। কোন ব্যক্তি পর্নোগ্রাফি প্রদর্শনের মাধ্যমে গণউপদ্রব সৃষ্টি করিলে উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। নৈতিক শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে সমাজ থেকে নোংড়া সব কিছু নিমূল করা উচিত এবং এর জন্য, সিনেমা বা টিভি পর্দায় অশ্লীলতা রোধে সরকার সিনেমাটোগ্রাফী আইনের কথা ভাবতে পারে। তবে সব কিছুর আগে বিদ্যমান আইনের সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন। একের পর এক আইন করা হয়, কিন্তু তা শুধু মৃত আইনের পাল্লা ভারী করে চলছে। বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগ পারে এই সামাজিক নৈতিক অবক্ষয় রোধে অবদান রাখতে। আমাদের দেশে নারীকে পণ্য হিসেবে অনেক বিজ্ঞাপন ও মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়। যাতে নারী-পুরষের সমতা , নারীদের নিজ হাতে লুন্ঠিত ও তাদের অশ্লীল ভাবে উপস্থাপন করা হয়। তা রোধে করা যেতে পারে নারীর অশোভন উপস্থাপন (নিরোধ) আইন। সর্বোপরি সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা পারে এই ধরনের সামাজিক অপরাধ তথা অন্যায় থেকে দুরে রাখতে। কারণ এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তরুণ ও শিশুরা।

– মতিউর রহমান ফয়সাল

Advertisements

আইন না জানা কোন অজুহাত নয়


আইন জগতে একটি বহুল প্রচলিত ম্যাক্সিম হলো

law-books_1আইন না জানা কোন অজুহাত নয়।

ল্যাটিন ভাষায় Ignorantia juris non excusat. কেউ একটি ভুল করে এসে অজুহাত দিতে পারবেনা যে ওহ আমি তো জানতামনা যে আমি যা করেছি তা আইনে নিষিদ্ধ। সংসদ বা অথরিটি তথা সরকার যে আইন করবে, তা জনগণের জানা থাকা উচিত। সরকার আইন প্রনয়ণ করে যাবে আর তা জেনে নেওয়ার ও সেই আইনমতে চলার দায়িত্ব জনতার। সরকারের প্রতিটি নাগরিকের কানের কাছে এসে বলা বাস্তবসম্মত নয় যে অমুক আইন হয়েছে, এখন থেকে অমুক কাজটি করা যাবেনা। তাছাড়া, কেউ যদি সংশ্লিষ্ট আইন জানা থাকার পরও দাবী করে বসে যে সে আইনটি সম্পর্কে জানতোনা তাহলে কি হবে? সে-ক্ষেত্রে হয়তো বার্ডেন অব প্রুফ সোজা গিয়ে পড়বে ক্লেইম্যান্ট আসামী/বিবাদীর উপরঃ তুমিই প্রমান কর যে তুমি আইনটা জানতেনা! আর এই অজুহাতকে প্রশ্রয় দিলে জনতা তো আইন জানতেও আগ্রহী হবেনা। এসব-ই ট্রাডিশনাল এ্যাপ্রোচ। কিন্তু আজকাল এই এ্যাপ্রোচের যথেষ্ট সমালোচনা হচ্ছে। আসুন দেখি, এই এ্যাপ্রোচের বিপরীতে আধুনিক আইনবিদগণ কি ভাবছেন।

আমরা যে due process এর কথা জানি, তার অন্যতম একটি প্রিন্সিপল হল Principle of fair warning, অর্থাৎ আইনে কি নিষেধ করা হলো না হলো তা জনতাকে অবশ্যই যুক্তিসঙ্গতভাবে সতর্ক করতে হবে। সরকার অনেকসময় অনেক কঠোর শাস্তির বিধান-সম্বলিত আইন করে রেখে দিতে পারে, যা জনতা না-ও জানতে পারে। এখন সেই জনতার কেউ যদি সেই আইনের আওতায় চলে আসে ও আইন না জানার অজুহাত দেখায়, আর আদালত যদি তাকে ‘নো এক্সকিউজ’ বলে সাজা দিয়ে দেয়, তাহলে কি তার প্রতি অবিচার হবে না? সরকারকে অবশ্যই যথেষ্ঠ পরিমানে আইনটির প্রচার প্রচারণা চালানো উচিত। শুধু গেজেটে প্রকাশ করা কি যথেষ্ট? এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ল’তেও আমরা পড়েছি, কারও বিরুদ্ধে কোন এ্যাকশন নিতে গেলে পূর্বে তাকে যুক্তিসঙ্গত সময় দিয়ে নোটিশ করতে হয়, জানাতে হয়, সতর্ক করতে হয়।

একটা আইন কেউ জানতো কি জানতোনা তা নির্ণয় করা অবশ্য একটি জটিল ব্যাপার। এজন্য নানান মেকানিজম নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা হচ্ছে। যেমন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে এলাকায় বাস করে সে এলাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ (যাদের শিক্ষাদীক্ষা ও বুদ্ধির একটি স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে) আইনটি জানে/জানতো কিনা।

আমাদের দেশের অবস্থা একটু চিন্তা করা যাক। দেশের অধিকাংশ লোক এখনও সুশিক্ষিত নয়। রাষ্ট্র বা সরকারসমূহ জনতার শিক্ষার যথেষ্ঠ বন্দোবস্ত করেনি, করেছে কি? সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র এক্ষেত্রে সবসময় ‘চেষ্টা’ করে থাকে। তারমধ্যে আমাদের আইনগুলোর ভাষা হলো ইংরেজী। ইদানীং কিছু আইন বাংলায় হচ্ছে। কৃষক শ্রমিক জনতা এই আইনের কতটুকুই বা বুঝবে? এমনিতেই কিন্তু আইনের ভাষা (সঙ্গত কারণে) বেশ জটিল। একটা আইন শুধু গেজেটে প্রোমালগেট করাই কি যথেষ্ট? শিক্ষিত লোকজনও কি স্বাভাবিকভাবে খোঁজখবর রাখে, কোন আইনটা পাশ করলো সংসদ? আবার, এই আইনগুলো জনতা কোথায় কিভাবে পাবে বা পড়তে পারবে তা কি তারা জানে? তাদের কি সেই সক্ষমতা আছে? ইন্টারনেটে, ধরা যাক, আইনগুলো পাওয়া যায়। দেশের সাধারণ মানুষ কি ইন্টারনেট থেকে আইন উদ্ধার করে তার পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম? সক্ষম নয় বলে তার দায় কতটুকু তাদের উপরে চাপানো যায়? এখানে একটি বড় ফাঁক থেকে যাচ্ছে, নয় কি?

আবার প্রতিটি আইনের বিধি বিধান জনগণের সামনে যথেষ্ট সহজ ও স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হওয়া বাঞ্চনীয়। Void-for-vagueness doctrine নামে আমেরিকায় বিচারিক সিদ্ধান্ত তথা কমন ল’ হতে উদ্ভাবিত একটি ডকট্রিন আছে যার মূল কথা হলোঃ “men of common intelligence cannot be required to guess at the meaning of [a criminal] enactment.” একটা আইনের অর্থ সাধারণ-বুদ্ধির একজন মানুষ বুঝবে – তা কি আশা করা ঠিক? শুধুমাত্র আইন অস্পষ্ট থাকায় অনেক আসামীকে মার্কিন আদালত খালাস দিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে আমেরিকার ল্যান্ডমার্ক মামলাটি হলো Lambert v. California, 355 U.S. 225 (1957) যেখানে সূপ্রীম কোর্ট ঘোষণা করেন, অস্পষ্ট আইনের আওতায় কাউকে সাজা দেওয়া অসাংবিধানিক।

লুৎফর রহমান শিশির
Senior Assistant Judge at Bangladesh Judicial Service

Collect From:https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=964738100222784&id=238456752850926

রিমান্ড দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ আইন এবং নিয়ম আছে।


রিমান্ড দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ আইন এবং নিয়ম আছে।ment-of-the-paddle-2c-1912

 

রিমান্ডের আইনে বলা হয়েছে- তদন্তের স্বার্থে এবং সত্য উদঘাটনের স্বার্থে যদি প্রয়োজন হয় তাও সে রেয়ার কেসের ক্ষেত্রে রিমান্ড দেয়া যেতে পারে। শুধু তাই নয় স্পষ্টভাবে বলা আছে – কি কারণে রিমান্ড প্রয়োজন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ম্যাজিস্ট্রেট বা হাকিমের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদের দৃষ্টিকোণ থেকে রিমান্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আসামীর স্বার্থ সাক্ষ্য আইনে মূল্যহীন। আর নির্যাতনের মাধ্যমে যদি কোনো তথ্য পাওয়া যায় সেটি এভিডেন্স হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। রিমান্ডের ওপর ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব হাকিম বা বিচারকদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। বাছ বিচার করে , সুস্পষ্টভাবে কেস স্টাডি করে , কি কারণে রিমান্ড চাচ্ছে তা বিশ্লেষণ করে রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করা উচিত। অতি সাধারণ কারণে এবং মামুলী মামলার ক্ষেত্রেও রিমান্ড চাওয়া উচিত নয়। এধরনের রিমান্ডকে উচ্চতর আদালতে অবশ্যই ডিসক্যারেজ করা উচিত। যে কোনো কেসে রিমান্ড চাওয়াটা যেন অভ্যাসে পরিণত না হয়। রিমান্ড বা রিমান্ডের নামে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা সংবিধানে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ । তাছাড়া জুডিশিয়াল কাস্টডিতে আসামী যে সাক্ষ্য দেয় তার কোন দাম নেই। ক্রিমিনাল জুরিসপ্রুডেন্সের ক্ষেত্রে এ ধরনের সাক্ষ্য মূল্যহীন এবং আইনের পরিপন্থী। রিমান্ড কাদের ক্ষেত্রে নেয়া যেতে পারে সে বিষয়ে আমাদের আইনের যে নির্দেশনা তা হচ্ছে – গ্যাং ডাকাতি, ডাকাতি, গুরুতর অপরাধ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এসব ক্ষেত্রে রিমান্ড দেয়া যেতে পারে এবং আগেকার দিনে এসব ক্ষেত্রেই রিমান্ড চাওয়া হতো। রিমান্ডে নির্যাতনের মাধ্যমে যদি কারো স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় সেই স্বীকারোক্তির কোনো এভিডেনশিয়াল ভ্যালু নেই। আইনের দিক থেকে এটি মূল্যহীন। এটি অনেক কারণে করা হয়ে থাকে। অনেকে অবৈধভাবে পয়সা অর্জনের করে থাকে, অথবা কারো প্রতি প্রভাবিত হয়েও অনেক ক্ষেত্রে এটি করা হয়ে থাকে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে না বুঝে করে। এ বিষয়ে আইন ও সংবিধানের ওপর প্রোপার ট্রেনিং না থাকার কারণে অবৈধ এ বিষয়টির যথেচ্ছ ব্যবহার হয়।

আইন শিক্ষা (Law Education)

হলফনামা সম্পাদন করার নিয়ম


হলফনামা সম্পাদন করার নিয়ম

11033726_1607163869516587_77550601806422026_n

জমি কেনাবেচা, বিয়ে কিংবা বিচ্ছেদ, নাম পরিবর্তন বা সংশোধন, পাসপোর্টে নাম সংশোধন ও মামলা মোকদ্দমাসহ নানা কাজে প্রয়োজন হয় হলফনামার। এ ছাড়া বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ তৈরির কাজেও লাগে হলফনামা। হলফনামা হচ্ছে কোনো বিষয়ে সত্যতাসহ এর সমর্থনে ঘোষণা দেওয়া। যথাযথ নিয়মকানুন মেনেই সম্পাদন করতে হয় হলফনামা।

হলফনামায় যা যা উল্লেখ করতে হবে:
•হলফনামা হবে লিখিত। এতে হলফকারীর পূর্ণ নাম, ঠিকানা, বাবা-মায়ের নাম, জাতীয়তা, বয়স, পেশা ও ধর্ম উল্লেখ করতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর। হলফকারী ব্যক্তি কী বিষয়ে, কী কারণে ও কেন হলফ করছেন তাঁর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে হবে।
•কোনো জমিজমা নিয়ে হলে জমির তফসিল উল্লেখ করতে হবে।
বিয়ে সংক্রান্ত হলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, বয়স ও পেশা উল্লেখ করতে হবে। বিয়ের তারিখ, কত টাকা দেনমোহর নির্ধারণ হয়েছে এবং দেনমোহরের কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে সেটাও উল্লেখ থাকতে হবে। প্রয়োজনে সাক্ষীদের নাম ঠিকানাও দিতে হবে। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও এসব তথ্য উল্লেখ করতে হবে। কী কারণে তালাক দেওয়া হয়েছে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকতে হবে। তবে বিয়ের হলফনামায় স্বামী ও স্ত্রী দুজনের স্বাক্ষর লাগবে। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে যিনি বিবাহবিচ্ছেদের হলফনামা করছেন শুধু তিনি স্বাক্ষর দেবেন।
•যেকোনো হলফনামায় অবশ্যই যে তারিখে হলফনামাটি সম্পাদন করা হচ্ছে সেই তারিখটি উল্লেখ করতে হবে।
•নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পূর্ব নাম কী ছিল এবং বর্তমান নামে কী সংশোধন হয়েছে তা স্পষ্ট করে লিখতে হবে।
•হলফকারীকে হলফনামার সঙ্গে পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি দিতে হবে এবং স্বাক্ষর করতে হবে।
•হলফনামার শেষ অংশে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে শনাক্ত করাতে হবে এবং আইনজীবীকে উল্লেখ করতে হবে এই হলফনামাটি তার সামনে সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনজীবীকে আইনজীবী সমিতির সদস্য নম্বরসহ হলফনামায় স্বাক্ষর করতে হবে। মনে রাখতে হবে যেকোনো হলফনামা করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে বিষয়ে হলফনামাটি করা হচ্ছে তার সত্যতার বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা।

কীভাবে সম্পাদন করতে হবে:

হলফনামা সম্পাদন করতে হয় ২০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। তবে বিবাহবিচ্ছেদের হলফনামা করতে হবে ৫০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। হলফনামা লেখার পর (কম্পোজ বা টাইপ) নোটারি পাবলিক বা প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সত্যায়ন করাতে হবে। নিয়ম হচ্ছে যিনি হলফনামাটি করলেন তিনি নোটারি পাবলিক কিংবা প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁর হলফনামাটি সম্পর্কে সত্যপাঠ করবেন। তখন নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেট হলফনামাটি যাচাই-বাছাই করে এর ওপর স্বাক্ষর দেবেন এবং একটি বিশেষ সরকারি সিল ব্যবহার করে এতে ক্রমিক নম্বর বসাবেন। হলফনামাটির একটি ফটোকপি তিনি রেখে দেবেন।

জেনে রাখুন:
•কোনো মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করলে ক্ষেত্রবিশেষে হলফনামা আদালতে দাখিল করতে হয়। বিশেষ করে দেওয়ানি মোকদ্দমায় অন্তর্বর্তীকালীন কোনো প্রতিকার চাইলে এবং এর জবাব দিলে বিচারপ্রার্থীকে হলফনামা দিতে হয় দরখাসে্তর বা জবাবের সঙ্গে। এই হলফনামায় ছবি লাগে না এবং আদালতের সেরেস্তাদারের সামনে স্বাক্ষর করতে হয়। সেরেস্তাদার যাচাই-বাছাই করার পর আদালতে প্রেরণ করেন। জমি কেনা-বেচার দলিলের সঙ্গে দলিল নিবন্ধনের সময় হলফনামা দিতে হয় সাবরেজিস্ট্রি অফিসে।
•নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে হলফনামা করার পর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। হলফনামা দিয়ে বয়স পরিবর্তন করা যাবে না। কোনো বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক আইন অনুযায়ী প্রথমে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। তারপর তাঁরা ইচ্ছা করলে হলফনামা করে রাখতে পারেন। পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিয়ে না করে শুধু এ হলফনামা সম্পন্ন করা উচিত নয়। শুধু হলফনামা সম্পাদন করলেই আইন অনুযায়ী বিয়ে হয়েছে বলা যাবে না। তালাকের ক্ষেত্রেও পারিবারিক আইন মেনে তালাক দিতে হবে। মুসলমান হলে কাজির মাধ্যমে তালাকের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই তালাকের হলফনামা সম্পন্ন করা উচিত।

Source: ainoainjibi.com

এডওয়ার্ড মার্শাল হল-এর আইন সাধনা; আইন উৎসাহী ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী দের জন্য


এডওয়ার্ড মার্শাল হল-এর আইন সাধনা; আইন উৎসাহী ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী দের জন্য।

bangladesh-army-online-dhaka-guide

যদি কেউ আইনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগ থেকে নেশার মত শুধু আইন সাধনা করতে থাকেন এবং অধিক কাজের ফলশ্রুতিতে মৃত্যুমুখে পতিত হন তাহলে আপনি তাকে কি বলবেন? যদি কেউ যৌবনে আইন ও ক্যারিয়ারের নেশায় মাতাল হয়ে নিজ-সংসার তুচ্ছ জ্ঞান করেন এবং ফলশ্রুতিতে অতি সুন্দরী ও ললনাময়ী স্ত্রী ও যদি তাকে ত্যাগ করেন তাহলে ওই আইনী আশেককে আপনি কি নামে ডাকবেন? আপনি তাকে যেভাবেই মূল্যায়ন করেন না কেন আমার চোখে সে আইনের মস্ত বড় সাধক। হ্যাঁ, আজকের আলোচ্য উক্ত সাধকের নাম ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হল। বৃটিশ ভারতের পটভূমিতে রচিত ক্যালকাটা হাইকোর্ট তথা আদালত পাড়া কেন্দ্রিক উকিল-ব্যারিষ্টারদের দৈনন্দিন জীবন-আচার ভিত্তিক চিত্র উল্লেখে ‘শংকর’ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘কত অজানারে’র মাধ্যমে সর্বপ্রথম ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হলের নাম ও সুনাম সম্পর্কে প্রথম অবগত হবার সুযোগ লাভ করি। প্রচন্ড আগ্রহ থেকে পরবর্তীতে তাঁর সম্পর্কে ইন্টারনেট ও পুস্তকে জানার চেষ্টা করি। তারই ফলশ্রুতি আজকের আইন সাধকদের জীবনী পর্বে ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হলের জীবনী শ্রদ্ধাভরে আলোচনা।

Sir Edward Marshall Hall KC, জন্ম ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৫৮ Brighton, England. এবং মৃত্যু২৪ ফেব্রুয়ারী, ১৯২৭. তিনি ছিলেন একজন ইংলিশ ব্যরিষ্টার। সমসাময়িককালে লোকজন তাকে সবচে’ বেশি যে নামে চিনতেন তা হল তিনি ছিলেন ফৌজদারী মামলার এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী আসামী পক্ষের কৌশলী। তাঁর অসাধারণ বাচন ভঙ্গি ও জবানবন্দী ও জেরার করার ক্ষমতা তাকে তাঁর পেশার সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। ইতিহাসে আলোচিত অনেক কুখ্যাত খুনের মামলা থেকে নিরপরাধ আসামীদের ছাড়িয়ে আনার সুখ্যাতি তাকে “The Great Defender” নামে পরিচিত করেছিল।

মার্শাল হল ভিক্টোরিয়ান যুগ ও তৎপরবর্তী এডওয়ার্ডীয়ান যুগে ব্যরিষ্টার হিসাবে ইংল্যান্ডের আদালত সমূহ কাপিয়ে বেড়িয়েছেন। তখনকার সময় বড় বড় ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা ব্যাপকভাবে জন আগ্রহে পরিণত হয়েছিল কার সেগুলো দৈনন্দিন ভিত্তিতে জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোতে প্রচার হত। তখনকার সময়ে আলোচিত আইনজীবীদের মধ্যে তাঁর বাচনভঙ্গিগত ও উৎকর্ষতা, আইনী যুক্তি ও জেরা-জবানবন্দীর কৌশল অন্য অনেক আইনজীবীদের তুলনায় অধিক আকর্ষনীয় ও উপভোগ্য ছিল। বলা হয় যখন তিনি চাঞ্চল্যকর ফৌজদারী মামলাগুলোর শুনানি করতেন তখন আদালতের ভেতর বাইরে উৎসুক জনতার ঢল সামলানো কঠিন হয়ে পড়ত।

ব্যক্তিগত জীবনঃ
১৮৮২ সালের তিনি Ethel Moon নামীয় একজন মহিলাকে তিনি বিয়ে করেন যদিও তাঁর উক্ত বিবাহ সুখকর হয় নি। তারা প্রায়শই আলাদা থাকতেন এবং ১৮৮৯ সালে চূড়ান্তভাবে তারা আইনী পন্থায় আলাদা হয়ে যান। ১৯৯০ সালে মুন তাঁর বয়ফ্রেন্ড কর্তৃক গর্ভবতী হন এবং পরবর্তীতে ভুল এ্যাবোরশনের ফলে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন যদিও এই কারণে এথেল মুনের বয়ফ্রেন্ড, এবর্শনিষ্ট ও অন্য কতিপয়কে হত্যার দায়ে আইনের মুখোমুখি হতে হয়। বলা হয় এথেল মুনের মৃত্যুও ব্যারিস্টার মার্শালের আইন ক্যারিয়ার গঠনে ভূমিকা রাখে কেননা তিনি এথেলের প্রতি উদাসীনতার অনুশোচনা বোধ থেকে পুরুষ কর্তৃক নিষ্ঠুর আচরণের স্বীকার অনেক মহিলার পাশে দাড়িয়েছেন। যাই হোক, তিনি পরবর্তী জীবনে হেনেরিটা নামে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেন এবং সেখানে তাঁর এলনা নামে এক কন্যা সন্তান ছিল।
তিনি অত্যন্ত্য কাজ পাগল একজন আইনজীবী ছিলেন। ক্লায়েন্টের প্রতিটি মামলাকে তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়ে সেগুলো নিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, গবেষণা, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিংস ইত্যাদি কাজে নিমগ্ন থাকতেন। প্রতিটি মামলার প্রতি তাঁর এইরুপ গুরুত্ব আরোপ অন্য আইনজীবী থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে তাকে সাহায্য করেছিল। অতিরিক্ত কাজের ফলে নিজের প্রতি তিনি খেয়াল রাখতে উদাসীনতা প্রদর্শণন করেন এবং বলা হয় নিজের প্রতি এরুপ উদাসীনতা তাকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত করে যা তাকে ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যু মুখে তুলে দেয়।

Camden Town Murder
মার্শালের জীবনে তাকে “The Great Defender” নামে সুখ্যাতি আনতে যে কয়েকটি মামলা টনিকের মত কাজ করেছিল তাঁর মধ্যে একটি ছিল Camden Town Murder Case. ১৯০৭ সালে মার্শালের কাছে এই মামলার ব্রিফ আসে। এই মামলায় মার্শাল এমন এক আসামীকে বাচিয়েছিলেন যাকে ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে খুনের দায়ে আদালতে তাঁর সর্বোচ্চ সাজা হতে যাচ্ছে। কারণ ঘটনার আগে পরে তাঁর ভূমিকা, টি,আই প্যারেডে তাঁর সনাক্ত করণ, আসামী নিজ কর্তৃক এক্সট্রা জুডিশিয়াল স্বীকারোক্তি, পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্য ইত্যাদি বিবেচনায় প্রাইমা ফেসি সবাই ঊডকে দোষী সাব্যস্ত্য করবে- এটাই ছিল স্বাভাবিক। মামলার সংক্ষিপ্ত ঘটনা এই যে, এমিলি ডিমোক ওরফে ফিলিস নামিয় এক পতিতার গলাকাটা মৃতদেহ তাঁর ঘরে পাওয়া যায়। ঘরে এমন এক পোষ্ট কার্ড ও পাওয়া যায় যার হাতের লেখা ছিল আসামী রবার্ট উডের। পোষ্ট কার্ডে ঘটনার রাতে আসামী ভিক্টিমকে তাঁর সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য বলেন। শুধু তাই নয় ঘটনার পর আসামীর গার্লফ্রেন্ড রুবি ইয়ংকে (যিনিও একজন পতিতা ছিলেন) আসামী অনুরোধ করেন যে, যদি কেউ আসামী উডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে তাহলে যেন রুবি সেই জিজ্ঞাসাকারীকে এটা বলে দেয় যে, ঘটনার সময় আসামী উড রুবির সাথে ছিল। উল্লেখ্য, টি, আই প্যারেডে অন্য স্বাক্ষীগন আসামীকে সনাক্ত করেন, অন্য সাক্ষী তাঁর সাক্ষে আদালতে লেন যে, ঘটনার রাতে আসামিকে উক্ত ঘটনা স্থলের নিকটে দেখা গেছে। কেউবা আবার বলেন যে, আসামির সহিত মৃত ভিক্টিমকে স্থানীয় ব্রোথেলে দেখা গেছে। অন্য দিকে যদিও পোষ্ট কার্ডে প্রেরকের ঠিকানায় ‘এলিস’ নামে একজনের নাম লেখা ছিল কিন্তু হাতের লেখা যে রবার্ট উডের এটা প্রমাণ হয়েছিল। সুতরাং সব বিবেচনায় আসামী রবার্টই যে উক্ত এমিলি ডিমোকের হত্যার জন্য দায়ী এটা প্রতীয়মান হচ্ছিল যদিও খুনের মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হয় নি।

এডোয়ার্ড মার্শালের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছিল কেননা ১৯০৭ সালের আগে তখনকার সময় তাঁর আইন পেশায় খুব মন্দাভাব ছিল। ভাল কোন ব্রিফ তাঁর হাতে ছিল না। সুতরাং এই মামলায় মার্শাল তাঁর অসাধারণ ভাষা শৈলির ব্যাবহার সর্বোপরি অবিশ্বাস্য জেরার মাধ্যমে আসামী রবার্ট উডকে নিশ্চিত শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন। (সুযোগ পেলে Camden Town Murder Case-এর বিস্তারিত একদিন লিখবো, অসাধারণ এক মামলা। আমি একটি পূর্ণদিন সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পুরো মামলাটি পড়েছি। এক কথায় অসাধারণ)।

Green Bicycle Murder
মার্শাল হলের অন্যতম আরেকটি মামলা হচ্ছে R v Ligh যাকে Green Bicycle Murder মামলাও বলা হয়। এই মামলাটিও পূর্বে উল্লেখিত Camden Town Murder মামলার ন্যায় পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল যা ছিল পুরোপুরি আসামির বিরুদ্ধে। এই মামলায়ও আসামীর বিরুদ্ধে যে সকল সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপণ করা হয় তা হল আসামী রোনাল্ড লাইট যাকে দেখা ঘটনার দিন ভিক্টিম মৃত বেলা রিটকে গ্রীণ সাইকেলে চড়িয়ে ঘুরতে দেখা গিয়েছল। আসামির দখলে এমন এক অস্ত্র(রিভলবার) ছিল যেটি সদৃশ্য কোন অস্ত্র দ্বারা ভিকটিমকে হত্যা করা হয়েছিল। বলা হয় আসামী কাজ শেষ হবার পর উক্ত গ্রীন বাইসাকেল খালের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন। এছাড়া গ্রেফতার হবার পর আসামী পুলিশের নিকট মিথ্যা বলেছিলেন। ব্যারিস্টার মার্শাল হল এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক উথাপিত সাক্ষ্য প্রমানের অকাট্যতা প্রমানের ব্যার্থতাসমূহ তুলে ধরা সহ জেরার মাধ্যমে সাক্ষীদের বিশ্বাস যোগ্যতাতাকে খন্ডন করেন। এছাড়া কিছু ল’ পয়েন্টে ব্যারিস্টার মার্শাল হল এমন সব যুক্তি তুলে ধরেন যার মাধ্যমে জুরিরা আসামীকে খালাস দিতে বাধ্য হন। ল’ পয়েন্ট গুলোর মধ্যে একটি হল খুনের জন্য পূর্বপরিকল্পনার বিষয়টি অন্যতম। কিন্তু এই মামলায় ‘হেয়ার সে’ (বাংলাদেশে ডাইং দেক্লারেশনের অনুরুপ) নিয়মের উপর ভিত্তি করে এবং ভিক্টিমের প্রদত্ত জবান বন্দীর উপর নির্ভর করে ব্যারিস্টার হল এটা প্রমাণ করেন যে, খুনের সাথে আসামীর কোন যোগ সূত্রতা নেই।

সফলতার পাশাপাশি তিনি কতিপয় মামলায় ব্যার্থ্যও হয়েছেন। ১৯১২ সালে বিখ্যাত পয়জনিং মামলায় তিনি আসামী ফ্রেডারিক সেডনকে রক্ষা করতে ব্যার্থ হন যদিও বলা হয় সেডনের ফাঁসির জন্য সেডন নিজেও দায়ি কারণ সে আইনজীবীর পরামর্শ পুরোপুরি মানেন নি। এছাড়া তিনি জীবনে অসংখ্য ফৌজদারী মামলা পরিচালনা করেন এবং অনেককে তীক্ষ্ণ আইনী যুক্তি, কেস স্টাডি ইত্যাদির মাধ্যমে অনেককে রক্ষা করেন।

জীবনে তিনি সংসদে জন প্রতিনিধি হিসাবেও যাবার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তাঁর জীবনী বিবিসি’তে ৮ পর্বের ধারাবাহিকে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর বিভিন্ন বিখ্যাত মামলা গুলোও টেলিভিশনে উপস্থাপিত ও প্রচারিত হয়েছে। পরিশ্রম করলে, আইনকে ভালবাসলে যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে স্থান করে নেয়া যায় – ব্যারিস্টার মার্শাল হলের জীবনী থেকে এটাই হোক আমাদের শিক্ষা।

যেভাবে জাল দলিল হয়


যেভাবে জাল দলিল হয়

7-bigstock-stamp-that-is-used-by-a-notary-41334763-copy

বণ্টননামার ক্ষেত্রে সহ-শরিকদের অজান্তে ভুয়া বণ্টননামা করে দলিল জাল
এজমালি সম্পত্তি অর্থাৎ ভাইবোন মিলে যে সম্পত্তি ভোগ করে থাকে, এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভাইয়েরা বোনদের না জানিয়ে দলিল তাদের নামেই করিয়ে থাকে
মালিকানা ছাড়াই দলিলদাতা সেজে বা কাউকে মালিক সাজিয়ে জমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে রেজিস্ট্রি করে নেয়া হয়
অনেক সময় অর্পিত সম্পত্তি বা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি জীবিত দেখিয়ে জাল করা হয়।
সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে আদালত থেকে বণ্টননামা সম্পন্ন করা হয় না, সে ক্ষেত্রে দলিল জালের সম্ভাবনা বেশি থাকে
মালিক বিদেশে থাকলে মূল দলিল থেকে জালিয়াতি করা হতে পারে

জালের রকমফের

অনেক সময় ঘষামাজা করে এবং ওভাররাইটিং বা কাটাছেঁড়া করেও দলিল জাল করতে পারে। আবার মূল তারিখ ঠিক রেখে দলিলের বিষয়বস্তু জাল করতে পারে।

আপনি যে জমিটি কিনছেন সেটার দলিল জাল কি-না

১। কোনো দলিল নিয়ে সন্দেহ হলে রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষণ করা দলিলের সাথে সাল মিলিয়ে দেখতে হবে। এ জন্য নির্দিষ্টভাবে দরখাস্ত করতে হবে। এতে দলিলটির যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের প্রকৃতি অনুযায়ী চারটি রেজিস্ট্রার বা ভলিউমে সংরক্ষিত থাকে।

২। বিক্রেতার কাছ থেকে সব দলিল, বিশেষ করে ভায়া দলিল চেয়ে নিতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জানতে হবে সব দলিলের ক্রমিক নম্বর, দলিল নম্বর ঠিক আছে কি না।

৩। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে জমির মিউটেশন বা নামজারি সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে। নামজারিতে ধারাবাহিকতা ঠিক আছে কি না, পর্যবেক্ষণ করুন। যদি দেখা যায়, সিএস জরিপের সঙ্গে বিক্রেতার খতিয়ানের কোনো গরমিল থাকলে ধরে নিতে হতে সমস্যা আছে।

৪। দলিল সম্পাদনের সময় ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের পেছনে কোন ভেন্ডার থেকে স্ট্যাম্প কেনা হয়েছে এবং কার নামে কেনা হয়েছে খেয়াল রাখুন। প্রতিটি স্ট্যাম্পের পেছনে একটি ক্রমিক নম্বর উল্লেখ থাকে। এ নম্বরটি ঠিক আছে কি না, প্রয়োজনে স্ট্যাম্প বিক্রেতার সঙ্গে দেখা করে যাচাই করে নিন।

৫। একাধিক মালিকের ক্ষেত্রে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মূল মালিক কে, তা নির্ণয় করতে হবে।

৬। ভূমি অফিস থেকে বিভিন্ন সিল পরীক্ষা করেও জালিয়াতি নির্ণয় করা যায়।

৭। অনেক সময় স্বাক্ষর জালিয়াতি করে দলিলদাতা বা গ্রহীতার সাজা হয়। এ ক্ষেত্রে স্বাক্ষর বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

৮। ভালো করে তারিখ, কাগজ, সিল ইত্যাদি লক্ষ্য করুন। দেখুন কোন অসংলগ্ন চোখে পড়ে কিনা।

৯। জরিপ খতিয়ানে জমির পরিমাণ পরবর্তী সময়ে যতবার বিক্রি হয়েছে, তার সঙ্গে জমির পরিমাণ মিল আছে কি না, তা যাচাই করুন। দাগ নম্বর, ঠিকানা এসব ঠিক আছে কি না, পরীক্ষা করুন।

১০। সম্প্রতি কোনো আমমোক্তারনামা দলিল থাকলে তাতে উভয় পক্ষের ছবি ব্যবহার হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে।

১১। কোনো দান করা জমি হলে দলিলে সম্পাদনের তারিখ দেখে কবে জমিতে গ্রহীতা দখলে গেছে তা যাচাই করতে হবে। দলিলটি রেজিস্ট্রি করা কি না এবং দলিলদাতার সঙ্গে গ্রহীতার সম্পর্ক কী, তা যাচাই করতে হবে।

১২। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া কোনো বিক্রীত দলিলের দলিল লেখকের নাম ঠিকানা জেনে সরেজমিন কথা বলে নেওয়া দরকার।

যেসব কারনে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারেন


যেসব কারনে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারেন

picture-10266

১. চার বৎসর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে।
২. দুই বৎসর স্বামী স্ত্রীর খোরপোষ দিতে ব্যর্থ হলে।
৩. স্বামীর সাত বৎসর কিংবা তার চেয়েও বেশী কারাদন্ড হলে।
৪. স্বামী কোন যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত তিন বছর যাবৎ দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে।
৫. বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বজায় থাকলে।
৬. স্বামী দুই বৎসর ধরে পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিতে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে।
৭. বিবাহ অস্বীকার করলে। কোন মেয়ের বাবা বা অভিভাবক যদি ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ে দেন, তা হলে মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙ্গে দিতে পারে, তবে যদি মেয়েটির স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সর্ম্পক (সহবাস) স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনি কোন বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারে।
৮. স্বামী ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লংঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে।
৯. স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে।

Code of Civil Procedure বা দেওয়ানী কার্যবিধি


CPC= Code of Civil Procedure বা দেওয়ানী কার্যবিধি
download (6)
১৯০৮ সালের ৫ নং আইন। অর্থাৎ ১৯০৮ সালের ২১ শে মার্চ প্রকাশিত পায়
এবং ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে কার্যকর হয়।
দেওয়ানী কার্যবিধিতে মোট ১৫৮ টি ধারা এবং ৫১ টি আদেশ আছে।
দেওয়ানী কার্যবিধি একটি পদ্ধতিগত (Procedural Law) আইন।
যদিও এই আইনে মূল আইনের (Substantive Law)কিছু উপাদান বিদ্যমান আছে।
১। দেওয়ানী কার্যবিধি কখন থেকে কার্যকর হয় ?
উত্তর- ১৯০৯ সালের ১ লা জানুয়ারী।
২। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় ডিক্রীদারের সংজ্ঞা দেওয়া আছে ?
উত্তর- ২(৩) ধারায়।
৩। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় সরকারী উকিল (Government Pleader) সম্পর্কে বলা হয়েছে ?
উত্তর- ২(৭)ধারায়।
৪। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় জজ (Judge)সম্পর্কে বলা আছে ?
উত্তর- ২(৮)ধারায়।
৫। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় রায় (Judgement)সম্পর্কে বলা আছে ?
উত্তর- ২(৯) ধারায়।
৬। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় জাজমেন্ট ডেটার এর বিধান আছে?
এবং Judgement Debtor কে ?
উত্তর- ২(১০)ধারায়।Judgement Debtor যার বিরুদ্ধে ডিক্রী হয়েছে।
৭। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় উকিল (Pleader)সম্পর্কে বলা হয়েছে ?
উত্তর- ২(১৫) ধারায়।
৮। নিষেধ না থাকিলে আদালত সকল প্রকার দেওয়ানী মোকদ্দমার বিচার করিবেন
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় বলা আছে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ ধারায় বলা আছে।
৯। প্রত্যেক মোকদ্দমা উহা বিচারের ক্ষমতাসম্পন্ন নিম্নতম আদালতে দায়ের করতে
হবে কত ধারায় বলা আছে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫ ধারায়।
১০। যেখানে বিষয়বস্তু অবস্থিত, সেখানে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে কোথায় বলা
আছে?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৬ ধারায়।
১১। বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত সম্পত্তির মোকদ্দমা যেখানে
দায়ের করতে হবে কত ধারার বিধান ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ ধারার।
১২। একাধিক আদালতের এখতিয়ার অনির্দিষ্ট হলে যেখানে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে কত ধারার বিধান ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৮ ধারার।
১৩। দেওয়ানী মোকদ্দমা স্তানান্তরের দরখাস্ত কত ধারায় করতে হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ২৪ ধারায়।
১৪। আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে হয় কত ধারায় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৪ ধারায়।
১৫। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় হাইকোর্টে রিভিশনের দরখাস্ত করতে হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারায়।
১৬। দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় জজকোর্টে রিভিশনের দরখাস্ত করতে হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(২)ধারায়।
১৭। বিবাদীর প্রতি সমন জারী কত ধারায় করতে হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ২৭ ধারায়।
১৮। মোকদ্দমার পক্ষভুক্ত করা হয় কোন বিধান মতে ?
উত্তর-দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১ নিয়ম-১০ মতে।
১৯। দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করা হয় কোন বিধান মতে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ ধারা ও আদেশ ৪ নিয়ম ১ মতে।
২০। বাদীর অনুপস্থিতির কারনে মোকদ্দমা খারিজ হলে ছানী/পুনরুজ্জীবিত করতে হয় কোন বিধান মতে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৯ নিয়ম ৯ মতে।
২১। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন কোন বিধান মতে করতে হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ নিয়ম ১ মতে।
২২। দেওয়ানী আদালত কোন বিধান বলে সময় মঞ্জুর করে থাকেন ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৮ ধারা এবং আদেশ ১৭ নিয়ম ১ মতে।
২৩। ডিক্রী কত প্রকার ?
উত্তর- ২য় প্রকার। যথাঃ (ক) প্রাথমিক ডিক্রি ও (খ) চূড়ান্ত ডিক্রি।
২৪। একতরফা ডিক্রী (Ex-parte Decree) কাকে বলে ?
উত্তর- বিবাদীপক্ষের অনুপস্থিতে বাদী পক্ষের অনুকুলে যে ডিক্রী প্রদান করে।
২৫। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধান মতে একতরফা ডিক্রী প্রধান করা হয় ?
উত্তর- আদেশ ৯ নিয়ম ৬ মতে।
২৬। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা রদ বা রহিত করা হয় কোন বিধান মতে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ নিয়ম ৪ মতে।
২৭। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধানে সেট অফ বর্নিত আছে? এবং সেট অফ কি ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৮ নিয়ম ৬(১)। সেট অফ কোন মোকদ্দমায় বাদীর দাবীর বিরুদ্ধে বিবাদী কর্তৃক টাকার পাল্টা দাবী।
২৮। দেওয়ানী প্রকৃতির মোকদ্দমা কি ?
উত্তর- যে মোকদ্দমায় সম্পত্তির স্বত্ব বা পদের অধিকার সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বিত
া করে।
২৯। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা দায়েরের পর যদি বিবাদী তার সমস্ত বা আংশিক সম্পত্তি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয় তাহলে বাদীর করনীয় কি ?
উত্তর- রায়ের পূর্ ক্রোকের আবেদন করা।
৩০। দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬ নিয়ম ১ এর বিধান কি ?
উত্তর- প্লিডিংস।
৩১। বাদী যে সকল কারনের উপর ভিত্তি করে মোকদ্দমা দায়ের করে তাকে কি বলে? উত্তর- কজ অব এ্যাকশন।
৩২। Local Inspection করা হয় দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধান মতে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ নিয়ম ৭ মতে।
৩৩। Local Investigation করা হয় দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধান মতে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৬ নিয়ম ৯ মতে।
৩৪। দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪০ নিয়ম ১ এর বিধান কি ?
উত্তর- রিসিভার নিয়োগ।
৩৫। কোন ডিক্রীর বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না ?
উত্তর- সোলে ডিক্রী।
৩৬। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধানে Issue বা বির্চায বিষয় সম্পর্কে আলোচনা
করাহয়েছে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪ নং আদেশে।
৩৭। ইস্যু বা বিচার্য বিষয় কয় প্রকার ?
উত্তর- ২ প্রকার। যথাঃ (ক) আইনগত ও (খ) তথ্যগত।
৩৮। মোকদ্দমার এক পক্ষের স্বীকৃত্ব এবং অপর পক্ষের অস্বীকৃত্ব প্রত্যেকটি বিষয় কি? উত্তর- বিচার্য বিষয়।
৩৯। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত না মঞ্জুর হলে কি করবেন এবং কত ধারা মতে ?
উত্তর- মিস আপীল। ১০৪ ধারা মতে।
৪০। আপীল রিজেক্ট হলে কি করবেন ?
উত্তর- রিভিশন।
৪১। আরজি খারিজের সিদ্ধান্ত কি ?
উত্তর- ডিক্রী।
৪২। আদালতের নির্দেশ পালনে ব্যর্থতায় আরজি খারিজ কি ?
উত্তর- আদেশ।
৪৩। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধান মতে হলফনামা দিতে হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১৯ নিয়ম ১ মতে।
৪৪। ডিক্রী রদ হলে কি করতে হবে ?
উত্তর- রিভিশন।
৪৫। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় কোড (Code) উল্লেখ আছে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ২(১) ধারায়।
৪৬। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় রুল(Rule)উল্লেখ আছে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ২(১৮)ধারায়।
৪৭। দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারা মতে উকিল নিয়োগ করা হয় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩ নিয়ম ৪ মতে।
৪৮। আদালত সাক্ষীর প্রতি সমন জারী করেন কোন বিধান মতে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১৬ নিয়ম ১ মতে।
৪৯। মোকদ্দমা দায়েরের পর বাদী মোকদ্দমায় হেরে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিলে কোন বিধান মতে আরজি প্রত্যাহার করবেন ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৩ নিয়ম ১ মতে।
৫০। আপীল পর্যায়ে কোন ধারা মতে বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি করা যায় ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯-গ ধারা মতে।
৫১। ডিক্রী জারী করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির কত বিধান মতে আবেদন করতে
হবে ? উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারা ও আদেশ ২১ নিয়ম ১০ মতে।
৫২। দেওয়ানী কার্যবিধির কোথায় সত্যপাঠ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬ নিয়ম ১৫ ।
৫৩। যেক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা রয়েছে অথবা
প্রস্তাবিত সংশোধনীর কারনে মোকদ্দমার প্রকৃতি পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা থাকে সে
ক্ষেত্রে কি হবে ?
উত্তর- আরজি সংশোধন করা যাবে না।
৫৪। নিম্নের কোন ধরনের মোকদ্দমায় ডিক্রি জারীর প্রয়োজন নাই ?
উত্তর- ঘোষনামূলক ও স্বত্ব ঘোষনামূলক মোকদ্দমার ক্ষেত্রে।
৫৫। সহকারী জজ অথবা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে কি করা যায় ?
উত্তর- জেলা জজ আদালতে রিভিশন করা যায়।
৫৬। সহকারী জজ বা যুগ্ন জেলা জজ আদালতের আদেশ যদি আপীলযোগ্য হয় তাহলে দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারার বিধান মতে আপীল করা যাবে ?
উত্তর- দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৪ ধারা এবং আদেশ ৪৩ নিয়ম ১ অনুসারে।
৫৭। সহকারী জজ বা যুগ্ন জেলা জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন হবে
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় এবং কোথায় ?
উত্তর- জেলা জজ আদালতে ১১৫(২) ধারায়।
৫৮। অতিরিক্ত জেলাজজ কিংবা জেলাজজের আদেশের বিরুদ্ধে কোথায়
রিভিশন দাখির করতে হবে এবং কত ধারায় ?
উত্তর- ১১৫(১) ধারার অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে।
৫৯। দেওয়ানী কার্যবিধিতে মোট কতটি ধারা আছে এবং কতটি আদেশ ও তফশীল আছে ও কয়টি অংশ ?
উত্তর- ১৫৮টি ধারা এবং ৫১টি আদেশ ও ৫টি তফশীল আছে। ২ টি মৌলিক অংশে বিভক্ত।

হুমকি দিলে কী করবেন?


হুমকি দিলে কী করবেন?

images (2).jpgকোনো শত্রুপক্ষ বা যে কেউ বিনা কারণে আপনাকে উৎপাত করছেন বা হুমকি দিচ্ছেন। জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা রাস্তায় বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন। তখন কী করবেন আপনি?
এ অবস্থা থেকে বাঁচার উপায় আছে আইনে। এ আইনটি হলো ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা। তবে আদালতে যাওয়ার আগে একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করে রাখতে পারেন নিকটস্থ থানায়। অনেক সময় অভিযোগটি গুরুতর হলে পুলিশ এ জিডি থেকেই নন-প্রসিকিউশন প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

১০৭ ধারায় মামলা রুজু করে প্রতিপক্ষকে কিংবা দায়ী ব্যক্তিকে শান্তি বজায় রাখার জন্য বন্ড বা মুচলেকা সম্পাদনের জন্য বাধ্য করা যায়। এ ধরনের মামলা করতে হয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে।
১০৭ ধারায় আশ্রয় নিলে আদালত প্রাথমিক শুনানিতে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুচলেকা সম্পাদনের জন্য আদেশ দেবেন। তখন দায়ী ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হয়ে মুচলেকা সম্পাদন করতে হবে। মুচলেকায় বলতে হবে ভবিষ্যতে তিনি আর কোনো ধরনের উৎপাত করবেন না এবং ভয়ভীতি দেখাবেন না।

আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীর অপরাধ ও শাস্তি


আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীর অপরাধ ও শাস্তি

হরতাল, অবরোধ ও আন্দোলনের নামে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা, বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত বিচার আইন (সংশোধিত) ২০১০ পাস করে। এ আইনে অভিযুক্ত হলে শাস্তি কী হতে পারে অথবা জামিনের কোনো সুযোগ আছে কি না, তা নিম্নে আলোচনা করা হলো।

 

cropped-koordinerede-kontrolaktioner-p-kant-med-loven-29retssikkerhed.jpgআইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ

১. কোনো প্রকার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে বা বেআইনি বল প্রয়োগ করে কোনো ব্যক্তি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে চাঁদা, সাহায্য বা অন্য কোনো নামে অর্থ বা মালামাল দাবি, আদায় বা অর্জন করা বা অন্য কোনো প্রকার সুযোগ-সুবিধা আদায় করা বা আদায়ের চেষ্টা করা।

২. কোনো প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বা বেআইনি বল প্রয়োগ করে স্থলপথ, রেলপথ, জলপথ বা আকাশপথে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা বা কোনো যান চলাচলের গতির বিরুদ্ধে ভিন্ন পথে পরিবর্তন করা।

৩. ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো যানবাহনের ক্ষতিসাধন করা।

৪. ইচ্ছাকৃতভাবে সরকার, বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, বা কোনো প্রতিষ্ঠান, বা কোনো ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর যে কোনো প্রকার সম্পত্তি বিনষ্ট বা ভাঙচুর করা।

৫. কোনো ব্যক্তির নিকট হতে কোনো অর্থ, অলংকার, মূল্যবান জিনিসপত্র বা অন্য কোনো বস্তু বা যানবাহন ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা বা ছিনতাই করা বা জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া।

৬. কোনো স্থান, বাড়িঘর, দোকানপাট, হাটবাজার, রাস্তাঘাট, যানবাহনে বা প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে বা আকস্মিকভাবে একক বা দলবদ্ধভাবে শক্তির মহড়া বা দাপট প্রদর্শন করে ভয়ভীতি বা ত্রাস সৃষ্টি করা বা বিশৃঙ্খলা বা অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা।

৭. কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের দরপত্র ক্রয়, বিক্রয়, গ্রহণ বা দাখিল জোরপূর্বক বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বা কাউকে দরপত্র গ্রহণ করতে বা না করতে বাধ্য করা।

৮. কোনো সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বা তাঁর কোনো নিকট আত্মীয়কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে কোনো কাজ করতে বা না করতে বাধ্য করা কিংবা তাঁর দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকারের বাধা সৃষ্টি করা।

আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের শাস্তি

১. এই আইনে কোনো ব্যক্তি কোনো আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ করলে তিনি অন্যূন দুই বছর এবং অনধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

২. এসব অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনকালে সরকার কিংবা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তির আর্থিক ক্ষতিসাধন করলে তার জন্য আদালত সে বিবেচনায় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত সরকার বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অনুকূলে প্রদান করার জন্য উক্ত দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আদেশ দিতে পারবে এবং এই ক্ষতিপূরণের অর্থ সরকারি দাবি হিসেবে আদায়যোগ্য হবে।

৩. কোনো ব্যক্তি কোনো আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করলে তিনি উল্লেখিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

এই আইনে মিথ্যা মামলা

যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ সংগঠনের কোনো ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ নেই জেনেও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়েরের কারণে প্রথম ব্যক্তি কমপক্ষে দুই বছর এবং অনধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

জামিন সংক্রান্ত বিধান

রাষ্ট্রকে শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ দিয়েও এবং সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে আদালত কিংবা আপিল আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের জন্য অভিযুক্ত কিংবা ক্ষেত্রমত দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকে জামিন দেওয়া ন্যায়সংগত হবে তা হলে সেই মর্মে কারণ লিপিবদ্ধ করে আদালত কিংবা ক্ষেত্রমতো আপিল আদালত ওই ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তির আদেশ দিতে পারবেন।